শেয়ার কারসাজি মামলা আদালতে উঠছে ২০ এপ্রিল

0
710

স্টাফ রিপোর্টার : কারসাজির মাধ্যমে শেয়ারে অস্বাভাবিক লেনদেনের অভিযোগে ব্রোকারেজ হাউজ সিকিউরিটিজ প্রমোশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের (এসপিএম) কর্তাব্যক্তিদের বিরুদ্ধে চলমান মামলার রায় হবে ২০ এপ্রিল।

রাজধানীর হাউজ বিল্ডিং ফিন্যান্স করপোরশেন ভবনে স্থাপিত পুঁজিবাজার-সম্পর্কিত বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক হুমায়ুন কবির গত মঙ্গলবার রায়ের দিন ধার্য করেন। এর আগে একই দিন বাদীপক্ষের যুক্তিতর্ক শোনেন আদালত।

১৯৯৮ সালে শেয়ার কেলেঙ্কারির অভিযোগে ২০০৪ সালে এ মামলা করে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। বিএসইসির আইনজীবী মাসুদ রানা খান বলেন, ১৯৯৮ সালে শেয়ার কেলেঙ্কারির অভিযোগে দায়ের করা মামলাটি গত ফেব্রুয়ারিতে বিশেষ ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়।

২৫ ফেব্রুয়ারি মামলার প্রথম শুনানি হলেও সেদিন থেকেই এর আসামিরা পলাতক। আসামিদের অনুপস্থিতে মামলার বিচারিক কাজ শেষে মঙ্গলবার যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ধার্য ছিল। এদিনও আসামিপক্ষ উপস্থিত না থাকায় রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে ২০ এপ্রিল মামলাটিকে রায়ের অপেক্ষায় রাখা হয়।

তিনি আরো বলেন, আদালতে উপস্থিত না থাকায় আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ফৌজদারি কার্যবিধি আইনের ৩৩৯(খ)-এর ২ ধারা অনুযায়ী এ মামলার বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন করেছেন বিচারক। আমরা শেয়ার কারসাজির সব তথ্য-উপাত্ত আদালতে উপস্থাপন করতে সক্ষম হয়েছি। আশা করছি, আসামিদের যথোপযুক্ত শাস্তি হবে।

বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৮ সালে এসপিএমের চেয়ারম্যান শেলী রহমান ও সৈয়দ মহিবুর রহমানের অস্বাভাবিক শেয়ার লেনদেন তদন্তে ওই বছরের ৩ নভেম্বরে দুই সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে কমিশন। তদন্ত কমিটির সদস্যরা ছিলেন খায়রুল আনাম খান ও ডিএসইর সাবেক প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) শুভ্র কান্তি চৌধুরী।

তবে খায়রুল আনাম খানের মৃত্যুর কারণে ফরহাদ খানকে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। কমিটির তদন্তে এসপিএমের বিরুদ্ধে কাশেম সিল্ক মিলস নামে একটি কোম্পানির শেয়ারে অস্বাভাবিক লেনদেনের অভিযোগ প্রমাণ হয়। এক্ষেত্রে এসপিএমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক লুত্ফর রহমান, চেয়ারম্যান শেলী রহমান ও মহিবুর রহমান যোগসাজশের মাধ্যমে এ অনিয়ম করেছন বলে তদন্তে উঠে আসে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৪ সালে তিনজনকে আসামি করে মামলা করে বিএসইসি। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন অধ্যাদেশ ১৯৬৯-এর ১৭ ধারা লঙ্ঘন ও ২৪ ধারা অমান্যের অভিযোগ আনা হয়। দীর্ঘ ১১ বছর মামলাটি মহানগর দায়রা জজ আদালতে ঝুলে থাকার পর গত ১৫ ফেব্রুয়ারি তা বিশেষ ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়। বিশেষ আদালতে বিচারকাজ শুরু হওয়ার পর আসামিদের অনুপস্থিতিতে বাদীপক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষে মামলাটিকে রায়ের জন্য অপেক্ষায় রাখা হয়।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৮ সালের ৩ নভেম্বর কাশেম সিল্ক মিলসের ১ কোটি ৪ লাখ ৩৮ হাজার ৫০০টি শেয়ার স্বাভাবিক দরের চেয়ে ১৬ দশমিক ১৪ শতাংশ বেশি দরে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন হয়।

এর মধ্যে এসপিএম ৩৮ লাখ ৫ হাজার ৮০০টি শেয়ার ক্রয় ও ৩৬ লাখ ৮৫ হাজার ১০০টি শেয়ার বিক্রয় করে, যা কাশেম সিল্কের ওইদিনের শেয়ার লেনদেনের যথাক্রমে ৩৬ দশমিক ৪৬ ও ৩৫ দশমিক ৩ শতাংশ। শেলী রহমানের হিসাব ব্যবহার করে অস্বাভাবিক এসব লেনদেন করেন লুত্ফর রহমান।

এছাড়া মহিবুর রহমান মাত্র ১ লাখ ৫৩ হাজার ৮৮০ টাকা বিনিয়োগ করে কোম্পানির সঙ্গে যোগসাজশে ৮ কোটি ৫৩ লাখ ৪০ হাজার ৬০১ টাকার শেয়ার লেনদেন করেন বলে তদন্তে উঠে আসে; যা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের ১৯৬৯ সালের অধ্যাদেশের ১৭ ধারার (ই) (২) উপধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

প্রসঙ্গত, পুঁজিবাজারের বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের পর এটি হবে এ আদালতের ষষ্ঠ রায়। ট্রাইব্যুনালের প্রথম রায় ছিল, ফেসবুকে গুজব ছড়ানোর দায়ে মাহবুব সারোয়ার নামে একজনের ১০ বছরের জেল ও ১০ লাখ টাকা জরিমানা।

এছাড়া দণ্ড হয়েছে বিডি ওয়েল্ডিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ডেইলি ইন্ডাস্ট্রিজ পত্রিকার সম্পাদকের। তাদের প্রত্যেককে ৩ বছরের জেল ও ২০ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। শেয়ার প্রতারণার দায়ে চার বছরের জেল ও ৩০ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে চিক টেক্সটাইল লিমিটেডের দুই পরিচালকের।

আর খালাস দেয়া হয়েছে প্লেসমেন্ট শেয়ার কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত সাত্তারুজ্জামান শামীম ও সাবিনকো লিমিটেডের শেয়ার কারসাজিতে প্রতিষ্ঠানটির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক কুতুব উদ্দিনকে। বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে প্রিমিয়াম সিকিউরিটিজ লিমিটেডের শেয়ার কারসাজির মামলা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here