৮৭ শতাংশ খেলাপি ঋণ অনাদায় যোগ্য

0
157

স্টাফ রিপোর্টার : খেলাপি ঋণে হাবুডুবু খাচ্ছে ব্যাংকিং খাত। ব্যাংকারদের অনিয়ম এবং দুর্নীতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ আমানত। সম্প্রতি প্রকাশিত বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব খেলাপির সিংহভাগই আদায় অযোগ্য বা মন্দ ঋণ।

বিশ্লেষকদের মতে, ঋণ বিতরণে স্বচ্ছতা এবং আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে কঠোর না হলে এ সমস্যা সমাধান অসম্ভব।

সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের ফিন্যান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি রিপোর্টে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সাল শেষে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৯৪ হাজার ৩৩১ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৯ দশমিক ১ শতাংশ সাব-স্ট্যান্ডার্ড, ৪ দশমিক ১ শতাংশ ডাউটফুল এবং ৮৬ দশমিক ৮ শতাংশ ব্যাড এন্ড লস বা মন্দ মানের ঋণ। ব্যাংকের ভাষায় এই ঋণগুলোকে আদায় অযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে ব্যাংকগুলো ঋণ বিতরণ করেছে ১০ লাখ ১১ হাজার ৮২৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৯৪ হাজার ৩৩১ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ, যা বিতরণ করা মোট ঋণের ৯ দশমিক ৩২ শতাংশ।

এর আগে, ২০১৮ সালের ডিসেম্বর শেষে দেশে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৯৩ হাজার ৯১১ কোটি টাকা। ২০১৯ সালের মার্চ শেষে তা বেড়ে দাঁড়ায় এক লাখ ১০ হাজার ৮৭৩ কোটি টাকায়।

একই বছরের জুন শেষে এক লাখ ১২ হাজার ৪২৫ কোটি টাকা ও সেপ্টেম্বর শেষে এক লাখ ১৬ হাজার ২৮৮ কোটি টাকা ছিল খেলাপি ঋণের পরিমাণ, অথচ ২০১৯ সালের ডিসেম্বর শেষে এই ঋণের পরিমাণ ৯৪ হাজার ৩৩১ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালের প্রথম ৯ মাসে (জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর) ২২ হাজার ৭৫৫ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ বাড়লেও শেষ তিন মাসেই (সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর) খেলাপি ঋণ কমেছে ২১ হাজার ৯৫৭ কোটি টাকা।

হঠাৎ করে খেলাপি ঋণ কমে যাওয়ার এ চিত্র কতটা গ্রহণযোগ্য, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকাররা বলছেন, দেশে প্রকৃত খেলাপি ঋণের পরিমাণ দুই লাখ কোটি টাকার বেশি। খেলাপি ঋণ কমাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক খেলাপিদের নানা ধরনের ‘অনৈতিক’ সুযোগ-সুবিধা দিয়েছে। এতে করে প্রকৃত চিত্র আড়াল হয়ে গেছে। বিশেষ করে গণ-ছাড়ের আওতায় শীর্ষ ঋণ খেলাপিরা পুনঃতফসিল করেছেন বলেই অঙ্কটি এত কম দেখাচ্ছে।

এর আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে খেলাপি আইন শিথিল, ঋণ অবলোপন নীতিমালায় ছাড়, স্বল্প সুদের ঋণের ব্যবস্থাসহ নানা ধরনের সুযোগ দেয়া হয়েছে। ফলে খেলাপি ঋণ কাগজে-কলমে কমে গেছে। কিন্তু প্রকৃত খেলাপি এর চেয়ে অনেক বেশি বলে মত খাত সংশ্লিষ্টদের।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here