‘৭০ শতাংশেই এখন জুয়া, বাকি ৩০ শতাংশ লেনদেন’

0
1150

সিনিয়র রিপোর্টার : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও পুঁজিবাজার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেছেন, পুঁজিবাজারে আস্থাহীনতার কারণে চাহিদার ৭০ শতাংশেই এখন জুয়াখেলা হচ্ছে। বাকি ৩০ শতাংশ সঠিক লেনদেন হচ্ছে। এজন্য মূলত দায়ী হচ্ছে তারাই, যারা প্রতারণা করে মার্কেট থেকে টাকা তুলে নিয়ে গেছে। এ ছাড়া ২০১০ সালের ধসের পর কোনো ভালো শেয়ার আসেনি। ভালো কোম্পানি আনার ক্ষেত্রে কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগও নেয়া হয়নি।

বিএসইসির বর্তমান পর্ষদ কিছু নিয়ম-কানুনের পরিবর্তন করেছে, যা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থের বিরুদ্ধে চলে গেছে। যেমন- গত তিন-চার বছর আগেও মিউচুয়াল ফান্ডের প্রতি মানুষের আগ্রহ ছিল। বিএসইসির নির্দেশে সেগুলো লিকুডিশনে চলে গেছে। বর্তমানে যেগুলো আছে তার ওপর বিনিয়োগকারীদের আস্থা নেই। এ ছাড়া বিএসইসি সম্প্রতি খারাপ কোম্পানিগুলোর মেয়াদ বাড়িয়েছে ইউনিট হোল্ডারদের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা ছাড়াই।

এরপর আইপিও কোটাতে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কোটা কমিয়ে দিয়েছে। এতকিছুর পর কতগুলো ব্রোকার একত্র হয়ে সরকারের কাছে টাকা চাচ্ছে। অবশ্য তারা একটি একশন প্ল্যান দিয়েছে মন্ত্রণালয়ে, ভালো ভালো কোম্পানির শেয়ার তারা কিনবে, যেটা কিনবে তা হবে জামানত। এতে তো সাধারণ বিনিয়োগকারীরা লাভবান হবে না। আমি মনে করি, এসব না করে ভালো কোম্পানির শেয়ার মার্কেটে আনার চেষ্টা করতে হবে।

আবার গত সেপ্টেম্বর কোয়ার্টারের আর্থিক প্রতিবেদনে প্রায় প্রতিটি কোম্পানি খারাপ দেখিয়েছে। এ প্রভাব আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও পড়েছে। পাশাপাশি গ্রামীণফোন ইস্যুতে বাজার আরো খারাপ করেছে। এখন এই বাজারকে তুলতে হলে ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) মাধ্যমে হোক অথবা অন্যকোনো মাধ্যমে হোক, অবশ্যই বাজারে বিনিয়োগ করতে হবে। আবার কয়েকটি আন্তর্জাতিক কোম্পানি ব্যবসা বন্ধ করে দিয়ে চলে যাওয়াটাও অনেক বড় প্রভাব পড়েছে।

বর্তমান বাজারে তারল্য সংকট ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। এই তারল্য সংকট কাটাতে হলে নতুন করে টাকা দিতে হবে। তবে অন্যভাবেও বাজার ঠিক হতে পারে, সেটা হলো পতনের সুযোগ দিতে হবে। নিচের দিকে নামতে নামতে একসময় গিয়ে আর নিচে নামবে না। সেখান থেকে আপনা আপনিই ঠিক হয়ে যাবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here