সিনিয়র রিপোর্টার : পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর লভ্যাংশ অনুমোদনের ৩০ দিনের মধ্যে প্রদানে কোম্পানিকে দিতে হবে। এমন বাধ্যবাধকতা দিয়ে নির্দেশনা জারি করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

তবে কোম্পানির ঘোষিত লভ্যাংশ কেউ লভ্যাংশ দাবি না করলে বা অপরিশোধিত থাকলে, তা তিন বছর পরে কমিশনের নির্দেশিত ফান্ডে কোম্পানিকে হস্তান্তর করতে হবে। এসইসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম স্বাক্ষরিত এই নির্দেশনা ১৪ জানুয়ারি জারি করা হয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ইস্যুয়ার কোম্পানি লভ্যাংশ বিতরণের জন্য পলিসি গঠন করবে, যা কোম্পানি বার্ষিক প্রতিবেদন ও ওয়েবসাইটে প্রকাশ করবে। কোম্পানিগুলোকে বার্ষিক বা চূড়ান্ত লভ্যাংশ অনুমোদনের ৩০ দিনের মধ্যে, অন্তর্বর্তীকালীন লভ্যাংশ রেকর্ড ডেটের পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে ও মিউচুয়াল ফান্ডের লভ্যাংশ ট্রাস্টির অনুমোদনের ৪৫ দিনের মধ্যে প্রদান করতে হবে।

পরিচালনা পর্ষদ বা ট্রাস্টির ঘোষণার ১০ দিনের মধ্যে নগদ লভ্যাংশ পৃথক ব্যাংক হিসাবে রাখতে হবে। এই নগদ লভ্যাংশ বিইএফটিএনের মাধ্যমে শেয়ারহোল্ডার বা ইউনিটহোল্ডারের ব্যাংক হিসাবে সরাসরি প্রদান করবে। তবে স্টক ব্রোকার, মার্চেন্ট ব্যাংকার বা পোর্টফোলিও ম্যানেজার মার্জিন ঋণগ্রহীতা গ্রাহক বা ডেবিট ব্যালেন্সের জন্য নগদ লভ্যাংশ চাইলে, কোম্পানি সমন্বিত গ্রাহক ব্যাংক হিসাবে বা মার্চেন্ট ব্যাংক বা পোর্টফোলিও ম্যানেজারের পৃথক ব্যাংক হিসাবে পাঠাবে।

যদি শেয়ারহোল্ডার বা ইউনিটহোল্ডারের ব্যাংক হিসাবের তথ্যের ঘাটতির কারণে বা বিইএফটিএনের মাধ্যমে নগদ লভ্যাংশ প্রদান করা সম্ভব না হয়, তাহলে ইস্যুয়ার কোম্পানি ‘ক্যাশ ডিভিডেন্ড ওয়ারেন্ট’ পাঠাবে।

প্রবাসী উদ্যোক্তা, পরিচালক, শেয়ারহোল্ডার, ইউনিটহোল্ডার ও বিদেশি পোর্টফোলিও ইনভেস্টরদের সিকিউরিটি কাস্টডিয়ানের মাধ্যমে ইস্যুয়ারকে নগদ লভ্যাংশ প্রদান করতে বলা হয়েছে নির্দেশনায়। নগদ লভ্যাংশ প্রদানের পরে কোম্পানি শেয়ারহোল্ডার বা ইউনিটহোল্ডারদের মোবাইলে এসএমএস বা ই-মেইলের মাধ্যমে জানাবে।

এর পরও যদি কোম্পানিগুলোতে অপরিশোধিত বা অদাবিকৃত নগদ লভ্যাংশ থাকে, তাহলে বিস্তারিত তথ্য রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে; যা বার্ষিক প্রতিবেদনে প্রকাশ এবং প্রান্তিক প্রতিবেদনে ‘অদাবিকৃত লভ্যাংশ হিসাব’ শিরোনামে প্রকাশ করতে হবে। আর লভ্যাংশ ঘোষণার বা রেকর্ড ডেটের এক বছরের মধ্যে লভ্যাংশের হিসাব রক্ষণাবেক্ষণের জন্য গঠিত পৃথক ব্যাংক হিসাবে ওই নগদ লভ্যাংশ স্থানান্তর করতে হবে।

একইভাবে বোনাস বা স্টক শেয়ার ঘোষণার বা অনুমোদনের বা রেকর্ড ডেটের ৩০ দিনের মধ্যে ইস্যুয়ার কোম্পানি শেয়ারহোল্ডারের বিও হিসাবে ক্রেডিট করবে বা বোনাস শেয়ার সার্টিফিকেট ইস্যু করবে। তবে অপরিশোধিত ও অদাবিকৃত বোনাস শেয়ারের জন্য সান্সপেন্স বিও হিসাব রক্ষণাবেক্ষণ করবে ইস্যুয়ার।

তবে বোনাস শেয়ার প্রদানের লক্ষ্যে ইস্যুয়ার শেয়ারহোল্ডারকে কমপক্ষে তিনবার স্মরণ করিয়ে দেবে। লভ্যাংশ বিতরণের সাত কার্যদিবসের মধ্যে ইস্যুয়ার কমিশন ও স্টক এক্সচেঞ্জে কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট জমা দেবে; যা কোম্পানির ওয়েবসাইটেও প্রকাশ করতে হবে।

ইস্যুয়ার অপরিশোধিত বা অদাবিকৃত নগদ লভ্যাংশ বাজেয়াপ্ত করতে পারবে না। এ ছাড়া এজাতীয় নগদ লভ্যাংশ ৩ বছর পরে কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্দেশিত ফান্ডে হস্তান্তর করতে হবে। এই হস্তান্তরের সময় ইস্যুয়ার বিস্তারিত তথ্য সরবরাহ করবে। তবে হস্তান্তরের পরে যদি কেউ লভ্যাংশ দাবি করে, তাহলে ইস্যুয়ার ১৫ দিনের মধ্যে তা যাচাই করে ফান্ড ম্যানেজারকে প্রদানের জন্য সুপারিশ করবে। এরপর ফান্ড ম্যানেজার তা দাবিকারীকে প্রদান করবে।

একইভাবে তিন বছরের বেশি সময় অপরিশোধিত বা অদাবিকৃত থাকা বোনাস শেয়ার কমিশনের নির্দেশিত ফান্ডের বিও হিসাবে বিস্তারিত তথ্যসহ হস্তান্তর করতে হবে। তবে হস্তান্তরের পরে যদি কেউ লভ্যাংশ দাবি করে, তাহলে ইস্যুয়ার ১৫ দিনের মধ্যে তা যাচাই করে ফান্ড ম্যানেজারকে প্রদানের জন্য সুপারিশ করবে। এরপর ফান্ড ম্যানেজার তা দাবিকারীকে প্রদান করবে।

এদিকে শেয়ারহোল্ডার বা ইউনিটহোল্ডারের মাঝে লভ্যাংশ বিতরণের জন্য ইস্যুয়ার বিও হিসাব, ব্যাংক হিসাব, মোবাইল নম্বর, ই-মেইল ও ঠিকানার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে রাখবে। এসব তথ্যের গোপনীয়তা রাখতে হবে।

এ ছাড়া সিডিবিএল ও ডিপি শেয়ারহোল্ডার বা ইউনিটহোল্ডারের বিও হিসাব, ব্যাংক হিসাব, মোবাইল নম্বর, ই-মেইল ও ঠিকানার তথ্য বছরে কমপক্ষে একবার আপডেট করবে।

একই সঙ্গে সঠিকভাবে লভ্যাংশ বিতরণের জন্য সিডিবিএল ওই আপডেট তথ্য ইস্যুয়ার কোম্পানিকে দেবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here