২৮টি ব্যাংকের কমেছে খেলাপি ঋণ, পুঁজিবাজারের ১৮টি

0
323

সিনিয়র রিপোর্টার : গত মার্চ থেকে জুন প্রান্তিকে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ ৪ হাজার কোটি টাকার বেশি বাড়লেও ২৮টি ব্যাংক খেলাপি ঋণ কমাতে পেরেছে। এর মধ্যে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আছে ১৮টি। আর ১০টি এখনও তালিকাভুক্ত হয়নি। এর মধ্যে তিনটি করে আছে সরকারি ও বিশেষায়িত আর চারটি বেসরকারি।

পুঁজিবাজারের ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ তালিকাভুক্ত হয়নি, এমন ব্যাংকের তুলনায় এক তৃতীয়াংশের মতো। এর মধ্যে ১৯টি ব্যাংকের এই সাফল্য তা আরও কমিয়ে আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এর ভিড়ে এনবিএলের ঋণ তিন মাসেই দুই হাজার কোটি টাকার বেশি বৃদ্ধি না পেলে পরিস্থিতি আরেকটু ভালো দেখাতে পারত।পুঁজিবাজারে যত খেলাপি ঋণ তার অর্ধেক আবার তিনটি ব্যাংকে। এগুলো হলো- এবি, রূপালী ও এনবিএল।

আর পুঁজিবাজারের ব্যাংকগুলোর মধ্যে শতকরা হারের দিকে সবচেয়ে বেশি খেলাপি আইসিবি ইসলামিকে। এরপর এবি আর তৃতীয় অবস্থানে রূপালী ব্যাংক। এর মধ্যে আইসিবি ও রূপালী অবস্থার উন্নতি করতে পেরেছে। কিন্তু অবনতি হয়েছে এবির।

আর খেলাপি ঋণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে অবনতি হয়েছে এনবিএলের। তাদের খেলাপি ঋণ এক লাফে ব্যাংকটির অনাদায়ী ঋণের পরিমাণ ৫ শতাংশ থকে বেড়ে ১০ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।

মোট ঋণ ও খেলাপি কত

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন বলছে, জুন পর্যন্ত ব্যাংকিং খাতে মোট বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ ১২ লাখ ১৩ হাজার ১৬৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ৯৯ হাজার ২০৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ বিতরণকৃত ঋণের ৮ দশমিক ১৮ শতাংশ খেলাপি হয়ে গেছে।

এর মধ্যে পুঁজিবাজারের বাইরে থাকা ব্যাংকগুলো বিতরণ করেছে মোট ৩ লাখ ৩৭ হাজার ৯৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি মোট ৫২ হাজার ৪৭৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ এসব ব্যাংকে খেলাপির হার ১৫.৫৬ শতাংশ।

অন্যদিকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ৩২ ব্যাংক বিতরণ করেছে ৮ লাখ ৭৬ হাজার ৬৮ কোটি টাকার ঋণ। এর মধ্যে খেলাপির পরিমাণ ৪৬ হাজার ৭৩১ কোটি টাকা। শতকরা হার ৫.৩৩ শতাংশ।

অর্থাৎ পুঁজিবাজারের ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণ তালিকাভুক্ত নয়, এমন ব্যাংকের তুলনায় এক তৃতীয়াংশ।

খেলাপি ঋণ কমাতে পারল ২৮ ব্যাংক, পুঁজিবাজারের ১৮টি

খেলাপি ঋণ কমাতে পেরেছে পুঁজিবাজারের যেসব ব্যাংক

আইসিবি ইসলামী

শতকরা হারের দিকে এই ব্যাংকটি খেলাপি ঋণ কমানোর দিক দিয়ে সবচেয়ে ভালো করেছে। জুন শেষে ব্যাংকটির মোট বিতরণ ৮৫৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ৬৬৪ কোটি। শতকরা হারে খেলাপি ৭২.৬৬ শতাংশ।

মার্চ শেষে ঋণ ছিল একই পরিমাণ, খেলাপি ছিল ৬৬৯ কোটি টাকা। সে সময় ঋণের ৭৮.১৮ শতাংশই ছিল খেলাপি।

তিন মাসে খেলাপি ঋণ কমেছে ৫.৫২ শতাংশ।

শাহজালাল

জুন পর্যন্ত ব্যাংকটির মোট ঋণ ১৯ হাজার ৭৯৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ৭৫৩ কোটি টাকা, যা ঋণের ৩ দশমিক ৮১ শতাংশ।

মার্চে ১৯ হাজার ২৪৩ কোটি টাকা ঋণের বিপরীতে খেলাপি ছিল ৮৯৫ কোটি টাকা, যা ঋণের ৪ দশমিক ৬৬ শতাংশ।

তিন মাসে খেলাপি ঋণ কমেছে ০.৮৫ শতাংশ।

ব্র্যাক

জুন পর্যন্ত ব্যাংকটি মোট বিতরণ করেছে ২৮ হাজার ১৩০ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ১ হাজার ৩০ কোটি টাকা, যা ঋণের ৩ দশমিক ৬৬ শতাংশ।

মার্চ শেষে ব্যাংকটি ২৭ হাজার ৩০১ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করেছিল। এর মধ্যে খেলাপি ১ হাজার ২১৫ কোটি টাকা, যা ঋণের ৪ দশমিক ৪৫ শতাংশ।

তিন মাসে খেলাপি ঋণ কমেছে ০.৭৯ শতাংশ।

ট্রাস্ট

জুন শেষে ব্যাংকটির মোট ঋণ ২৩ হাজার ১৪৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ১ হাজার ১২৫ কোটি টাকা, যা ঋণের ৪ দশমিক ৮৬ শতাংশ।

মার্চে ঋণ ছিল মোট ২১ হাজার ৭১৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ১ হাজার ১৮১ কোটি টাকা, যা ঋণের ৫ দশমিক ৪৪ শতাংশ।

তিন মাসে শতকরা হিসেবে খেলাপি কমেছে ০.৫৮ শতাংশ।

প্রিমিয়ার

জুন শেষে মোট বিতরণ ২২ হাজার ৮৯৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ৫৫২ কোটি টাকা, যা ঋণের ২ দশমিক ৪১ শতাংশ।

মার্চ শেষে ঋণ বিতরণ ছিল ২১ হাজার ৫৯৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ৬০৮ কোটি টাকা, যা ঋণের ২ দশমিক ৮২ শতাংশ।

তিন মাসে খেলাপি ঋণ কমেছে ০.৪১ শতাংশ।

পূবালী

মোট ঋণ ৩২ হাজার ২৬২ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ১ হাজার ৩৩৩ কোটি টাকা, যা ঋণের ৪ দশমিক ১৩ শতাংশ।

মার্চ শেষে ৩১ হাজার ৮২ কোটি টাকা ঋণের বিপরীতে খেলাপি ছিল ১ হাজার ৪০৭ কোটি টাকা, যা ছিল ঋণের ৪ দশমিক ৫৩ শতাংশ।

তিন মাসে খেলাপি ঋণ কমেছে ০.৪০ শতাংশ।

খেলাপি ঋণ কমাতে পারল ২৮ ব্যাংক, পুঁজিবাজারের ১৮টি

মার্কেন্টাইল

জুন পর্যন্ত এই ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ ২৫ হাজার ৯৩৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি হয়ে গেছে এক হাজার ১৮১ কোটি টাকা, যা বিতরণ করা ঋণের ৪.৫৬ শতাংশ।

মার্চ পর্যন্ত ব্যাংকটির ঋণ বিতরণ ছিল ২৪ হাজার ৪০ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ছিল এক হাজার ১৭৮ কোটি টাকা যা বিতরণ করা ঋণের ৪.৯০ শতাংশ।

তিন মাসে খেলাপি ঋণ কমেছে ০.৩৪ শতাংশ।

সাউথ বাংলা

পুঁজিবাজার তালিকাভুক্ত নতুন ব্যাংকটি জুন শেষে মোট ৫ হাজার ৮৫৪ কোটি টাকার ঋণ দিয়েছে। এর মধ্যে খেলাপি ৩৩৯ কোটি টাকা, যা ঋণের ৫ দশমিক ৮১ শতাংশ।

মার্চ শেষে ঋণ ছিল ৫ হাজার ৭১৭ কোটি। এর মধ্যে খেলাপি ছিল ৩৪৯ কোটি টাকা, যা ঋণের ৬ দশমিক ১১ শতাংশ।

তিন মাসে খেলাপি ঋণ কমেছে ০.৩০ শতাংশ।

ইসলামী

জুন শেষে ব্যাংকটির মোট ঋণ ১ লাখ ৫ হাজার ৩৩৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ৩ হাজার ৫৮৩ কোটি টাকা, যা ঋণের ৩ দশমিক ৪০ শতাংশ।

মার্চ শেষে ঋণ ছিল ৯৭ হাজার ৬৭৭ কোটি টাকা। খেলাপি ছিল ৩ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা, যা ঋণের ৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ।

তিন মাসে খেলাপি ঋণ কমেছে ০.২৭ শতাংশ।

আল আরাফাহ

ব্যাংকটি জুন পর্যন্ত ৩৩ হাজার ২৭৯ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করেছে। এর মধ্যে খেলাপি ১ হাজার ৩২২ কোটি টাকা, যা ঋণের ৩ দশমিক ৯৭ শতাংশ।

মার্চ শেষে ঋণ ছিল ৩১ হাজার ৫০৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ছিল ১ হাজার ৩২৩ কোটি টাকা, যা ঋণের ৪ দশমিক ২০ শতাংশ।

তিন মাসে খেলাপি ঋণ কমেছে ০.২৩ শতাংশ।

রূপালী

পুঁজিবাজার তালিকাভুক্ত একমাত্র রাষ্ট্রীয় ব্যাংকটির জুন পর্যন্ত মোট ঋণ বিতরণ করেছে ৩৩ হাজার ৯৯ কোটি টাকা।

এর মধ্যে খেলাপির ৩ হাজার ৮৭২ কোটি টাকা, যা ঋণের ১১ দশমিক ৭০ শতাংশ।

মার্চ শেষে ৩২ হাজার ৪০৩ কোটি টাকা ঋণের বিপরীতে খেলাপি ছিল ৩ হাজার ৮৮৬ কোটি টাকা, যা ঋণের ১১ দশমিক ৯৯ শতাংশ।

ডিসেম্বরে খেলাপি ছিল ৩ হাজার ৯৭২ কোটি টাকা। তখন ঋণের ১২ দশমিক ৭০ শতাংশ ছিল খেলাপি।

অর্থাৎ ছয় মাসে খেলাপি কমেছে ১ শতাংশ। আর সবশেষ তিন মাসে কমেছে ০.২৯ শতাংশ।

খেলাপি ঋণ কমাতে পারল ২৮ ব্যাংক, পুঁজিবাজারের ১৮টি

এক্সিম

জুন পর্যন্ত মোট ঋণ ৪১ হাজার ১৩৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ১ হাজার ৬২৪ কোটি টাকা, যা ৩ দশমিক ৯৫ শতাংশ।

মার্চে ৪০ হাজার ৩১২ কোটি টাকা ঋণের বিপরীতে খেলাপি ছিল ১ হাজার ৬৭৪ কোটি টাকা, যা ঋণের ৪ দশমিক ১৫ শতাংশ।

তিন মাসে খেলাপি কমেছে ০.২০ শতাংশ।

এনআরবিসি

জুন শেষে মোট ঋণ ৮ হাজার ৬৪৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ২২৬ কোটি টাকা, যা ঋণের ২ দশমিক ৬২ শতাংশ।

মার্চে খেলাপি ছিল ২২২ কোটি টাকা, যা ঋণের ২ দশমিক ৭৬ শতাংশ।

তিন মাসে খেলাপি ঋণ কমেছে ০.১৪ শতাংশ।

ডাচ্-বাংলা

জুন শেষে মোট বিতরণ ২৯ হাজার ৫৬৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ৬৫৭ কোটি টাকা, যা ঋণের ২ দশমিক ২২ শতাংশ।

মার্চ শেষে খেলাপি ছিল ৬৫৩ কোটি টাকা, যা ঋণের ২ দশমিক ৩৬ শতাংশ।

তিন মাসে খেলাপি ঋণ কমেছে ০.১৪ শতাংশ।

এসআইবিএল

ব্যাংকটির জুন পর্যন্ত ঋণ ৩০ হাজার ১৯৯ কোটি টাকা। খেলাপির পরিমাণ ১ হাজার ৬২১ কোটি টাকা, যা ঋণের ৫ দশমিক ৩৭ শতাংশ।

মার্চ পর্যন্ত ৩০ হাজার ১২৫ কোটি টাকা ঋণের বিপরীতে খেলাপি ছিল ১ হাজার ৬৩২ কোটি, যা ঋণের ৫ দশমিক ৪২ শতাংশ।

তিন মাসে খেলাপি ঋণ কমেছে ০.০৫ শতাংশ।

এনসিসি

জুন পর্যন্ত মোট ঋণ ১৮ হাজার ২৮১ কোটি টাকা। খেলাপির পরিমাণ ৯৮১ কোটি টাকা, যা ঋণের ৫ দশমিক ৩৭ শতাংশ।

মার্চ শেষে ঋণ ছিল ১৭ হাজার ৯৬৯ কোটি টাকা। খেলাপি ছিল ৯৭৩ কোটি টাকা, যা ঋণের ৫ দশমিক ৪২ শতাংশ।

তিন মাসে খেলাপি ঋণ কমেছে ০.০৫ শতাংশ।

আইএফআইসি

জুন শেষে মোট ঋণ ২৮ হাজার ৬৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ১ হাজার ১২৩ কোটি টাকা, যা ঋণের ৪ দশমিক ১০ শতাংশ।

মার্চ শেষে খেলাপি ছিল ১ হাজার ৮৯ কোটি টাকা, যা ছিল ঋণের ৪ দশমিক ০৫ শতাংশ।

তিন মাসে খেলাপি ঋণ কমেছে ০.০৫ শতাংশ।

প্রাইম

জুন শেষে মোট ঋণ ২৩ হাজার ৭৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ১ হাজার ১১২ কোটি টাকা, যা ঋণের ৪ দশমিক ৮২ শতাংশ।

মার্চ শেষে ঋণ ছিল ২২ হাজার ৯৯৩ কোটি টাকা। খেলাপি ছিল ১ হাজার ১১২ কোটি টাকা, যা ঋণের ৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ।

তিন মাসে খেলাপি ঋণ কমেছে ০.০২ শতাংশ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here