১৬ বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্যাপাসিটি চার্জ ৩ হাজার ১৩০ কোটি টাকা !

0
805

ইসমাইল আলী বেসরকারি খাতে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতায় বর্তমানে শীর্ষে রয়েছে সামিট গ্রুপ। পরের অবস্থানটি ইউনাইটেড গ্রুপের। আর এ দুই গ্রুপের সমান যৌথ বিনিয়োগ রয়েছে খুলনা পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডে (কেপিসিএল)। সব মিলিয়ে দুই গ্রুপের বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে মোট ১৬টি।

২০২০-২১ অর্থবছর এ কেন্দ্রগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা ছিল দুই হাজার ৬১১ মেগাওয়াট। এসব কেন্দ্রের জন্য বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডকে (পিডিবি) গত অর্থবছর ক্যাপাসিটি চার্জ গুনতে হয়েছে প্রায় তিন হাজার ১৩০ কোটি টাকা।

পিডিবির ২০২০-২১ অর্থবছরের বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় বিশ্লেষণ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। এতে দেখা যায়, গত অর্থবছর বেসরকারি খাতে স্থাপিত বিদ্যুৎকেন্দ্রের সংখ্যা ছিল মোট ৮৭টি। এগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা ছিল আট হাজার ৪৯০ মেগাওয়াট। আর বেসরকারি এসব বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য পিডিবিকে ক্যাপাসিটি চার্জ গুনতে হয় ১৩ হাজার ১৫৫ কোটি ২১ লাখ টাকা। এর মধ্যে শীর্ষ দুটি স্থান ছিল সামিট ও ইউনাইটেড গ্রুপের।

তথ্যমতে, সামিট গ্রুপের আটটি বিদ্যুৎকেন্দ্র গত অর্থবছর উৎপাদনে ছিল। এগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা এক হাজার ৪৫১ মেগাওয়াট। এসব কেন্দ্র থেকে গত অর্থবছর বিদ্যুৎ কেনা হয় ৭১৭ দশমিক ৬৭ কোটি কিলোওয়াট ঘণ্টা। এজন্য ব্যয় করা হয় প্রায় চার হাজার ৫৪৩ কোটি ৯ লাখ টাকা। এর মধ্যে ক্যাপাসিটি চার্জ ছিল এক হাজার ৫৮৯ কোটি ৮৬ টাকা।

বিশ্লেষণে দেখা যায়, বর্তমানে সামিট গ্রুপের সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রটি হলো সামিট বিবিয়ানা-২। ২০২০-২১ অর্থবছর গ্যাসচালিত ৩৪১ মেগাওয়াট কেন্দ্রটির ক্যাপাসিটি চার্জ ছিল ৩৫২ কোটি চার লাখ টাকা। গ্রুপটির দ্বিতীয় বৃহৎ বিদ্যুৎকেন্দ্র হয় সামিট মেঘনাঘাট। দ্বৈত জ্বালানিভিত্তিক (ডিজেল ও গ্যাস) এ কেন্দ্রটির উৎপাদন সক্ষমতা ৩০৫ মেগাওয়াট। যদিও গ্যাস দিয়েই বর্তমানে কেন্দ্রটিতে উৎপাদন করা হচ্ছে।

এ কেন্দ্রটির ক্যাপাসিটি চার্জ ছিল ৪৬৮ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। দ্বৈত জ্বালানিভিত্তিক হওয়ায় এ কেন্দ্রের ক্যাপাসিটি চার্জ বিবিয়ানা-২-এর চেয়ে বেশি। আর গ্যাসচালিত সামিট পূর্বাঞ্চল পাওয়ারের উৎপাদন সক্ষমতা ৩৩ মেগাওয়াট। কেন্দ্রটির ক্যাপাসিটি চার্জ ছিল গত অর্থবছর ৪০ কোটি ৯২ লাখ টাকা।

সামিটের বাকি পাঁচটি বিদ্যুৎকেন্দ্র ডিজেলচালিত। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় কেন্দ্রটি হলো সামিট গাজীপুর-২। ৩০০ মেগাওয়াট সক্ষমতার কেন্দ্রটির জন্য গত অর্থবছর ৩২০ কোটি ৮০ লাখ টাকা ক্যাপাসিটি চার্জ গুনতে হয় পিডিবিকে। গাজীপুরের কড্ডায় সামিটের আরেকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে। ১৪৯ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্রটির নাম এইস অ্যালায়েন্স পাওয়ার। গত অর্থবছর কেন্দ্রটির ক্যাপাসিটি চার্জ ছিল ১২৫ কোটি আট লাখ টাকা।

সামিট নারায়ণগঞ্জ বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ১০২ মেগাওয়াট। ২০২০-২১ অর্থবছর কেন্দ্রটির ক্যাপাসিটি চার্জ ছিল ৭৩ কোটি ১৩ লাখ টাকা। সামিটের অপর দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্র হলো সামিট বরিশাল ও সামিট নারায়ণগঞ্জ-২। কেন্দ্র দুটির উৎপাদন সক্ষমতা যথাক্রমে ১৪৯ ও ৫৫ মেগাওয়াট। আর গত অর্থবছর এ দুই কেন্দ্রের ক্যাপাসিটি চার্জ ছিল যথাক্রমে ১৩৭ কোটি ৯৩ লাখ টাকা ও ৭১ কোটি ৩৫ লাখ টাকা।

এদিকে ইউনাইটেড গ্রুপের ছয় কেন্দ্র গত অর্থবছর উৎপাদনে ছিল। এগুলোর বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা এক হাজার পাঁচ মেগাওয়াট। এসব কেন্দ্র থেকে গত অর্থবছর বিদ্যুৎ কেনা হয় ৩১২ দশমিক ২২ কোটি কিলোওয়াট ঘণ্টা। এজন্য ব্যয় করা হয় প্রায় তিন হাজার ৬৮৩ কোটি ২৮ লাখ টাকা। এর মধ্যে ক্যাপাসিটি চার্জ ছিল এক হাজার ৩৩৫ কোটি ৪৫ টাকা।

তথ্যমতে, ইউনাইটেড গ্রুপের সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রটি চট্টগ্রামের আনোয়ারায়। ৩০০ মেগাওয়াট সক্ষমতার কেন্দ্রটির জন্য গত অর্থবছর ক্যাপাসিটি চার্জ পরিশোধ করা হয় ৪৩৩ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। আর ময়মনসিংহে অবস্থিত ২০০ মেগাওয়াটের কেন্দ্রটির ক্যাপাসিটি চার্জ ছিল ১৬৭ কোটি পাঁচ লাখ টাকা।

এছাড়া জামালপুরে রয়েছে ১১৫ মেগাওয়াটের ও পায়রায় ১৫০ মেগাওয়াটের আরও দুটি কেন্দ্র রয়েছে ইউনাইটেড গ্রুপের। এ কেন্দ্র দুটির ক্যাপাসিটি চার্জ ছিল যথাক্রমে ১৮৭ কোটি ৮৩ লাখ টাকা ও ৮২ কোটি তিন লাখ টাকা। এ চারটি কেন্দ্রই ফার্নেস অয়েলচালিত।

এদিকে গ্যাসচালিত ইউনাইটেড পাওয়ার অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কেন্দ্রটির উৎপাদন সক্ষমতা ৪৫ মেগাওয়াট। এ কেন্দ্রের জন্য গত অর্থবছর পিডিবিকে ক্যাপাসিটি চার্জ পরিশোধ করতে হয় ৬৭ কোটি ১৯ লাখ টাকা। একইভাবে গ্যাসচালিত ইউনাইটেড আশুগঞ্জের উৎপাদন সক্ষমতা ১৯৫ মেগাওয়াট। এ কেন্দ্রের ক্যাপাসিটি চার্জ ২৯৭ কোটি ৭৮ লাখ টাকা।

এর বাইরে দুই গ্রুপের যৌথ উদ্যোগে গড়ে ওঠা কেপিসিএলের দুই বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে গত অর্থবছর বিদ্যুৎ কেনা হয় ৫২ দশমিক ৫৯ কোটি কিলোওয়াট ঘণ্টা। এজন্য ব্যয় করা হয় ৬৩৬ কোটি ২০ লাখ টাকা। এর মধ্যে ক্যাপাসিটি চার্জ ছিল ২০৪ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। যদিও গত অর্থবছর কেপিসিএলের দুই বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে পিডিবির বিদ্যুৎ কেনার চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। তবে চুক্তি নবায়নের জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছে কেপিসিএল কর্তৃপক্ষ।

কেপিসিএলের কেন্দ্র দুটির উৎপাদন সক্ষমতা ১৫৫ মেগাওয়াট। এর মধ্যে ১১৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার কেপিসিএল ইউনিট-২-এর ক্যাপাসিটি চার্জ ছিল ১৫১ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। আর ৪০ মেগাওয়াটের খানজাহান আলী পাওয়ারের (কেপিসিএল-৩) ক্যাপাসিটি চার্জ ছিল ৫২ কোটি ৩৮ লাখ টাকা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here