সংকট সমাধানে জরুরি বৈঠক প্রধানমন্ত্রীর

0
875

সিনিয়র রিপোর্টার : শেয়ারবাজার সংকট সমাধানে নীতিনির্ধারকদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ বৈঠকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ছাড়াও বিএসইসির চেয়ারম্যান ড. এম খায়রুল হোসেনসহ সংশ্নিষ্ট নীতিনির্ধারকরা উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র জানায়, বৈঠকে সংকট সমাধানে শেয়ারবাজারের দরপতন ঠেকাতে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন চার ব্যাংক সোনালী, অগ্রণী, জনতা ও রূপালীকে শেয়ার কিনতে তাৎক্ষণিক নির্দেশনা দেওয়া হয়। এর বাইরে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। পরে বিকেলেই রাষ্ট্রীয় চার বাণিজ্যিক ব্যাংকের এমডিরা বৈঠক করে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। ঘোষণা দেওয়ার আগে গতকালই অগ্রণী ব্যাংক অন্তত আট কোটি টাকার শেয়ার কিনেছে বলে জানা গেছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে বিকেলে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানায়, শেয়ারবাজারের উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একটি নীতিনির্ধারণী সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় শেয়ারবাজারের উন্নয়ন এবং বাজারকে গতিশীল করার জন্য স্বল্প ও মধ্যমেয়াদি কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয়। আলোচনার পর স্বল্পমেয়াদি কর্মসূচিগুলো অবিলম্বে বাস্তবায়নে সংশ্নিষ্ট সংস্থাগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

স্বল্পমেয়াদি যেসব কর্মসূচি অবিলম্বে বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, তার উল্লেখযোগ্য হলো- শেয়ারবাজারে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। মার্চেন্ট ব্যাংকসহ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সহজ শর্তে ঋণ দিতে হবে।

আইসিবির বিনিয়োগ সক্ষমতা বাড়াতে হবে। এর বাইরে শেয়ারবাজারের মাধ্যমে ক্রয় চাহিদা বাড়াতে বিদেশিদের বিনিয়োগে আকৃষ্ট করতে এবং দেশীয় বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়ারও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা ছাড়াও ভালো শেয়ারের জোগান বাড়াতে বহুজাতিক এবং রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন লাভজনক কোম্পানিগুলোকে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বিএসইসির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, এসব নির্দেশনা সরকারের সংশ্নিষ্ট সংস্থাগুলো বাস্তবায়ন করবে। শেয়ারবাজারের দীর্ঘমেয়াদি সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সেগুলো সমাধানে পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পরই শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন চার বাণিজ্যিক ব্যাংক। গতকাল বিকেলে সোনালী, জনতা, অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান, এমডি ও সিএফও বৈঠক করে বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করেন। রাজধানীর মতিঝিলের সোনালী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, রাষ্ট্রীয় চার বাণিজ্যিক ব্যাংকের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে প্রতি তিন মাস অন্তর আলোচনা হয়। এর ধারাবাহিকতায় আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে নিয়মিত আলোচনার পাশাপাশি শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জানতে চাইলে অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ শামস-উল ইসলাম সমকালকে বলেন, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন চার বাণিজ্যিক ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংক নির্ধারিত আইনি সীমার মধ্যে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ ছাড়া বিশেষ নীতিমালায় পুনঃতফসিলসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

আইন অনুযায়ী কোনো বাণিজ্যিক ব্যাংক তার মূলধনের বিপরীতে এককভাবে (সলো বেসিস) ২৫ শতাংশ এবং সহযোগী কোম্পানির (কনসুলেটেড বেসিস) বিনিয়োগসহ মূলধনের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশের সমপরিমাণ অর্থ শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করতে পারে। বর্তমানে এ চার ব্যাংকের বিনিয়োগ আইনি সীমার মধ্যে আছে। বাজার মূল্যে ব্যাংকগুলোর নতুন করে প্রায় এক হাজার ২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করার সুযোগ রয়েছে বলে জানা গেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here