শেয়ারবাজারে দুই হাজার কোটি টাকা আসছে

0
4494

ডেস্ক রিপোর্ট : শেয়ারবাজার উন্নয়নে আরো ২৫০ মিলিয়ন বা ২৫ কোটি মার্কিন ডলার অর্থাৎ প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা ঋণ সহায়তা দেবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো শেয়ারবাজার উন্নয়নে এডিবি ঋণ সহায়তা প্রদান করছে। চলতি বছরে এডিবির যে কোনো বোর্ডসভায় এ ঋণ অনুমোদন করা হবে। এডিবির সাউথ এশিয়া বিভাগ, পাবলিক ম্যানেজমেন্ট এন্ড ট্রেড ডিভিশন, ফিন্যান্সিয়াল সেক্টরের সিনিয়র ফিন্যান্সিয়াল সেক্টর বিশেষজ্ঞ সৈয়দ আলী মুনতাজ এইচ শাহ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে, ইতোমধ্যে এডিবির দ্বিতীয় মেয়াদের (সিএমপিডিপি-২) ৩০ কোটি ডলার বা আড়াই হাজার কোটি টাকা প্রদান করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় পুঁজিবাজার উন্নয়ন কর্মসূচি (সিএমপিডিপি-৩) বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশের অর্থ ও পুঁজিবাজার উন্নয়নে তৃতীয় মেয়াদে এডিবি ২৫ কোটি মার্কিন ডলার সহায়তা করবে। এ-সংক্রান্ত বিষয়ে দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা হলেন এডিবির দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের সৈয়দ আলী মুমতাজ এইচ শাহ।

সূত্র মতে, প্রস্তাবিত এডিবির তৃতীয় পুঁজিবাজার উন্নয়ন কর্মসূচি যার প্রকল্প নং : ৪৫২৫৩-০০২। প্রস্তাবিত পুঁজিবাজার উন্নয়ন কর্মসূচি ৩-এর সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য হলো একটি শক্তিশালী আইনি ও নিয়ন্ত্রিত পরিকাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পুঁজিবাজারের সামর্থ্য উন্নয়ন ও এর আয়তন বাড়ানো।

চলমান ৩০০ মিলিয়ন বা ৩০ কোটি মার্কিন ডলার সমমূল্যের সিএমডিপি-২ কর্মসূচির দ্বিতীয় ও সর্বশেষ কিস্তি ছাড়করণের পরেই বোর্ড কর্তৃক সিএমডিপি-৩ অনুমোদনের সময়সূচি নির্ধারিত রয়েছে। ইতোমধ্যেই এ অর্থ ছাড় করা হয়েছে। তাই তৃতীয় মেয়াদের দুই হাজার কোটি টাকা এডিবির বোর্ড সভায় অনুমোদনের পরপরই ছাড় করা হবে। জানা যায়, এডিবির পূর্বতন আর্থিক খাতের কর্মসূচিগুলো এবং অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে সমন্বয়ের ভিত্তিতে বাংলাদেশে ষষ্ঠ পঞ্চ-বার্ষিক পরিকল্পনা হিসেবে আর্থিক খাত কর্মকৌশল প্রণীত হয়েছে। এই কর্মকৌশল জাতীয় অংশীদারত্ব কর্মকৌশল ও নিউ কান্ট্রি অপারেশনস বিজনেস প্লানের অন্তর্ভুক্ত। ষষ্ঠ পঞ্চ-বার্ষিক পরিকল্পনা এবং এডিবির অগ্রাধিকার কর্মকৌশল ২০২০-এর সঙ্গে সঙ্গতি রেখে বাংলাদেশের সরকারি খাতের পরিচালনা বিষয়ে এডিবির মূল লক্ষ্য হলো পুঁজিবাজার ও বন্ড বাজার উন্নয়নের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি পরিকাঠামো বিনির্মাণে সহায়তা দেয়া।
এডিবির মূল পরিচালনা অগ্রাধিকার হিসেবে কর্মকৌশল ২০২০-এ পুঁজিবাজারের জন্য সহায়তার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এর মাধ্যমে ব্যক্তি মালিকানাধীন খাতের উন্নয়ন ও পরিকাঠামোগত উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে যা টেকসই আর্থিক পরিকাঠামো বিনির্মাণের জন্য দেশীয় মুদ্রা তহবিলের দীর্ঘমেয়াদি সহজ লভ্যতার ওপর নির্ভর করে।

প্রস্তাবিত এই কর্মসূচি সরকারের ষষ্ঠ পঞ্চ-বার্ষিক পরিকল্পনা, এডিবির কর্মকৌশল ২০২০ এবং বাংলাদেশের সঙ্গে এডিবির দেশীয় অংশীদারত্ব কর্মকৌশলের সঙ্গে পুরোপুরিভাবে সঙ্গতিপূর্ণ। এই ক্ষেত্রে একটি নীতিমালাভিত্তিক ঋণের প্রস্তাব করা হয়েছে। এদিকে, যেসব চুক্তির ভিত্তিতে এডিবির ঋণ সহায়তা প্রদান করছে সেগুলোর শ্রেণিবিভাগ হলো নিরীক্ষিত হিসাবসমূহ, সুরক্ষা ব্যবস্থাসমূহ, সামাজিক খাত, আর্থিক, অর্থনৈতিক ও অন্যান্য। চুক্তির শর্তপালনের মাত্রা তিন শ্রেণিতে মূল্যায়ন করা হবে। প্রথমত, সন্তোষজনক এই শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত সব চুক্তির সব শর্তপালন করেছে; যেখানে সর্বোচ্চ একটি ব্যতিক্রম গ্রহণযোগ্য হবে। দ্বিতীয়ত; আংশিক সন্তোষজনক-সর্বোচ্চ দুটি শর্ত পালনে ব্যর্থ হয়েছে এমন সব চুক্তি এই শ্রেণিতে পড়বে। তৃতীয়ত; সন্তোষজনক নয় যেসব চুক্তি তিন বা তারো অধিক শর্ত পালনে ব্যর্থ হবে সেগুলো এই শ্রেণিতে পড়বে।

উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালে ব্যাপক ধসে এক প্রকার গতিহীন হয়ে পড়ে পুঁজিবাজার। এ সেক্টরের গতি ফিরিয়ে আনতে ১৯৯৭ সালের নভেম্বর মাসে ৮ কোটি ডলার ঋণ সহায়তা দেয় এডিবি। পরবর্তীতে ২০১২ সালের ২৮ নভেম্বর ফিলিপাইনের ম্যানিলায় এডিবির প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বোর্ডসভায় বাংলাদেশের পুঁজিবাজার অবকাঠানো উন্নয়নে দ্বিতীয়বারের ঋণ সহায়তা প্রদানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এতে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বা ৩০ কোটি ডলার ঋণ হিসেবে দুই কিস্তিতে দেয়া হয়। এখন পুঁজিবাজার উন্নয়নে তৃতীয় মেয়াদে এডিবির থার্ড ক্যাপিটাল মার্কেট ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (সিএমডিপি-৩) শীর্ষক কর্মসূচির আওতায় আরো ২৫ কোটি ডলার ঋণ সহায়তা দেয়া হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here