শক্তিশালী পুঁজিবাজার গঠনে উদ্যোগী নতুন কমিশন

0
1640

সিনিয়র রিপোর্টার : ক্রমেই দুর্বল থেকে দুর্বলতর হওয়া পুঁজিবাজারকে শক্তিশালী করতে উদ্যোগী হয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। ঘাপটি মেরে থাকা কারসাজি চক্রকে ধ্বংস করতে ইতোমধ্যে কড়া শাস্তি আরোপ শুরু করেছে নতুন কমিশন।

আগামীতে যারা পুঁজিবাজারে অনিয়ম করবে তাদেরও শাস্তি নিশ্চিত করা হবে বলে কড়া হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছে। এতে কিছুটা আস্থা ফিরতে শুরু করেছে বিনিয়োগকারীদের মাঝে।

বিনিয়োগকারীরা বলছেন, কারসাজি চক্রের বিরুদ্ধে আগের কমিশন কঠোর পদক্ষেপ না নেয়ায় বাজার থেকে বিনিয়োগকারীদের আস্থা প্রায় উঠে গেছে। আস্থার সংকটেই বাজারে ভয়াবহ দরপতন হয়েছে। তবে সম্প্রতি বিএসইসির কিছু পদক্ষেপ নতুন করে আশা জাগাচ্ছে। বিএসইসি তাদের এ অবস্থান ধরে রাখতে পারলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরে আসবেই। তখন বাজারে টাকার অভাব হবে না।

বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্যপরিষদের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বাজারের ভয়াবহ পতনে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা অনেক লোকসানে রয়েছেন। ঈদের আগে কয়েকদিনের উত্থানের কারণে লোকসানের পরিমাণ হয় তো কিছুটা কমবে। এরপরও অনেকেই এখনো লোকসানে রয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে বাজারে কোনো সুশাসন ছিল না।

বর্তমান কমিশন সুশাসন ফেরানোর চেষ্টা করছে। অনিয়মের কারণে অনেককেই নতুন কমিশন জরিমানা করেছে। আমরা চাই জরিমানার পাশাপাশি অনিয়মকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক। তাহলে বিনিয়োগকারীদের আস্থার পাশাপাশি বাজারেও সুদিন ফিরবে।

ইতোমধ্যেই নতুন করে আশা জাগাচ্ছে পুঁজিবাজার। বিদায়ী সপ্তাহের প্রতিটি কার্যদিবস উত্থানেই শেষ হয়েছে লেনদেন। বৃহস্পতিবার দিন শেষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স সাড়ে ৪ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে অবস্থান করছে। এদিন সূচকের সঙ্গে টাকার পরিমাণে লেনদেনও বেড়েছে। আর লেনদেনে অংশ নেয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বেশির ভাগেরই শেয়ার ও ইউনিট দর অপরিবর্তিত বেড়েছে।

এদিন ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৪৩.২২ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার২১৪.৪২ পয়েন্টে। যা ৪ মাস ১৯ দিন বা ৫৩ কার্যদিবসের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে চলতি বছরের ১১ মার্চ ডিএসইএক্স আজকের চেয়ে বেশি অর্থাৎ ৪ হাজার ২৩১ পয়েন্টে অবস্থান করছিল। ডিএসইর অপর সূচকগুলোর মধ্যে শরিয়াহ সূচক ১১.৮৪ পয়েন্ট, ডিএসই-৩০ সূচক ১৮.৮৪ এবং সিডিএসইটি ৭.৯০ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ৯৭৬.৪৯ পয়েন্টে, ১৪২০.৬৩ এবং ৮৩০.২৮ পয়েন্টে।

ডিএসইতে ৫৮০ কোটি ৯০ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। যা আগের দিন থেকে ১৮১ কোটি ৩৮ লাখ টাকা বেশি। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৩৯৯ কোটি ৫২ লাখ টাকার। লেনদেন হওয়া ৩৪৮টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দর বেড়েছে ১৬২টির বা ৪৬.৫৫ শতাংশের, দর কমেছে ৫৮টির বা ১৬.৬৬ শতাংশের এবং ১২৮টির বা ৩৬.৭৮ শতাংশের শেয়ার ও ইউনিট দর অপরিবর্তিত রয়েছে।

অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৮২.২৪ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ৯৫৭.০৬ পয়েন্টে। সিএসইতে ২৩৪টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৯৮টির দর বেড়েছে, কমেছে ৪২টির আর ৯৪টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ১১ কোটি ৮৩ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।

কয়েকদিনের টানা উত্থানের কারণ অনুসন্ধানে জানা গেছে, পুঁজিবাজারে অনিয়ম করায় একাধিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে মোটা অঙ্কের জরিমানার পাশাপাশি কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে সতর্ক করা হয়েছে। এমনকি সরকারি প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশকেও (আইসিবির) হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছে। বিএসইসির কমিশন সভা করে এসব সিদ্ধান্ত নেয়ায় বিনোয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা ফিরতে শুরু করেছে। যার প্রভাব পড়ছে লেনদেন ও সূচকে।

এদিকে ঈদের আগে অনিয়মকারীদের বিরুদ্ধে নিয়ন্ত্রক সংস্থার এমন ভূমিকার প্রশংসা করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, বাজারের মূল সমস্যা সুশাসনের অভাব। গত এক যুগে ধরে বাজারে সুশাসনের বড় অভাব ছিল।

তবে অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলাম বিএসইসির চেয়ারম্যান হয়ে আসার পর বেশকিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছেন। এর মধ্যে অন্যতম অনিয়মকারীদের বিরুদ্ধে একের পর এক পদক্ষেপ গ্রহণ করা। নিয়ন্ত্রক সংস্থার এই ভূমিকা অব্যাহত থাকলে শেয়ারবাজারে সুশাসন ফিরে আসবে। শিগগিরই বাজারের ওপর বিনিয়োগকারীদের পুরোপুরি আস্থা ফিরবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here