রেইসের দশটি মিউচ্যুয়াল ফান্ড দুর্দশায়

0
462

বিশেষ প্রতিনিধি : তহবিল ব্যবস্থাপনা কোম্পানি রেইস অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট পরিচালিত দশটি মিউচ্যুয়াল ফান্ডের দর কমতে কমতে নেমে এসেছে অভিহিত মূল্যের অর্ধেকেরও নিচে। দশটি ইউনিটের প্রত্যেকটির দর এখন পাঁচ টাকারও নিচে। কোনো কোনোটির দাম চার টাকারও কম।

ঢাকার পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত মিউচ্যুয়াল ফান্ড আছে ৩৭টি। এর মধ্যে ১০টির সম্পদ ব্যবস্থাপনায় আছে রেইস। এই ফান্ডগুলো যখন পুঁজিবাজারে এসেছিল, প্রতি ইউনিটের অভিহিত মূল্য ছিল ১০ টাকা করে।

বিনিয়োগকারীরা লাভের আশায় বিনিয়োগ করলেও এখন উল্টো তাদের হাতে থাকা ইউনিটের দর অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে। বাজারে থাকা বাকি ২৭টি মিউচ্যুয়াল ফান্ডের কোনোটির ইউনিট প্রতি দাম ৫ টাকার নিচে নামেনি।

রেইসের দশটি মিউচ্যুয়াল ফান্ডের দর ৫ টাকার নিচে নেমে যাওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করলে মঙ্গলবার নাফিজ সারাফাত বলেন, এ বিষয়গুলো আমি দেখি না। আমার ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে কথা বলেন।

রেইস অ্যাসেট ম্যানজেমেন্ট কোম্পানি যাত্রা শুরু করে ২০০৮ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর। রেইস গ্রপের চেয়ারম্যান চৌধুরী নাফিজ সারাফাত পদ্মা ব্যাংকেরও (সাবেক ফারমার্স ব্যাংক) চেয়ারম্যান।

ফারমার্স ব্যাংকে আগে থেকেই রেইসের বিনিয়োগ ছিল। ঋণ কেলেঙ্কারিতে ফারমার্স ব্যাংক দেউলিয়া হওয়ার পর চৌধুরী নাফিজ শারাফাত এর চেয়ারম্যান হন। পরে ব্যাংকের নাম বদলে হয় পদ্মা ব্যাংক।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মিজানুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের মিউচ্যুয়াল ফান্ডের এই খারাপ অবস্থার জন্য সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানগুলোর অপব্যবস্থাপনা দায়ী। তারা বিনিয়োগকারীদের কথা না ভেবে উল্টা-পাল্টা বিনিয়োগ করেছে। আর যারা এ ধরনের বিনিয়োগ করেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী রেইসের ব্যবস্থাপনায় থাকা ইবিএল ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিট প্রতি প্রকৃত সম্পদ মূল্য (এনএভি) ১০ টাকা ২৫ পয়সা; অথচ মঙ্গলবার লেনদেন হয়েছে ৪ টাকা ৯০ পয়সায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here