রুগ্ন ১৩৩টি কারখানা : ৬৮৬ কোটি টাকার ঋণ মুক্তি চেয়ে চিঠি

0
355

সিনিয়র রিপোর্টার : রুবানা হক একটি চিঠিতে বলেছেন, রুগ্ন ১৩৩ কারখানার সার্বিক অবস্থা খুবই করুণ। মালিকদের অনেকেই মৃত্যুবরণ করেছেন। বাকিরা বয়সের ভারে শারিরীক ও মানসিকভাবে কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছেন। এ অবস্থায় রুগ্ন শিল্প মালিকদের পক্ষে কারখানা চালু বা ব্যাংক ঋণ পরিশোধ করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।

কারখানা মালিকের বকেয়া ঋণ মওকুফ চেয়ে বিজিএমইএ সভাপতি রুবানা হক গত বছর সেপ্টেম্বরে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের কাছে আবেদন জানান।

১৯৮৫ সাল থেকে পোশাকখাতের রুগ্ন ও বন্ধ হওয়া ২৭৯টি কারখানাকে এক্সিট সুবিধা দিয়েছিল সরকার। ওই সময় ১৩৩ কারখানা মালিক এ সুবিধা নেননি।

চিঠিতে তিনি বলেন, ঋণখেলাপি হয়ে পড়ায় তারা নতুন ব্যাংকঋণ পায়নি। বকেয়া ভাড়ার কারণে বাড়ির মালিকরা কারখানার মেশিনারিজ দখল করে নেয়। ঋণদাতা ব্যাংকগুলো দখলে নেয় কারখানার স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি।

চিঠিতে আরও বলা হয়, তাদের শেষ ভিটে বাড়িও ব্যাংকের কাছে মর্টগেজ করা এবং যে কোনো সময় নিলাম করে নিঃস্ব মালিকদের বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করে দিতে পারে। অর্থঋণ আদালতে মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি হিসেবে ফেরারি জীবনযাপন করছেন তারা।

আবেদনের বিষয়ে মতামত চাওয়া হলে বাংলাদেশ ব্যাংক অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগকে জানায়, ১৩১টি রুগ্ন প্রতিষ্ঠানের মূল ঋণের পরিমাণ ৫৫২.৫৩ কোটি টাকা, আয় খাতে নেওয়া সুদের পরিমাণ ১৪৭.০৫ কোটি টাকা ও ব্যাংকগুলোর মামলা খরচ ৩.৫৭ কোটি টাকা। অন্য দুটি রুগ্ন প্রতিষ্ঠানের ঋণ সংক্রান্ত তথ্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংক থেকে পাওয়া যায়নি।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, ‘প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণ মওকুফ করতে চাইলে সরকারের পক্ষ থেকে ব্যাংকগুলোকে মোট ৬৮৬.৩২ কোটি টাকা পাওনা পরিশোধ করতে হবে। সুদ মওকুফ সংক্রান্ত নীতিমালা অনুযায়ী, সরকার চাইলেও কস্ট অব ফান্ড ও আয় খাতে নেয়া সুদ মওকুফ করা যাবে না।’

পরে বিশেষ বিবেচনায় এসব রুগ্ন শিল্পের ঋণ মওকুফের জন্য বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির কাছেও আবেদন করে বিজিএমইএ। এ প্রেক্ষিতে গত অক্টোবরে এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় বিষয়টি পর্যালোচনা করে সুপারিশ দেওয়ার জন্য কমিটি গঠন করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

দুই মাসের মধ্যে সুপারিশসহ কমিটিকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। কমিটি দুটি বৈঠক করে প্রতিবেদন জমা দেয়।

কারখানাগুলো রুগ্ন হওয়ার কারণ হিসেবে কমিটি বলেছে, এগুলো ভাড়াবাড়িতে ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুরু করে। ব্যাংকিং নিয়ম-কানুন, আন্তর্জাতিক ব্যবসার নিয়ম-কানুন অধিকাংশ উদ্যোক্তারই অজানা ছিল।

নানাবিধ সমস্যার সম্মুখীন হয়ে ব্যবসা পরিচালনা করা তাদের পক্ষে সম্ভব হয়নি। এক পর্যায়ে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধ, বাড়িভাড়া, গ্যাস-বিদ্যুৎ বিল পরিশোধেও অসমর্থ্য হয়ে পড়ে। এজন্য রুগ্ন ও বন্ধ এসব কারখানা মালিকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

নিজেদের ব্যাংক ঋণের দায় সরকারের ওপর চাপিয়ে এখনই ‘শান্তিতে মরতে’ পারছে না তৈরি পোশাকখাতের রুগ্ন ও বন্ধ কারখানাগুলো। এজন্য কারখানাগুলো তাদের কাছে পাওনা ব্যাংকের ৬৮৬ কোটি টাকার দায় থেকে মুক্তি চেয়েছিল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here