রিং শাইনের কেলেঙ্কারিতে ৬১টি বিও হিসাবের তথ্য তলব

0
464

সিনিয়র রিপোর্টার : ২০১৯ সালে শেয়ারবাজারে ১৫ কোটি সাধারণ শেয়ার ছেড়ে ১৫০ কোটি টাকা উত্তোলন করে রিং শাইন কোম্পানি লিমিটেড। বহুল সমালোচিত রিং শাইনের ‘প্লেসমেন্ট’ কেলেঙ্কারিতে ৬১টি বিও (বেনিফিশিয়ারি ওনার্স) হিসাব প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ইতোমধ্যে এসব হিসাবের তথ্য তলব করা হয়েছে। এ ব্যাপারে দুই স্টক এক্সচেঞ্জ ও কোম্পানিকে চিঠি দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

এছাড়াও কোম্পানির দুর্নীতি অনুসন্ধানে ৩ সদস্যের কমিটি গঠন ও অনুসন্ধানে ৬১টি বিও হিসাব চিহ্নিত করা হয়েছে। সব হিসাবের মাধ্যমে বাজারে আসার আগে প্লেসমেন্টের মাধ্যমে কোম্পানির শেয়ার নেওয়া হয়েছে। আর হিসাবগুলোর তথ্য পেলে তা বিশ্লেষণ করে কোম্পানির অনিয়মের বিষয়টি চিহ্নিত করা হবে।

কেলেঙ্কারিতে অংশ নেয়া বিও হিসাবগুলো হলো- ইকোনো বার্টন অ্যান্ড এক্সেসরিস বিও হিসাব নম্বর ১২০৫০০০০৫৮৫৮৮৪২৫, গ্রী মোহন রায় ১২০৩৬১০০৬৭৯২০১৫৬, মো. আব্দুল কাইয়ুম মামুন ২০৫৮৮০০৬৮০৫০৮২৬, সাজেদুল মাবুদ খাবির ১২০৫২০০০৪৮৪৯৫৩৪১, মো. আবুল খায়ের মানিক ১২০৫২০০০৪৮৪৯৫৩০৯, নাজমুল শাখাওয়াত হোসেন ১২০৩৬১০০৬১৪৯৩২৪৩, রেজওয়ানা রহমান রিমি ১২০৩০৬০০৫৩৮১১৯৭০, নাজনীন আক্তার বানু ১২০৩০৬০০৫৩৮১১৫৯০।

হোসনে আরা বেগম ১২০৫২০০০৬৬৪৮১৮৮২, মো. আব্দুল কুদ্দুস আমিন ১২০৫০০০০৫৩৭৭৪৯৬৬, ইমরান রহমান ১৬০৬০৬০০৬৮০০৬৮৩৫, লুৎফুন নেসা বেগম ১২০১৯৬০০৫৩৮১১৯৮৯, মো. আরিফ বিল্লাহ ১২০৫২০০০৪৮৪৯৫৩১৭, আব্দুল মান্নান ১২০৫২০০০৬১৪৯৩১৬১, মোহাম্মদ আরশাদুল আমিন ভুইয়া ১২০৫২০০০৬১৫১৮২৫৯, মো. মঞ্জুরুল ইসলাম ১২০৩৬১০০৬১৪৯২১৭৩, মো. আবুল কাশেম ১২০৫২০০০৬১৪৯২২৪৮, মো. মাসুদ হোসেন রানা ১২০৩৬১০০৬১৪৯২২৬৪।

শেখ আতাউল হক ১২০৫২০০০৬১৪৯৩৬০৬, মো. জান্নাতুল ইসলাম ১২০৫২০০০৬১৪৯৩৬১৪, মো, আব্দুর রাজ্জাক ১২০৫২০০০৬১৪৯৩৬২২, মো. আতিকুর রহমান ১২০৫২০০০৬১৪৯৩৬৩০, ফিরোজা বেগম ১২০৩৬১০০৬১৫১৮১৪১, জাকিয়া খোন্দকার ১২০৩৬১০০৬১৪৯২২৩১, মনিরা খোন্দকার ১২০৩৬১০০৬১৪৯২২১৩, জাহাধা খোন্দকার ১২০৫২০০০৬২১৪৯৮২২, সৈয়দা শামসুন্নাহার ১৬০৬০৬০০৬৮০০৬৩৯৯, মোহাম্মদ আনোয়ার জাহিদ ভুইয়া ১২০৫২০০০৪৮৪৬৮৫১৭, সংকর কুমার পাল ১২০৩৬১০০৬৬০৩১২৩৬, মিস উম্মে সালমা ১২০৩৬১০০৬৫২৮১৬৪২, ইউনিভার্স নিটিং গার্মেন্টস লিমিটেড ১২০১৬৩০০৬৬৩৭৫১০০, মো. মোস্তফা হাসান ১২০১৮৩০০৬২৮৯৭৫৪৪।

মো. মিজানুর রহমান ১২০৩৬১০০৬৬৩৬৫৯৭৩, মো. হুমায়ূন কবির ১২০৫২০০০৬৬৩৫০১২১, মো. আরিফ হোসেন ১২০৪৫৭০০৬৩৬৪৪৭৫৫, মোহাম্মদ হুমায়ূন কবির ১২০৩৬১০০৬৬৩৮২৪৯৫, মো. আনিসুর রহমান ১২০৩৬১০০৬২০০৮২২০, সুদীপ বনিক ১২০১৮৩০০৫৮৪৬৯৬৫৪, মো. কবির উদ্দিন আহমেদ ১২০৪৭৩০০৫৮৯৭০১১০, এবিএম তানভীর হোসেন ১২০২৮৩০০৫২৯১১৭৪১, মো. ফয়সাল আহমেদ ১২০৩০৪০০৫৮১৭৫৮১৮, রুহুল কুদ্দুস সৈকত ১২০২৮৩০০৫২৮৬৪০২৬, আসিফ ইকবাল চৌধুরী ১৬০৫৫৫০০৫৯৭৫৮৬৭১, মো. সারোয়ার হোসেন ১৬০৫৫৫০০৬১৬৭৪২৬৬, মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলী ১২০৫১৫০০৫৫১৫০৩৮৭, মিসেস তাসলিমা বেগম ১২০৩৬১০০৪১৩৬৯৯৮৩, চুমকি খাতুন ১৬০৬০৬০০৬৮০০৭১৪৪, মো. তানজিল ১২০১৫৯০০৬৫৮৮৪৭৩৯।

নিয়াজ আল ফুয়াদ ১২০১৮৩০০৬৬৪২৭৬৭১, পরীক্ষিত প্রসাদী ১২০১৮৩০০৬৬৪১৭০৯৪, পানু বেগম ১২০১৭৩০০৬৮৬৮১৮২৩৫১, দিল আফরোজ ১২০১৮৩০০৬৮০৭০৯৩৮, মো. সৈয়দ ১২০১৮৩০০৬৬৪১৭০০০, গোলাম আজম চৌধুরী ১২০৫২০০০৬২১৪৯৮১৪, একেএম আতিকুর রহমান ১২০৩৬১০০৬৫৯৩৮৩১১, মো. মাহফুজুল ইসলাম ১২০২১৪০০১৫০৭০৬৭৩, পারভীন আক্তার ১২০১৫৮০০৬৬৪৫০১৮২, গোপাল চন্দ্র বসাক ১২০৩০৯০০২৯৭৭৮০২৮, মিসেস শাহনাজ পারভিন ১৬০৬০৬০০৬৮০০৬৯৬৯, এবিএম গোলাম মোস্তফা ১২০৪৭৮০০৪০১৪৩০৫১ এবং লার্ক টেক্সটাইল লিমিটেড ১২০১৬৩০০৬৬৩৭৫৭১৩।

তবে রিং শাইনের পুনরায় উৎপাদন শুরু করতে ২৬ জানুয়ারি কোম্পানির পর্ষদ পুনর্গঠন করে বিএসইসি।কমিটির সদস্যরা হলেন বিএসইসির পরিচালক রিপন কুমার দেবনাথ, উপপরিচালক মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম মজুমদার এবং মো. ইকবাল হোসেন। নতুন গঠিত স্বতন্ত্র পরিচালকরা হলেন পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি মেজবাহ উদ্দিন (পিআরএল), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ল্যাদার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।

আরো আছেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড সিস্টেমস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্সের অধ্যাপক মোহাম্মদ সগির হোসাইন খন্দকার, জনতা ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফোরোজ আলী, পাওয়ার গ্রিডের স্বতন্ত্র পরিচালক ইসতাক আহমেদ শিমুল ও অ্যাভিয়েশন ম্যানেজমেন্ট সার্ভিসেসের সাবেক মহাব্যবস্থাপক আব্দুর রাজ্জাক।

কোম্পানির ইস্যু ম্যানেজার হিসাবে রয়েছে এএফসি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট এবং সিএপিএম অ্যাডভাইজরি লিমিটেড। নিরীক্ষক হিসাবে রয়েছেন সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নিষিদ্ধ হওয়া মাহফেল হক অ্যান্ড কোং।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, কোনো কোম্পানি অনিয়ম করলে তা তদন্ত করে বিএসইসিকে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। আইন অনুসারে তারা কোম্পানির বোর্ড ভেঙে দিতে পারে। আর এ ধরনের দৃষ্টান্ত স্থাপিত হলে অনিয়মের হার কমবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here