রাশিয়ার মানহীন জ্বালানী তেল ঢুকছে এশিয়ায়

0
183

ডেস্ক রিপোর্ট : অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বাজারে রাশিয়া বিশ্বস্ত একটি নাম। সম্প্রতি দেশটি জ্বালানি তেলের মান নিয়ে প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছে। রাশিয়ার দ্রুঝবা পাইপলাইন দিয়ে সরবরাহ করা অপরিশোধিত জ্বালানি তেলে মাত্রাতিরিক্ত জৈব ক্লোরাইডের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়েছে। এ কারণে জার্মানি, পোল্যান্ডসহ ইউরোপের কয়েকটি দেশ রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল আমদানি স্থগিত করেছে।

ইউরোপিয়ান ক্রেতারা মুখ ফিরিয়ে নেয়ায় মানহীন রুশ জ্বালানি তেল এবার এশিয়ার দেশগুলোয় বিক্রির চেষ্টা করছে কয়েকটি ট্রেডিং কোম্পানি। এরই মধ্যে জ্বালানি তেল সরবরাহকারী কোম্পানি ভিটোল ও ইউনিপেকের আওতায় এক কোটি ব্যারেলের বেশি মানহীন জ্বালানি তেলবাহী কার্গো এশিয়ার উদ্দেশে যাত্রা করেছে।

ইউরোপের ক্রেতাদের এ অনীহার কারণে মানহীন রুশ জ্বালানি তেল এখন এশিয়ার বাজারে বিক্রির চেষ্টা চলছে। জানা গেছে, সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহে এশিয়ার উদ্দেশে ১৫ লাখ টন অথবা ১ কোটি ১০ লাখ ব্যারেল মানহীন অপরিশোধিত জ্বালানি তেলবাহী কার্গো উস্ট-লোগা বন্দর ছেড়েছে।

রেফিনিটিভ এইকনের দেয়া তথ্যানুযায়ী, ১৫ মে ডেনমার্কের স্কাউ এসটিএস থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার টন জ্বালানিবাহী জাহাজ চীনের ইয়াংকৌয়ের উদ্দেশে রওনা করেছে। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক ভিটোল এ তেল সরবরাহের দায়িত্বে রয়েছে। চীনের নিংবোর উদ্দেশে আরো ২ লাখ ৭০ হাজার টন দূষিত জ্বালানি তেলবাহী একটি বড় ট্যাংকার পাঠিয়েছে ইউনিপেক। ইউনিপেকের প্যারেন্ট কোম্পানি সিনোপেক ও ভিটোল এ প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

ইউরোপ ও এশিয়ার দেশগুলো রাশিয়া থেকে সবচেয়ে বেশি অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করে থাকে। ইউরোপে তেল সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ পাইপলাইন দ্রুঝবা এবং শীর্ষ বন্দর উস্ট-লোগা দিয়ে সরবরাহ করা জ্বালানি তেলে অতিরিক্ত জৈব ক্লোরাইডের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এ অবস্থায় রাশিয়া জ্বালানিপণ্যটির রফতানি কমাতে বাধ্য হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে দেশটি থেকে জ্বালানি তেল সরবরাহ কার্যক্রম বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছে।

উল্লেখ্য, বিশেষ এ জৈব ক্লোরাইড জ্বালানি তেলের উত্তোলন বৃদ্ধিতে ব্যবহার হয়, যা রফতানির আগেই জ্বালানি থেকে পৃথক করে ফেলা হয়। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে দ্রুঝবা পাইপলাইনের জ্বালানি তেলে রাসায়নিকটি থেকে গেছে। মাত্রাতিরিক্ত জৈব ক্লোরাইড জ্বালানি শোধনকেন্দ্রের যন্ত্রপাতি বিকল করে দিতে পারে। এ কারণে ইউরোপিয়ান ক্রেতারা মানহীন এ জ্বালানি তেল কিনতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

ট্রেডাররা জানিয়েছেন, মূলত চীনের স্বতন্ত্র পরিশোধনাগারগুলোকে নিশানা করছে ভিটোল ও ইউনিপেক। এসব পরিশোধনকেন্দ্র মানহীন জ্বালানি তেল কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলেও উল্লেখ করেছেন তারা। তবে ক্রেতারা এ মানহীন জ্বালানি নিয়ে বেশ উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে। কারণ এ মানহীন তেল ট্যাংকে সংরক্ষণ করতে হবে এবং পরিশোধন যন্ত্রপাতির ক্ষতি এড়াতে জৈব ক্লোরাইডের মাত্রা হ্রাসে মানহীন জ্বালানির সঙ্গে বারবার মানসম্পন্ন জ্বালানি তেলের সংমিশ্রণ ঘটাতে হবে।

চীনের একটি শীর্ষ পরিশোধনাগারের কাছে এ ধরনের তেল বিক্রিকারী একজন ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, ‘চূড়ান্তভাবে এখন মূল্যনির্ধারণ করতে হবে। গুণগত মান নির্ধারণে আরো কয়েকটি পরীক্ষার পরই সঠিক মূল্যটি আরোপ করা হবে।’

সিঙ্গাপুরভিত্তিক একজন ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, এশিয়ার বড় পরিশোধনকেন্দ্রগুলো তুলনামূলক কম দামে মানহীন রুশ জ্বালানি তেল কিনতে পারে। তবে এ পরিশোধনে তাদের বাড়তি ব্যয় হবে। অন্য এক ব্যবসায়ী জানান, মানহীন রুশ জ্বালানি তেলের ক্রেতা সম্পর্কে পরিষ্কার কোনো তথ্য নেই। তবে রুশ প্রশাসন যে কম দামে এসব তেল এশিয়ান ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করছে, এটা মোটামুটি স্পষ্ট।

ইউরোপের ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রতি ব্যারেল মানহীন রুশ জ্বালানি তেলে ১০-২০ ডলার পর্যন্ত মূল্যছাড় দেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছিল। এ প্রস্তাবে খুব অল্প সংখ্যক ক্রেতাই সাড়া দিয়েছে। বর্তমানে প্রতি ব্যারেল রুশ জ্বালানি তেল ৭৪ ডলারে বিক্রি হচ্ছে।

ইউরোপের একজন ক্রেতা এ প্রসঙ্গে বলেন, আমরা এটি ছুঁয়েও দেখতে চাই না। ক্লোরাইড ইস্যুতে পরিশোধনকেন্দ্রগুলো এর আগেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে তারা এখন আরো বেশি সতর্ক।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here