যুক্তরাজ্যে পণ্য রপ্তানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা অব্যাহত রাখার সহযোগিতা চেয়েছে বিজিএমইএ

0
87

স্টাফ রিপোর্টার : বিজিএমইএ স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) কাতার থেকে উত্তরণের পরও যুক্তরাজ্যের বাজারে পণ্য রপ্তানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা অব্যাহত রাখার বিষয়ে বাংলাদেশি বংশদ্ভুত দুই এমপি রুশনারা আলী এবং রুপা হকের সহযোগিতা চেয়েছে।

বিশেষ করে প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাকের শুল্ক্কমুক্ত রপ্তানি সুবিধা অব্যাহত রাখার বিষয়ে জোর দিয়েছেন সংগঠনের নেতারা। রবিবার লন্ডনে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে বিজিএমইএর পক্ষ থেকে এই সুবিধা চাওয়া হয়েছে।

বৈঠকে এলডিসি থেকে উত্তরণ, যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশের ক্ষেত্রে শুল্ক্ক হারের সম্ভাব্য পরিবর্তন ও রপ্তানি খাতের প্রভাব নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান এ বিষয়ে বাংলাদেশের অনুকূলে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা নিতে এমপি রুশনারা আলী এবং রুপা হকের প্রতি বিশেষভাবে অনুরোধ জানান।

তিনি বলেন, ‘তৈরি পোশাকের অন্যতম বড় বাজার যুক্তরাজ্যে শুল্ক্কমুক্ত সুবিধা পাওয়া না গেলে কর্মসংস্থান এবং নারীর ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।’

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের ২০২৪ সালে এলডিসি থেকে উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় উন্নীত হওয়ার কথা ছিল। জাতিসংঘের উন্নয়ন নীতি সংক্রান্ত কমিটি (ইউএনসিডিপি) নির্ধারণ করে কোন দেশ এই তালিকায় থাকবে। মহামারী করোনার পরিস্থিতি বিবেচনায় বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধে এই সময়সীমা পিছিয়ে ২০২৬ সালে নিয়েছে ইউএনসিডিপি।

বিশ্ববাণিজ্য সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী, এলডিসি থেকে উত্তরণের পর কোন দেশের পণ্য আর শুল্ক্কমুক্ত রপ্তানি সুবিধার আওতায় থাকেনা। সে হিসেবে ২০২৬ সালের পর যুক্তরাজ্যে পণ্য রপ্তানিতে শুল্ক্কমুক্ত সুবিধা হারাবে বাংলাদেশ। বর্তমানে অন্যান্য উন্নত দেশের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের বাজারেও পণ্য রপ্তানিতে শুল্ক্কমুক্ত সুবিধা রয়েছে।যুক্তরাজ্যে বছরে গড়ে ৩৫০ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়।

চলতি অর্থ বছরের গত তিন মাস জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরে যুক্তরাজ্যে তৈরি পোশাকের রপ্তানি বেড়েছে ১০ শতাংশ। ১০৪ কোটি ডলারের বেশি মূল্যের পোশাক রপ্তানি হয়েছে এ সময়ে দেশটিতে। গত অর্থ বছরের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ৯৪ কোটি ডলারের কিছু বেশি।

বৈঠকে বিজিএমইএ সভাপতি বাংলাদেশে মূল্য সংযোজিত পণ্য বিশেষ করে কৃত্রিম আঁশের পোশাকে বিনিয়োগ করার জন্য যুক্তরাজ্যের উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করার অনুরোধ জানান। পোশাক খাতের কর্মপরিবেশ উন্নয়নে বাংলাদেশের বিভিন্ন সাফল্য এবং স্বীকৃতির বিভিন্ন তথ্যও তুলে ধরেন তিনি। বৈঠকে বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ রাজনীতিবিদরাও উপস্থিত ছিলেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here