তরফদার রুহুল আমিন, ছবি সংগৃহিত

সিনিয়র রিপোর্টার : সাইফ পাওয়ারটেকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুহুল আমিন বলেন, দেশের বৃহত্তর স্বার্থে চট্টগ্রাম বন্দরকে স্মুথলি অপারেশনে রাখতে হবে। সরকার পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল বানিয়েছে। বে টার্মিনালের কাজ চলছে।

আমার জানা মতে, বর্তমান বন্দর চেয়ারম্যান আন্তরিকভাবে বে টার্মিনাল বাস্তবায়নে কাজ করছেন। এ টার্মিনালের মাস্টারপ্ল্যান হচ্ছে। এটি অনেক বড় কাজ। বন্দরের নিজস্ব একটি টার্মিনাল থাকবে সেখানে। ফার্স্ট ট্রেকে নিতে হবে।

চট্টগ্রামে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে বঙ্গবন্ধু কনফারেন্স হলে সোমবার সকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন তিনি। সভায় আসন্ন জাতীয় বাজেট ২০২১-২২ সম্পর্কে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।

দি চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রির সহসভাপতি তরফদার মো. রুহুল আমিন বলেন, বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে ব্যবসায়ীরাই অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখে। বর্তমান বিশ্ব মহামারীর কারণে প্রান্তিক পর্যায় থেকে শুরু করে বৃহৎ শিল্প প্রতিষ্ঠান পর্যন্ত সব ধরণের ব্যবসায়ীরাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজের মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা উপকৃত হয়েছেন। যদিও কিছু ক্ষেত্রে সমস্যা রয়েছে। করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের কারণে দশ টাকা থেকে দশ হাজার কোটি টাকা সব ধরণের ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে কর্মসংস্থান হ্রাস পেয়েছে এবং অনেক কর্মী চাকরি হারিয়েছেন।

তরফদার মো. রুহুল আমিন

তিনি বলেন, বন্দরের ভেতর প্রতিদিন ৪ হাজার কনটেইনার ডেলিভারি হয়। এক কনটেইনারে ৩টি ট্রাক ধরলে ১২ হাজার ট্রাক চলাচল করছে। আশপাশে কনটেইনার ডিপো আছে। আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল বন্দর থেকে কনটেইনার ডেলিভারি বাইরে নিয়ে যাওয়া হোক। তারই অংশ হিসেবে বে টার্মিনাল এলাকায় ডেলিভারি ইয়ার্ড ও ট্রাক টার্মিনাল তৈরি করা হচ্ছে। তিন বছর আগে এ প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। নগরে যানজট, অচলাবস্থা নিরসনে এ প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।

রুহুল আমিন বলেন, সিসিটি, এনসিটি ও মেইন জেটি ২০-৩০ বছর আগে হয়েছে। নতুন জেটি যেগুলো হচ্ছে সেগুলো সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয় মাথায় রেখে উঁচু করতে হবে। হেজার্ড ম্যাটেরিয়াল নিয়ে বন্দর কাজ করছে। বন্দর আরও স্ক্যানার কিনবে। পানগাঁওতে স্ক্যানার বসাতে হবে।

বাজেট সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিশ্বের সর্ববৃহৎ অর্থনীতির দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র করোনা সংক্রান্ত ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে গত বছর তিন ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে এবং এ বছর প্রায় ছয় ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

বর্তমানে করোনার ভারতীয় ভেরিয়েন্টের কারণে সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে লকডাউন চলছে। তাই কলকারখানা চালু রেখে পণ্য উৎপাদন করা সম্ভব হলেও বিক্রয় করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে অনেক প্রতিষ্ঠানকে কর্মী ছাঁটাই করতে হচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে গতবারের ন্যায় বা তার চেয়েও বেশী পরিমাণে প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আহবান জানান।

তরফদার রুহুল আমিন বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ট্যাক্স, ভ্যাট ইত্যাদিতে কোন ছাড় না থাকলেও ঋণের সুদ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ প্রেক্ষিতে নিয়মিত কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ ব্যাংক ঋণ গ্রহীতাদের ক্লাসিফাইড না করার সময়সীমা আগামী বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত বর্ধিত করতে সরকারের কাছে অনুরোধ করছি।

লীজিং কোম্পানীর ক্ষেত্রেও একই ধরণের বিধান প্রযোজ্য। কোন উদ্যোক্তার পাঁচটি শিল্প কারখানার মধ্যে একটি শিল্প কারখানা রুগ্ন হলে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে ঋণ সরবরাহ বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এই নির্দেশনা বাতিল করে কেবলমাত্র নির্দিষ্ট রুগ্ন শিল্প ব্যতিরেকে একই গ্রুপের অন্যান্য শিল্পে ঋণ প্রবাহ অব্যাহত রাখার অনুরোধ জানান।

তিনি বলেন, ২০০ বিলিয়ন ডলারের অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য বিবেচনায় দেশীয় ব্যবসায়ীদের সুরক্ষা দিতে হবে। বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের কাঁচামাল আমদানিতে অগ্রিম কর আদায় করা হলেও পরবর্তীতে তা যথা সময়ে সমন্বয় করা হয় না। ফলে এসব শিল্প প্রতিষ্ঠানের শত শত কোটি টাকা এনবিআরের তহবিলে জমা থেকে যায়। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানে চলতি মূলধনের ঘাটতি দেখা দেয়।

তাই অগ্রিম কর যথাসময়ে সমন্বয় করা এবং অতিরিক্ত আদায়কৃত কর শিল্প প্রতিষ্ঠানকে দ্রুত ফেরত দিতে এনবিআরের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা গ্রহণের দাবী জানান। যদি অগ্রিম কর ও আগাম ভ্যাট হ্রাস করা হয় তাহলে প্রতিষ্ঠানগুলোতে নগদ মূলধনের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে যা ব্যবসায়িক কর্মকান্ড পরিচালনায় সহায়ক হবে।

তিনি বলেন, বৃহত্তর চট্টগ্রামে চলমান মেগা প্রকল্পগুলো যথাসময়ে সম্পন্ন করতে হবে। এক্ষেত্রে প্রয়োজনে আসন্ন বাজেটে অর্থ বরাদ্দ দিতে হবে। বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশী রাজস্ব চট্টগ্রাম কাস্টমসের মাধ্যমে আদায় করা হয়।চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে দেশের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। দেশের অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের কেন্দ্রবিন্দু চট্টগ্রামকে সরকারিভাবে ও প্রাতিষ্ঠানিকরূপে বাণিজ্যিক রাজধানী ঘোষণা করার দাবী জানান। বাজেটের আকার বৃদ্ধি পেলেও তা পূর্ণাঙ্গরূপে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই বাজেট যথাযথ বাস্তবায়নের উপর গুরুত্বারোপ করতে হবে।

দেশের অর্থনীতির স্বার্থে চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে হবে। তা না হলে সারা দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বে-টার্মিনাল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প। এ প্রকল্পে ব্রেক ওয়াটার সিস্টেম করতে তিন চার হাজার কোটি টাকা লাগবে। বর্তমানে মাস্টার প্ল্যান প্রণয়নের কাজ চলছে।

চট্টগ্রাম বন্দরে দৈনিক প্রায় চার হাজার কন্টেইনার ইন-আউট হয়। ফলে যানজট সৃষ্টি হয়। বে-টার্মিনাল এলাকায় ট্রাক টার্মিনাল ও ডেলিভারী টার্মিনাল নির্মাণ শেষ হলে এই জট ৭০% কমবে বলেন রুহুল আমিন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here