যমুনা অয়েলের এফডিআর ভাঙানোয় ক্ষতি ১৫ কোটি টাকা

0
650

চট্টগ্রাম অফিস : নির্ধারিত সময়ের আগে বাণিজ্যিক ব্যাংকে গচ্ছিত স্থায়ী আমানত (এফডিআর) ভাঙিয়ে ১৫ কোটি টাকা ক্ষতির শিকার হয়েছে যমুনা অয়েল কোম্পানি। প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হলেও প্রতিষ্ঠানের কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারী লাভবান হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

সম্প্রতি প্রকাশিত বহিঃনিরীক্ষা প্রতিবেদনে ক্ষতির বিষয়টি তদন্ত করার সুপারিশ থাকলেও রহস্যজনক কারণে নীরব রয়েছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাসমূহ।

আলোচিত ৮টি এফডিআর ও বহিঃনিরীক্ষা প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ২০১৭ সালের জুন মাসের কয়েক তারিখে ৪টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের ভিন্ন ভিন্ন শাখায় মোট ২১০ কোটি ৬৭ লাখ ২০ হাজার টাকার এফডিআর করে যমুনা অয়েল কোম্পানি। নির্ধারিত সময়ের আগে ভেঙে ফেলাতে সরকারের মোট ১৫ কোটি ৭ লাখ টাকা ক্ষতি হয়।

মেয়াদ পূর্তির পর এই ৮টি এফডিআর ভাঙালে ২৭ কোটি ৪৩ লাখ ৭৬ হাজার ৪৩৪ টাকা ৯৩ পয়সা সুদ পাওয়া যেত। কিন্তু বর্তমানে সুদ পাওয়া যায় ১২ কোটি ৩৬ লাখ ৫৯ হাজার ২৩৬ টাকা ৯১ পয়সা। ২ বছর মেয়াদের এই এফডিআরগুলো ভাঙানো হয় গত বছরের ১২ মার্চ। নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়, আর কিছুদিন অপেক্ষা করে এফডিআরগুলো ভাঙালে ক্ষতি অনেকাংশে এড়ানো যেত।

এছাড়া অন্তত পঞ্চাশ ভাগ সরকারি ব্যাংকে ও অবশিষ্ট অংশ বেসরকারি ব্যাংকে এফডিআর করার সরকারি নির্দেশনা থাকলেও তা মানা হয়নি। এফডিআরগুলোর বেশিরভাগই বেসরকারি ব্যাংকে করা হয়। ২১০ কোটি টাকার মধ্যে শুধুমাত্র একটি সরকারি অংশীদারী ব্যাংকে মাত্র ৫ কোটি টাকা এফডিআর করা হয়।

অন্য ২০৫ কোটি ৬৭ লাখ ২০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করা হয় ৩টি বাণিজ্যিক ব্যাংকে। এরমধ্যে একটি ব্যাংকের পৃথক ৫ শাখায় একশ’ কোটি টাকার বেশি রাখা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, মেয়াদপূর্তির পূর্বে এফডিআরগুলো ভাঙানোর জন্য সদ্য অবসরপ্রাপ্ত তৎকালীন ডিজিএম (ফাইন্যান্স) নাজমুল হক ক্ষতির বিষয়টি গোপন ও অনুল্লিখিত রেখে কৌশলে অনুমোদন করিয়ে নেন। নির্ধারিত সময়ের আগে এফডিআরগুলো ভাঙানোর কারণে কোম্পানি অর্ধেকের বেশি সুদ হতে বঞ্চিত হয়।

ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হওয়ার জন্য কয়েকজন কর্মকর্তা ব্যাংকের সঙ্গে গোপন আঁতাতের মাধ্যমে এই কাজ করা হয়েছে। জানা যায়, ব্যাংকে প্রেরিত ৮টি এফডিআর ভাঙানোর রিক্যুইজিশন দরখাস্তে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে স্বাক্ষর করেন কোম্পানির ডিজিএম (এইচ আর) মাসুদ করিম ও ডিজিএম (ফাইন্যান্স) নাজমুল হক।

এদিকে তৎকালীন ডিজিএম (অডিট) খসরু আজাদ ছিলেন অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা বিভাগের প্রধান। কিন্তু নিরীক্ষা বিভাগ থেকে কোনো প্রকার আপত্তি না তুলে ক্ষতির বিষয়টি গোপন রাখা হয়।

গত ৪ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত বহিঃনিরীক্ষা প্রতিবেদনে অডিট আপত্তি তুলে বলা হয়, বিপিসির কাছ থেকে কিছুদিন সময় চাওয়া যেত। এতে ক্ষতি এড়ানো যেত। তা ছাড়া অডিট আপত্তি মতে, একমাত্র সাউথইস্ট ব্যাংক ছাড়া অন্যকোনো ব্যাংকের সঙ্গে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সুদের বিষয়ে দেন-দরবার (নেকোজিসন) করা হয়নি।

অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা বিভাগ থেকে আপত্তি আসলে ও ঠিকমতো ব্যাংকের সঙ্গে দেন-দরবার করলে ক্ষতি অনেকাংশে এড়ানো যেত। কিন্তু বহিঃনিরীক্ষা প্রতিবেদনের সুপারিশকে আমলে না নিয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। বহিঃনিরীক্ষা প্রতিবেদনে ক্ষতির বিষয়টি তদন্ত করার সুপারিশ থাকলেও রহস্যজনক কারণে নীরব রয়েছে বিপিসি, সিকিউরিটি এক্সচেঞ্জ কমিশন, দুদক ও যমুনা কর্তৃপক্ষ।

কোম্পানির ডিজিএম (এইচ আর) মাসুদ করিম বলেন, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে এফডিআরগুলো ভাঙানো হয়। আমি শুধু সিগনেটরি হিসেবে স্বাক্ষর করেছি।

যমুনা অয়েল কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক গিয়াস উদ্দিন আনসারী বলেন, বিপিসির পাওনা পরিশোধের জন্য বাধ্য হয়ে এফডিআরগুলো ভাঙাতে হয়। এতে কিছু ক্ষতি হয়েছে। ওই সময় আমাদের ফান্ডে পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় এফডিআরগুলো ভাঙাতে হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here