মূল্যস্ফীতি বাড়ছে, বিনিয়োগ কমছে

0
413

স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের টানা হরতাল ও অবরোধের কারণে চাল, ডাল, আটা, মাছ-মাংসসহ অন্যান্য নিত্যপণ্যের দাম বেড়েই চলেছে। হরতাল-অবরোধের প্রভাব পড়েছে বাড়ি ভাড়া, শিক্ষা উপকরণ ও আসবাবপত্রের মতো খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের দামের ওপরেও। আর অন্যদিকে বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ কমছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) থেকে প্রকাশিত হালনাগাদ তথ্যে দেখা গেছে, গত বছরের পুরো সময়েই মূল্যস্ফীতি স্থিতিশীল থাকলেও চলমান রাজনৈতিক সংঘাত ও সহিংসতার কারণে চলতি বছরের প্রথম মাস জানুয়ারি থেকে মূল্যস্ফীতির হার বেড়েছে। সেই ধারা এখনো অব্যাহত আছে। বিবিএস বলছে, ফেব্রুয়ারিতে গড় মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে ৬.১৪ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। জানুয়ারিতে এই হার ছিল ৬.০৪ শতাংশ। ডিসেম্বরে গড় মূল্যস্ফীতি ছয় শতাংশের নিচে ছিল।

গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর শেরে বাংলানগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এ সময় পরিকল্পনা বিভাগের সচিব সফিকুল আযম, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য ড. শামসুল আলমসহ বিবিএসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ফেব্রুয়ারিতে গড় মূল্যস্ফীতির পাশাপাশি খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের দামও বেড়েছে। এ সময়ে খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে হয়েছে ৬.১১ শতাংশ। আগের মাসে যা ছিল ৬.০৭ শতাংশ। এ ছাড়া খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে হয়েছে ৬.২০ শতাংশ, জানুয়ারিতে এই হার ছিল ৬.০১ শতাংশ। সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, দেশে এখন স্বাভাবিক অবস্থা নেই। মাঠে কৃষক যে পণ্য উৎপাদন করছেন, সেই পণ্য দেশের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নেওয়া যাচ্ছে না। পণ্য সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। তা ছাড়া নতুন বছর শুরু হওয়ায় বাড়ি ভাড়াও বেড়েছে। অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের স্কুলে ভর্তি করিয়েছে। সেখানে নতুন বই, ব্যাগসহ অনেক উপকরণ কিনেছে। এসব কারণে মূল্যস্ফীতির হার বেড়েছে বলে জানান মন্ত্রী। শহরাঞ্চলে ফেব্রুয়ারিতে পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে (মাসওয়ারি) গড় মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে ৬.৬২ শতাংশে পৌঁছেছে। আগের মাসে এটি ছিল ৬.৪৮ শতাংশে। এ ছাড়া খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৭.০২ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। আগের মাসে এটি ছিল ৬.৬৯ শতাংশে। তবে খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি কমে ৬.১৮ শতাংশ হয়েছে। জানুয়ারিতে এই হার ছিল ৬.১৮ শতাংশ।

অন্যদিকে গ্রামেও এ সময়ে গড় মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। এ সময়ে গড় মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৫.৮৯ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। জানুয়ারিতে এই হার ছিল ৫.৮১ শতাংশ। এ ছাড়া খাদ্য মূল্যস্ফীতি জানুয়ারিতে যেখানে ৫.৭৯ শতাংশ ছিল, সেটি কমে ৫.৭২ শতাংশ হয়েছে। আর খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৬.২২ শতাংশ হয়েছে। যা আগের মাসে ছিল ৫.৮৫ শতাংশ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here