মুন্নু অ্যাগ্রো : সোনার হরিণ রূপার দামে

0
188

শাহীনুর ইসলাম : ১৯৮২ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত মুন্নু অ্যাগ্রো এন্ড জেনারেল মেশিনারি লিমিটেড এক সময়ে চিল দাপুটে কোম্পানির। যেন এসেই জয় করলেন। প্রথমবারেই ৩৫০ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়ে সবার দৃষ্টি কাড়েন।

কোম্পানির একটি শেয়ার হয়ে হঠে সোনার হরিণ। পরে সেই হরিণের দর পড়তে থাকে। বিভিন্ন উত্থান-পতনের ভেতর দিয়ে ২০১৮ সালে ফের হঠাৎ করেই শেয়ারপ্রতি দর বেড়ে চলে যায় ৫ হাজার ৮০০ টাকায়।

১০ টাকা অভিহিত মূল্যের শেয়ারের এই অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির পেছনে তখন কাজ করেছে ভালো লভ্যাংশ দিয়ে কোম্পানি সম্প্রসারণের সম্ভাবনা। কোম্পানির কর্তৃপক্ষ সাড়ে ৩০০ শতাংশ বোনাস অর্থাৎ প্রতি ১০০ শেয়ারের বিপরীতে সাড়ে ৩০০টি শেয়ার লভ্যাংশ হিসেবে দেয়।

পরের দুই বছর নিম্নমূখী ধারা। যথাক্রমে ২০ ও ১০ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দেয়া হয় কিন্তু কোম্পানির ব্যবসা সম্প্রসারণ আর হয়নি। অন্যদিকে ৩০০ শতাংশ বোনাস শেয়ার দেয়ায় আয় আরও কমেছে। সে সময়ে যারা উচ্চমূল্যে সেই শেয়ার কিনেছেন, তারা এখন ব্যাপক হতাশ।

ডিএসই থেকে চিত্রটি মঙ্গলবার দুপুরে নেয়া

এরপরে ধীরে-ধীরে কমতে শুরু করে ২০ শতাংশ ও ১০ শতাংশ দেয়। ২০১৮ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত মুন্নু অ্যাগ্রোর বোনাস শেয়ারের হিসাব এটি। প্রথমে কোম্পানিটির নাম ছিল মুন্নু স্টাফলার। তখন তারা উৎপাদন করত পাটকলের যন্ত্রাংশ। এখন উৎপাদন করে কৃষি যন্ত্রপাতি।

এই ব্যবসা পরিবর্তনের জন্য পরিশোধিত মূলধন ব্যাপকভাবে বাড়ানো হয় তিন বছর আগে। আর তখন একে কেন্দ্র করে কোম্পানিটির শেয়ার দর বেড়ে যায় ২০ গুণের মতো।

কিন্তু যারা উচ্চমূল্যে সেই শেয়ার কিনেছেন, তারা এখন ব্যাপক হতাশ। কারণ বিপুল পরিমাণ লোকসান দিয়েছেন তারা। ফ্লোর প্রাইসের সময়ে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণের নিচে নামতে না পারায় লোকসান গুনে কেউ শেয়ার বিক্রি করতে চাচ্ছিলেন না। তারা অপেক্ষা করছেন, সোনার দামে রূপার হরিণ বিক্রি করবেন।

এখন ফ্লোর প্রাইস নেই। তবে ফ্লোর প্রাইস থেকে উঠে এসে দর কিছুটা বাড়লেও যারা বোনাস শেয়ার হাতে ধরে রেখেছেন তারা কী মুনাফা পেয়েছেন?

এ বিষয়ে কোম্পানি সচিব বিনয় পাল বলেন, আমাদের কোম্পানি ভালো চলছে। আমরা মূলত ২০১৮ সালে কোম্পানি সম্প্রসারণের জন্যই নগদ লভ্যাংশ না দিয়ে বোনাস লভ্যাংশ দিয়েছিলাম। সে সময় অ্যাগ্রো বেইস প্রোডাক্ট তৈরিতে বিনিয়োগ করা হয়েছিল। এখন হারভেস্টিং মেশিন, ভুট্টা মাড়াই মেশিন তৈরি করছি। এর বয়স বেশি না হওয়ায় মুনাফায় আসতে পারিনি।

সে সময়ে ৩০০ শতাংশ বোনাস শেয়ার যোগ হওয়ার পর ৫ হাজার ৮০০ টাকার শেয়ারের দাম সমন্বয় হয় এক হাজার ২৮৮ টাকা। পরের দুই বছরের লভ্যাংশ হিসাব করলে শেয়ারের দাম পড়ে ৯৭৬ টাকা ৪০ পয়সা।

ফ্লোর প্রাইস থেকে বের হয়ে ৭৯৪ টাকা ৮০ পয়সার শেয়ার নেমে আসে ৫৬৭ টাকা ৮০ টাকায়। সেখান থেকে উত্থান শুরু। মঙ্গলবার সকালে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি দর ছিল ৮৩৬ টাকা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here