ভয়াবহ ধসে বৈশ্বিক পুঁজিবাজার

0
652

ডেস্ক রিপোর্ট : ১৯৮৭ সালের ১৯ অক্টোবর ভয়াবহ এক ধসের মুখে পড়ে বৈশ্বিক পুঁজিবাজার। ওয়াল স্ট্রিটে ডাও জোনস ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজ সূচক পয়েন্ট হারায় এক-পঞ্চমাংশেরও বেশি। অন্য বড় শেয়ারবাজারগুলোতেও দেখা গিয়েছিল প্রায় একই পরিস্থিতি। ওইদিন সোমবার থাকায় বৈশ্বিক আর্থিক ইতিহাসে দিনটিকে স্মরণ করা হয় ‘ব্ল্যাক মানডে’ হিসেবে।

অনেকটা সেই ব্ল্যাক মানডেরই পুনরাবৃত্তি ঘটে ৯ মার্চ। একদিকে বিশ্বজুড়ে নভেল করোনাভাইরাসের ভয়াবহ প্রকোপ, অন্যদিকে জ্বালানির বাজারে সৌদি আরব ও রাশিয়ার মধ্যে আকস্মিক মূল্যযুদ্ধ—এ দুয়ের যুগপত্ সংক্রমণে টালমাটাল হয়ে পড়ে বৈশ্বিক শেয়ারবাজার। সেদিন ডাও জোনস ও এসঅ্যান্ডপি-৫০০ উভয় সূচকই প্রায় ৮ শতাংশ হারে পয়েন্ট হারায়।

ইতিহাসের পুনরাবৃত্তির এই ব্ল্যাক মানডেতে বিশ্বের শীর্ষ ১০ বিলিয়নেয়ারের নয়জনই সম্মিলিতভাবে প্রায় ৩ হাজার ৮০০ কোটি ডলারের সম্পদ হারিয়েছেন। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সম্পদ খুইয়েছেন ফরাসি ব্যবসায়ী মোগল ও বিশ্বের তৃতীয় শীর্ষ সম্পদশালী বার্নার্ড আরনল্ট। বিলাসী পণ্যের বিখ্যাত কোম্পানি এলভিএমএইচের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী তিনি।

৯ মার্চ পুঁজিবাজারে পতনের ধাক্কায় একদিনেই তার সম্পদমূল্য কমেছে ৬০০ কোটি ডলার, যা তার মোট সম্পদের প্রায় ৬ শতাংশ। ওইদিনের আগে শেয়ারবাজারের সর্বশেষ কার্যদিবস শুক্রবার তার মোট সম্পদমূল্য ছিল ৯ হাজার ৮৬০ কোটি ডলার, যা সোমবারের ধসে ৯ হাজার ২৬০ কোটি ডলারে নেমে যায়।

বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি জেফ বেজোস। তবে অ্যামাজন প্রতিষ্ঠাতার সাম্প্রতিক সময় খুব একটা ভালো যাচ্ছে না। আগের সপ্তাহেই ১ হাজার ৪১০ কোটি ডলার হারান তিনি। এ ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই গত সোমবার অ্যামাজনের শেয়ারদর ৫ শতাংশের বেশি কমে যায়। এদিন বেজোসের সম্পদমূল্য কমে ৫৬০ কোটি ডলার।

‘বিনিয়োগ গুরু’, ‘ওরাকল অব ওমাহা’ হিসেবে পরিচিত ওয়ারেন বাফেট। বিশ্বের সবচেয়ে সফল বিনিয়োগকারী ধরা হয় তাকে। কিন্তু তিনিও ব্ল্যাক মানডের প্রভাব থেকে বাঁচতে পারেননি। সোমবার এ কিংবদন্তি বিনিয়োগকারী সম্পদ হারান ৫৪০ কোটি ডলারের।

সেদিন তার কোম্পানি বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ের শেয়ারদর বছরের সর্বনিম্নে নেমে আসে। অবশ্য এ ভয়াবহ পতনের আঁচ বাফেট আগেই করতে পেরেছিলেন। সপ্তাহ দুয়েক আগে সিএনবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাত্কারে তিনি করোনাভাইরাসকে ‘ভয়ঙ্কর বিষয়’ হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে একে মার্কিন কোম্পানি ও অর্থনীতির জন্য প্রধান হুমকি হিসেবে সতর্ক করেন।

সম্পদ হারানোর দিক থেকে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছেন মেক্সিকান টেলিকম কোম্পানি টেলিমেক্সের সিইও কার্লোস স্লিম। বিশ্বের অষ্টম শীর্ষ ধনী স্লিম ও তার পরিবার সোমবার সম্পদ হারিয়েছেন ৪৮০ কোটি ডলার বা মোট সম্পদের ৮ শতাংশ। দিন শেষে তার সম্পদমূল্য দাঁড়ায় ৫ হাজার ৬৪০ কোটি ডলার।

ফ্যাশনের জগতে জারার খ্যাতি বিশ্বজোড়া। জারার চেইন ফ্ল্যাগশিপ স্টোরগুলো পরিচালনা করে ইনডিটেক্স ফ্যাশন গ্রুপ, যার সহপ্রতিষ্ঠাতা ও সিইও আমানসিও ওরতেগা। বার্নার্ড আরনল্টের পর ইউরোপের শীর্ষ ধনী তিনি। ব্ল্যাক মানডেতে তিনি সম্পদ হারিয়েছেন ২৮০ কোটি ডলার।

প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ দুই কোম্পানি অ্যালফাবেট ও ফেসবুক। গুগলের প্যারেন্ট কোম্পানি অ্যালফাবেটের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রধান নির্বাহী ল্যারি পেজ গত সোমবার সম্পদ হারিয়েছেন ৩৩০ কোটি ডলার। আর এদিন ফেসবুকের সহপ্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও সিইও মার্ক জাকারবার্গের সম্পদমূল্য কমেছে ৪২০ কোটি ডলার।

শুক্রবার মাইক্রোসফটের পরিচালনা পর্ষদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন এর সহপ্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক চেয়ারম্যান বিল গেটস। নিজ হাতে গড়া প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সাড়ে চার দশকের সম্পর্কের ইতি টেনে আপাতত মানবকল্যাণে বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের কাজে মনোযোগ দিতে চান তিনি।

গত মাসের শেষ দিকে প্রাণঘাতী করোনার মোকাবেলায় তার ও স্ত্রী মেলিন্ডা গেটসের নামে গড়া ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে ১০ কোটি ডলার প্রদানের ঘোষণা দেন তিনি। করোনাভাইরাস হয়তো এরই প্রতিশোধ নিয়েছে, একদিনে তার ৩৮০ কোটি ডলারের সম্পদ কেড়ে নেয়ার মাধ্যমে।

ব্ল্যাক মানডেতে মার্কিন কম্পিউটার প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ওরাকল করপোরেশনের শেয়ারদর কমে ৩ শতাংশ। এতে ১৮০ কোটি ডলার সম্পদ হারিয়েছেন কোম্পানিটির চেয়ারম্যান ও প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা ল্যারি এলিসন।

শীর্ষ ১০ বিলিয়নেয়ারের মধ্যে কেবল মাইকেল ব্লুমবার্গই নিজেকে ভাগ্যবান বলে মনে করতে পারেন। ব্ল্যাক মানডের কারণে একমাত্র তাকেই সম্পদ হারাতে হয়নি। কারণ তার মালিকানাধীন ম্যানহাটনভিত্তিক আর্থিক, সফটওয়্যার, ডাটা ও মিডিয়া কোম্পানি ব্লমবার্গ শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত নয়।

  • ফোর্বস অবলম্বনে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here