স্টাফ রিপোর্টার : পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে তফসিলি ব্যাংকগুলোকে বিশেষ তহবিল গঠনের সুযোগ দেয়ায় মঙ্গলবার বাজারে বড় ধরনের উত্থান হয়েছে। লেনদেনের পাশাপাশি বেড়েছে সূচকও। এ দিন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) লেনদেনে অংশ নেয়া প্রায় সব প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। এতে একদিনেই বাজার মূলধন বেড়েছে সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি। প্রধান মূল্য সূচক বেড়েছে প্রায় ২ শতাংশ।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পুঁজিবাজার নিয়ে সরকারের উপর মহল উদ্যোগ নেয়ায় বিনিয়োগকারীদের আস্থা বেড়েছে। তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে মন্দাভাব বিরাজ করায় স্টেকহোল্ডারদের একটি পক্ষ পুঁজিবাজারের জন্য বিশেষ তহবিল গঠনের দাবি জানাচ্ছিলেন।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে এসে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান এম খায়রুল হোসেন শেয়ারবাজার উন্নয়নে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ নেয়ার ঘোষণা দেন। কিন্তু ২ সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও তহবিল গঠনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ফের অনাস্থা তৈরি হয়। যার প্রভাব পড়ে সূচক এবং লেনদেনেও। এখন তহবিল গঠনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসায় বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। আশা করা যায়, বেশ কিছু দিন এ ধারা অব্যাহত থাকবে এবং বাজার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে।

পুঁজিবাজারের লেনদেন পর্যালোচনায় জানা গেছে, গত ৫-১৪ জানুয়ারি বাজারে বড় দরপতন ঘটে। এ সময় লেনদেন হওয়া ৮ কার্যদিবসের মধ্যে ৭ কার্যদিবসেই বড় পতন হয়। এতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান মূল্য সূচক ৪২৩ পয়েন্ট কমে যায়। এ পরিপ্রক্ষিতেই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন বিএসইসির শীর্ষ কর্তারা।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ফিরে বিএসইসি ঘোষণা দেয়, প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে পুঁজিবাজার উন্নয়নে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ নেয়া হবে। এরপর ১৯ জানুয়ারি বাজারে বড় উত্থান হয়। এতে একদিনেই ডিএসইতে ১৫ হাজার কোটি টাকার ওপরে বাজার মূলধন বাড়ে। আর প্রধান মূল্য সূচক বাড়ে সাড়ে ৫ শতাংশের উপরে।

তবে চলতি মাসের শুরু থেকে আবার পতনে পতিত হয় পুঁজিবাজার। টানা ৫ কার্যদিবস সূচকের পতনের পর গত সোমবার বিকেলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বিশেষ তহবিল গঠনের সুযোগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের জন্য প্রত্যেক ব্যাংক ২০০ কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠন করতে পারবে। নিজস্ব উৎস অথবা ট্রেজারি বিল বন্ডের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে তহবিলের এ অর্থ সংগ্রহ করতে পারবে ব্যাংকগুলো যা পরিশোধের সময় হবে ৫ বছর। আর ব্যাংকগুলো সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ সুদে এ তহবিল থেকে ঋণ দিতে পারবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক এ সুবিধা দেয়ায় মঙ্গলবার লেনদেনের শুরুতেই পুঁজিবাজারে বড় উত্থানের আভাস পাওয়া যায়, যা দিনের শেষ পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। লেনদেন শেষে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়ায় ৩ লাখ ৪১ হাজার ৩৪৯ কোটি টাকা, যা আগের দিন ছিল ৩ লাখ ৩৫ হাজার ৭৪৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ একদিনেই ডিএসইর বাজার মূলধন বেড়েছে ৫ হাজার ৬০৪ কোটি টাকা। মূলধন বাড়ার অর্থ হলো তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দাম সম্মিলিতভাবে ওই পরিমাণ বেড়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here