ব্যবসায় টিকে আছেন এখনো, নিশ্চয়ই আপনি সৌভাগ্যবান !

0
609

সিনিয়র রিপোর্টার : জীবন ও জীবিকা কেড়ে নেয়া করোনার উগ্র হামলা সামলাতে গিয়ে শুধু সাধারণ মানুষ নয়, ধসে পড়ছে অনেক রথী-মহারথীও। বিশ্বের বড় বড় কোম্পানি, বিশেষত ব্রিটিশ, ফরাসি ও মার্কিন ব্র্যান্ডগুলোর কী হাল করে ছেড়েছে কোভিড-১৯, এবার তা দেখে নেয়া যাক এক নজরে।

ইতোমধ্যেই নিজেদের দেউলিয়া ঘোষণা করেছে লাইফস্টাইল ভুবনের শীর্ষ খ্যাতিমান প্রতিষ্ঠান ভিক্টোরিয়াস সিক্রেট। প্রায় ১২শ স্টোর বন্ধ করে দিয়েছে জারা। লা চ্যাপেল বন্ধ করেছে তাদের ৪ হাজার ৩৯১টি স্টোর।

থেমে গেছে শ্যানেল ও হারমিসের কার্যক্রম। উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ রেখেছে পাতেক ফিলিপ্পি। উৎপাদন বন্ধ করেছে সুবিখ্যাত রোলেক্স কোম্পানি। এক প্রকার মুখ থুবড়ে পড়েছে গোটা বিশ্বের প্রসাধনশিল্প।

দুই মাসে ৫০ বিলিয়ন ডলার খুইয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম বিনিয়োগকারী ওয়ারেন বাফেট। দ্বিতীয় দফা শ্রমিক ছাঁটাইয়ের জন্য এরই মধ্যে ২৩ বিলিয়ন ডলার গুছিয়ে রেখেছে নাইকি। দেউলিয়া ঘোষিত হওয়ার জন্য আদালতে আবেদন করেছে গোল্ডস জিম।

এয়ারবিএনবি জানিয়েছে, তাদের ১২ বছরের পরিশ্রম ধূলিস্যাৎ হয়ে গেছে মাত্র ৬ সপ্তাহে। স্টারবাকস তাদের ৪০০ স্টোর চিরদিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে। যুক্তরাষ্ট্রে বন্ধ হয়ে গেছে নিশান মটর কোম্পানির সব ধরনের কার্যক্রম। বিশ্বের বৃহত্তম রেন্ট-এ কার কোম্পানি হার্জ আবেদন জানিয়েছে যাতে তাদেরও দেউলিয়া ঘোষণা করা হয়।

একই আবেদন জানিয়েছে ৪ হাজার ট্রাকের মালিক বৃহত্তম রেন্ট-এ ট্রাক কোম্পানি কমকার। বিশ্বের প্রাচীনতম রিটেইল কোম্পানি জেসি পেনির মালিকানা হাতবদল হয়ে চলে যাচ্ছে অ্যামাজনের হাতে।

বিশ্বের অর্থনীতিতে মহাদুর্যোগের আভাস দিচ্ছে বৃহত্তম বিনিয়োগকারী ব্ল্যাকরক। তাদের পুঁজির আয়তন ৭ ট্রিলিয়ন ডলার। বন্ধকী দায় পরিশোধ বন্ধ রেখেছে আমেরিকার বৃহত্তম শপিং মল চেইন, মল অব আমেরিকা। বিশ্বের সবচেয়ে খ্যাতিমান বিমান পরিবহন কোম্পানি এমিরেটস তাদের ৩০ শতাংশ কর্মী ছাঁটাই করেছে এ সময়ে। অর্থনীতি বাঁচিয়ে রাখার জন্য ট্রিলিয়ন ডলারের নোট ছেপেই চলেছে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি।

২০২০ সালে ১২ হাজার থেকে ১৫ হাজার স্টোর বন্ধ করে দিয়েছে নামি কোম্পানিগুলো। এসব কোম্পানির মধ্যে আছে জে ক্রু, গ্যাপ, ভিক্টোরিয়াস সিক্রেট, বাথ এন্ড বডি ওয়ার্কস, ফরএভার টুয়েন্টি ওয়ান, সিয়ার্স, ওয়ালগ্রিনস, গেমস্টপ, পিয়ার ওয়ান ইমপোর্টস, নরডস্ট্রম, প্যাপিরাস, চিকোস, ডেসটিনেশন ম্যাটারনিটি, মডেলস, এসি মুর, মেসিস, বোস, আর্ট ভ্যান ফার্নিচার, অলিম্পিয়া স্পোর্টস, কে মার্ট, স্পেশালটি ক্যাফে এন্ড বেকারি এবং আরো অনেক। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বেকার হয়ে গেছে ২৫ শতাংশের বেশি মানুষ। দেশটির ১৬ কোটি কর্মীর মধ্যে কাজ হারিয়ে পথে বসেছে ৪ কোটি।

এ তো গেল কেবল যুক্তরাষ্ট্রের চিত্র। আয়শূন্য হয়ে পড়ায় দুনিয়াজুড়েই পপাৎ ধরণীতল হয়েছে ভোক্তাচাহিদা এবং অর্থনীতি। করোনার থাবায় পাঁচ মাসের স্থবিরতাতেই দেউলিয়া হতে বসেছে লাখ লাখ কোম্পানি। অতএব আপনার নিজের ব্যবসা এবং কোম্পানিটি যদি এখনো কোনো কর্মী ছাঁটাই না করে থাকে, আপনি নিজেকে ভাবতে পারেন সৌভাগ্যবানদের দলে।

এমন এক মহামারির কবলে পড়েছে আজ মানবজাতি, যার নিরাময় জানা নেই তাদের। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০২০ সালের পরবর্তী ছয় মাস হতে যাচ্ছে করপোরেট ক্ষমতা আর ভোক্তা সম্পর্কের সামনে একটি বিরাট চ্যালেঞ্জ। ২০২০ সাল শুধুই টিকে থাকার কাল। অতএব নিজের ও প্রিয়জনের দিকে নজর রাখুন। খুশি থাকুন যতটুকু আছে, ততটুকু নিয়েই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here