২৭ বিমা কোম্পানির ন্যূনতম মূলধনের শর্ত বাতিলের উদ্যোগ

0
191

স্টাফ রিপোর্টার : পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির জন্য ২৭টি বিমা কোম্পানির মূল বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ন্যূনতম পরিশোধিত মূলধন ৭৫ কোটি টাকা থাকার শর্ত। ফলে পিছিয়ে যাচ্ছে আইপিও’র জন্য আবেদনের মেয়াদ। বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) তালিকাভুক্তির জন্য কোনো বীমা কোম্পানির ন্যূনতম পরিশোধিত মূলধন ৭৫ কোটি টাকা থাকার বাধ্যতামূলক শর্ত বাতিল করতে উদ্যোগ নিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সংশ্লিষ্ট আইন ‘পাবলিক ইস্যু রুলস’ থেকে ন্যূনতম মূলধনের ধারা প্রত্যাহারে সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে সুপারিশ করেছে বীমা নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এছাড়া পুঁজিবাজারে আসতে আবেদনের মেয়াদ এপ্রিল পর্যন্ত সময় বৃদ্ধি করা হয়েছে।

আইনের বিধান বাতিল করার জন্য আইডিআরএ’র পক্ষ থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেয়া হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়, আইডিআরএ এবং বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) ত্রিপক্ষীয় বৈঠক করে তা সুরাহা করার প্রস্তাব ওই চিঠিতে আছে। তবে এখন পর্যন্ত বৈঠকের সময় নির্ধারণ করা হয়নি।

অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো আইডিআরএ’র চিঠিতে বলা হয়, ‘পাবলিক ইস্যু রুলস’ বিধান অনুযায়ী আইপিও’র জন্য আবেদন করতে হলে বীমা কোম্পানিগুলোকে মুনাফা থাকতে হবে। কিন্তু অনেক জীবন বীমা কোম্পানির একচ্যুয়াল ভেলুয়েশনে দেখা গেছে, সারপ্লাস বা মুনাফা করার সক্ষমতা অর্জন করতে পারেনি কোম্পানিগুলো। এর পরিপ্রেক্ষিতেই ন্যূনতম পরিশোধিত মূলধন ৭৫ কোটি টাকা থাকার বাধ্যতামূলক শর্ত বাতিলের সুপারিশ করেছে আইডিআরএ।

বৈঠকে এটি ছাড়া আরও ৮টি সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- পুঁজিবাজারে আসতে আবেদনের মেয়াদ এপ্রিল পর্যন্ত বৃদ্ধি, জীবন বীমা প্রতিষ্ঠানে দ্রুত ইস্যু ম্যানেজার নিয়োগ ও একচ্যুয়াল ভেলুয়েশন শেষ করার নির্দেশ।

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সঙ্গে আইডিআরএ’র এক বৈঠকে গত বছরের ২৭ ডিসেম্বরের মধ্যে এই ২৭টি কোম্পানিকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির সিদ্ধান্ত হয়েছিল। কিন্তু নির্দিষ্ট ওই সময়ের মধ্যে এসব বীমা কোম্পানি পুঁজিবাজারে আসতে পারেনি। এর কারণ খতিয়ে দেখতে সম্প্রতি একটি বৈঠক করেছে আইডিআরএ।

বৈঠকে উঠে আসে- পুঁজিবাজারে কোনো বীমা কোম্পানিকে তালিকাভুক্ত হতে হলে ন্যূনতম ৭৫ কোটি টাকার পরিশোধিত মূলধন প্রয়োজন হয়। এর মধ্যে উদ্যোক্তাদের ৪৫ কোটি টাকা এবং জনগণের অংশ ৩০ কোটি টাকা। কিন্তু ওই ২৭টি কোম্পানির অধিকাংশের ক্ষেত্রেই পরিশোধিত মূলধনের উদ্যোক্তাদের অংশে ঘাটতি আছে।

২৭টি বিমা কোম্পানির মধ্যে ১৮টি লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি- সোনালী লাইফ, জেনিথ ইসলামি লাইফ, আলফা ইসলামি লাইফ, ডায়মন্ড লাইফ, গার্ডিয়ান লাইফ, যমুনা লাইফ, মার্কেন্টাইল ইসলামি লাইফ, স্বদেশ লাইফ, ট্রাস্ট ইসলামি লাইফ, বায়রা লাইফ, গোল্ডেন লাইফ, হোমল্যান্ড লাইফ, সানফ্লাওয়ার লাইফ, বেস্ট লাইফ, চার্টার্ড লাইফ, এনআরবি গ্লোবাল লাইফ, প্রোটেকটিভ ইসলামি লাইফ ও এলআইসি বাংলাদেশ।

বাকি ৯টি সাধারণ বীমা কোম্পানি- সেনাকল্যাণ ইন্স্যুরেন্স, ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স, মেঘনা ইন্স্যুরেন্স, সাউথ এশিয়া ইন্স্যুরেন্স, ইসলামি কমার্শিয়াল ইন্স্যুরেন্স, ইউনিয়ন ইন্স্যুরেন্স, দেশ জেনরেল ইন্স্যুরেন্স, এক্সপ্রেস ইন্স্যুরেন্স ও সিকদার ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here