বিদ্যুৎকেন্দ্রের মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়

0
375

স্টাফ রিপোর্টার : ওরিয়ন ফার্মাসিউটিক্যালস ও খুলনা পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের (কেপিসিএল) সাবসিডিয়ারি চার বিদ্যুৎকেন্দ্রের মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়। এ বিষয়ে এখনো বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) কাছ থেকে কোম্পানি দুটিকে কোনো কিছু জানানো হয়নি।

বিদ্যুৎকেন্দ্রের মেয়াদ বৃদ্ধির বিষয়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) চিঠির জবাবে গতকাল ওরিয়ন ফার্মাসিউটিক্যালস ও কেপিসিএল বিনিয়োগকারীদের এ তথ্য জানিয়েছে।

স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে কেপিসিএল জানিয়েছে, সম্প্রতি মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি দ্রুত সরবরাহ আইনের মেয়াদ ২০২৬ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে কোম্পানির সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তির (পিপিএ) বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি।

তবে আইনের মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়টি বেসরকারি খাতের বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলোর জন্য একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। ১১৫ মেগাওয়াটের কেপিসি ইউনিট-২ এবং নোয়াপাড়ার ৩০ মেগাওয়াটের কেপিসি বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিষয়টি পিপিএ নবায়নের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।

যদিও এখন পর্যন্ত বিপিডিবির কাছ থেকে এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। যথাযথ প্রক্রিয়ায় সরকারের কাছ থেকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসবে। এ অবস্থায় এ সংবাদের ভিত্তিতে কোম্পানির আর্থিক প্রভাব মূল্যায়নের বিষয়টি অপ্রাসঙ্গিক ও প্রযোজ্য নয়।

এদিকে ওরিয়ন ফার্মাসিউটিক্যালস স্টক এক্সচেঞ্জকে জানিয়েছে, মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি দ্রুত সরবরাহ আইনের মেয়াদ বাড়ানোর অনুমোদন দেয়া হয়েছে। কিন্তু বিদ্যুৎকেন্দ্রের মেয়াদ বাড়ানো সংক্রান্ত কোনো প্রস্তাব বৈঠকে উপস্থাপন কিংবা অনুমোদন করা হয়েছে বলে আমাদের জানা নেই।

তাই এ ধরনের সংবাদের কোনো ভিত্তি নেই। আমরা মনে করি একটি কায়েমি গোষ্ঠী শেয়ারবাজারকে প্রভাবিত করতে এ ধরনের গুজব ছড়াচ্ছে।

পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী এ বছরের ২৯ মে কেপিসিএলের ৪০ মেগাওয়াট নোয়াপাড়া কেন্দ্র কেপিসিএল-৩ এবং এ বছরের ১ জুন থেকে কেপিসি ইউনিট-২ ১১৫ মেগাওয়াট প্লান্টের উৎপাদন বন্ধ হয়েছে। বিপিডিবির সঙ্গে স্বাক্ষরিত পিপিএ অনুযায়ী কেন্দ্র দুটির মেয়াদ শেষ হয়। কেপিসিএলকে বিদ্যুৎকেন্দ্র দুটির উৎপাদন মেয়াদ শেষ হওয়ার যথাসময়ে বন্ধ করে দেয়ার জন্য চিঠিও দেয় বিপিডিবি।

এর আগে গত বছরই কেপিসিএলের পক্ষ থেকে কেন্দ্র দুটির মেয়াদ আরো পাঁচ বছরের জন্য বাড়াতে বিপিডিবির কাছে আবেদন করা হয়েছিল। যদিও এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি বিপিডিবি। তবে মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়টি নিয়ে সরকার ও বিপিডিবির সঙ্গে কোম্পানির আলোচনা চলছে।

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) পক্ষ থেকেও তালিকাভুক্ত বিদ্যুৎকেন্দ্রের মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনার জন্য অনুরোধ জানিয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিদ্যুৎ বিভাগের সচিবের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছিল।

কেপিসিএলের আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, ৩০ জুন সমাপ্ত ২০২০-২১ হিসাব বছরের প্রথম নয় মাসে (জুলাই-মার্চ) কোম্পানিটির আয় হয়েছে ৪৮২ কোটি ৪০ লাখ ৭৩ হাজার ২২৮ টাকা, যা আগের বছর একই সময় ছিল ৩৮৯ কোটি ১৩ লাখ ৮ হাজার ৫৯০ টাকা। সে হিসাবে নয় মাসে কোম্পানিটির আয় বেড়েছে ৯৩ কোটি ২৭ লাখ ৬৪ হাজার ৬৩৮ টাকা বা ২৪ শতাংশ।

আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী মুনাফা হয়েছে ১০৫ কোটি ১৪ লাখ ৭১ হাজার ৪২৩ টাকা, যা আগের বছর একই সময় ছিল ১০৪ কোটি ৪৮ লাখ ২৯ হাজার ৩৩৬ টাকা। নয় মাসে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ২ টাকা ৬৫ পয়সা। ৩১ মার্চ ২০২১ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ২৩ টাকা ৮৪ পয়সা।

এদিকে ওরিয়ন ফার্মাসিউটিক্যালসের ৯৫ শতাংশ মালিকানাধীন সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান নারায়ণগঞ্জের মেঘনাঘাটে অবস্থিত ১০০ মেগাওয়াট সক্ষমতার এইচএফওভিত্তিক ওরিয়ন পাওয়ার মেঘনাঘাট লিমিটেড বিদ্যুৎকেন্দ্রটির মেয়াদ শেষ হয়েছে এ বছরের ৭ মে।

আর নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে অবস্থিত ওরিয়ন ফার্মাসিউটিক্যালসের ৬৭ শতাংশ মালিকানাধীন সাবসিডিয়ারি ১০০ মেগাওয়াট সক্ষমতার এইচএফওভিত্তিক ডাচ-বাংলা পাওয়ার অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটস লিমিটেডের মেয়াদ শেষ হয়েছে এ বছরের ২০ জুলাই। ওরিয়ন ফার্মাসিউটিক্যালসের পক্ষ থেকে সাবসিডিয়ারি দুই বিদ্যুৎকেন্দ্রের মেয়াদ আরো পাঁচ বছরের জন্য বাড়াতে এরই মধ্যে বিপিডিবির কাছে আবেদন করা হয়েছে।

ওরিয়ন ফার্মার সমাপ্ত হিসাব বছরে কোম্পানিটির তিন প্রান্তিকে সমন্বিত ইপিএস হয়েছে ২ টাকা ৯৮ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ২ টাকা ৭৫ পয়সা। সেই হিসাবে সমন্বিত ইপিএস বেড়েছে ২৩ পয়সা বা ৮ দশমিক ৩৭ শতাংশ।

অন্যদিকে তৃতীয় প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) সমন্বিত ইপিএস হয়েছে ৯৫ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ৬১ পয়সা। ৩১ মার্চ ২০২১ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি সমন্বিত নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে (পুনর্মূল্যায়ন সঞ্চিতিসহ) ৭৮ টাকা ৭৮ পয়সা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here