বিএসইসিতে ‘সময় ও অর্থ নষ্ট করাব না’

0
748
অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম

সিনিয়র রিপোর্টার : নিজেদের অভিজ্ঞতার শিক্ষা নয়, ব্যবসাকে সহজ করে দিতে চাই। বিভিন্ন ধরনের কাজে মানুষকে সমস্যায় পড়তে দেখেছি। যেখানেই যায়, মানুষের শুধু সময় ও টাকা নষ্ট হয়। এটা চারিত্রিক বৈশিষ্ট হয়েছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের। এসব কথা বলেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম।

বিএসইসির ‘বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ’ -এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শনিবার সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, তবে আমরা চাই বিএসইসিতে এসে কেউ সময় নষ্ট করবে না। তাদের কোন রকমের সমস্যায় পড়তে হবে না। তাদের যা দেওয়ার, সেটা স্বল্প সময়ে দিয়ে দেব। সময় ও অর্থ নষ্ট করাব না। তাই দেওয়ার মতো হলে সাথে সাথেই দিয়ে দেব। কোন কিছু ঝুলিয়ে রেখে সময় নষ্ট করব না।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান অংশগ্রহণ করেন।

শিবলী রুবাইয়াত বলেন, আমরা মানুষের সময়ের মূল্য দিতে চাই। তাদের জীবনকে সহজ করে দিতে চাই। একটি মানুষকে যন্ত্রণা ও কষ্ট দিয়ে যদি সেই কাজ দিতেই হয়, তাহলে এর স্বার্থকতা নেই। আমরা এখান থেকে সমাজকে বের করে আনার চেষ্টা করছি। বিরক্ত করে কোন কিছু দিতে চাই না। আমাদের জনবল বেড়ে গেলে আরও ভালো সেবা দেব।

তিনি বলেন, আমরা পিছনের দিকে তাকাতে চাই না, সামনের দিকে তাকাতে চাই। সামনের দিকে তাকালে উৎসাহ উদ্দীপনা আসে। তাই সামনের দিকে তাকাতে চাই। আমরা সম্ভাবনা ও সাকসেস নিয়ে কথা বলতে চাই। আমরা সামনের দিকে সময় দিতে চাই।

বিএসইসির এই চেয়ারম্যান বলেন, গত ১-৩ বছর ধরে পরে থাকা আইপিওগুলো, যেগুলো নিয়মিত অ্যাকাউন্টস পরিবর্তন করে করে জমা দিয়েছে, আমরা সেগুলোর প্রায় সবগুলো সেপ্টেম্বরের মধ্যে ক্লিয়ার করে দিয়েছি। আর ২-১টি বাকি আছে। যা দেওয়ার তা দিয়ে ফেলেছি। যা বাতিল করার তা বাতিল করে দিয়েছি। ৩-৪টা হয়তো আছে।

তিনি বলেন, এগুলো আস্তে আস্তে ছেড়ে দিয়ে আমাদের সময়ে আসা প্রথম আইপিও নিয়ে কাজ করব। আগের যেগুলো ছিল, সেগুলো আমাদের বিচার বিবেচনা করে সিদ্ধান্তগুলো নিয়েছি। তারপরেও আমাদের কমিশনে যারা আছে, সবাইতো মানুষ। এখানে ছোটখাটো কিছু ভুল হতে পারে। সেগুলো আমাদের বিবেকের কাছে কাজ করবে।

তিনি আরো বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে একাডেমিশিয়ান হিসেবে যা দেখতে পেতাম, বাস্তবে এসে বাংলাদেশের সাংঘাতিক সম্ভাবনার ভবিষ্যত দেখছি। এই ভবিষ্যতের সঙ্গে কাজ করে খুবই আনন্দ পাচ্ছি।

আজকের অনুষ্ঠানে স্বচ্ছতা নিয়ে কথা এসেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা এ নিয়ে নিরীক্ষকসহ সব এসোসিয়েশনের সঙ্গে কথা বলেছি। এছাড়া এফআরসিতে আমাদেরই একজন কলিগ যোগদান করেছেন। তিনি আমাদেরকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করবেন।

আর্থিক হিসাব সঠিক হলে সবকিছু সহজ হয়ে যায় বলে জানান শিবলী রুবাইয়াত। কিন্তু যারা জালিয়াতি বা চালাকির জন্য আসেন এবং তাদেরকে যারা সহযোগিতা করেন, এই লোকগুলোকে আমরা চিহ্নিত করছি। আপনারা খেয়াল করবেন, গত ২-৩টি কমিশনকে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে বহিস্কার করেছি। তারা তালিকাভুক্ত কোম্পানির নিরীক্ষা কাজ করতে পারবে না।

তিনি বলেন, সুপারভিশন এবং মনিটরিং বাড়িয়েছি। কিছুটা আপনারা দেখতে পান। কিছুটা গোপনে করি। চেষ্টা করছি আতঙ্ক তৈরী না করে সুপারভিশন ও মনিটরিং বাড়ানো এবং এনফোর্সমেন্ট চালু রাখা।

এসময় সালমান এফ রহমান বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সপ্তাহে ২-৪দিন পরামর্শ দেন বলে জানান বিএসইসি চেয়ারম্যান। যেগুলো কমিশনকে সিদ্ধান্ত গ্রহনে সহযোগিতা করে।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন এবং সঞ্চালনা করেন বিএসইসির কমিশনার ড. শেখ সামসুদ্দিন আহমেদ। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কমিশনার ড. মিজানুর রহমান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here