শাহীনুর ইসলাম : বহুজাতিক কোম্পানি বৃটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ কোম্পানি লিমিটেডের (বিএটিবিসি) শেয়ারপ্রতি দরের ৭ বছরের গড়া স্বপ্নের পিরামিড রেকর্ড ডেটে ভেঙ্গে পড়েছে। লভ্যাংশ প্রদানের বিশাল চমক থাকলেও ধস ঠেকানো যায়নি।

তবে ইতোপূর্বে কখনো এমন ভয়াবহ রূপে ধসে পড়েনি, অনেক বিনিয়োগকারীর স্বপ্নের এই পিরামিড।

৭ বছরের শেয়ার দর বৃদ্ধির চিত্রটি স্টক বাংলাদেশ থেকে মঙ্গবার নেয়া

যদিও ধসে পড়ার আগে কোম্পানির পর্ষদ উৎপাদন বাড়াতে ১৯২ কোটি টাকা বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত ও নগদ ৩০০ শতাংশ চূড়ান্ত লভ্যাংশ (ঘোষিত মোট নগদ লভ্যাংশ মিলে ৬০০ শতাংশ) ও বোনাস শেয়ার দেয়ার ঘোষণা দেয়।

লভ্যাংশ ঘোষণার চিত্র

তবে চলতি বছরে ভয়াবহ ধসে নগদের সঙ্গে বোনাস শেয়ার ঘোষণাই বিশেষ কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সুদীর্ঘ ৪৪ বছরে কোম্পানিটি ধারাবাহিকভাবে বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণীয় হারে নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে বিএটিবিসি।

যদিও সর্বশেষ বছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় বা ইপিএস ছিল ৬০ টাকা ৪৮ পয়সা এবং আগের বছর ইপিএস হয়েছিল ৫১ টাকা ৩৭ পয়সা।

তবুও ফেব্রুয়ারি মাসের সর্বোচ্চ ১৮০০ টাকা দরের পিরামিড ৩ মার্চ রেকর্ড ডেটের দিনে ভেঙ্গে পড়ে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্চে (ডিএসই) সোমবারের তুলনায় মঙ্গলবারও দর ৪ টাকা কমে ৫৩৩ টাকায় লেনদেন হয়।

ডিএসইতে কোম্পানির রেকর্ড ডেটের ঘোষণা

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে ২ মার্চ ১০৪ কোটি ৭৮ লাখ টাকার শেয়ার বা ৬ লাখ ৭৩ হাজার শেয়ার হাতবদল হয়। তড়িঘড়ি করে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগকারী দিনটিতে শেয়ার হাত বদল করে যেন বেঁচে যান!

তবে ফের ভাঙা পিরামিড গড়ার চেষ্টা চলছে। ধসের পরে ১৫ মার্চ ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে ব্লক মার্কেটে ৫ কোটি ৮৬ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। যা ফের পিরামিড গড়ার আভাস হিসেবে দেখছেন অনেক বিনিয়োগকারী।

শেয়ার দরের চিত্র পর্যালেচনা করে দেখা গেছে, ১৯৭৭ সালে তালিকাভুক্ত কোম্পানিটির শেয়ারে ইতোপূর্বে কখনো এমন ধস হয়নি। কোম্পানির বেশিরভাগ শেয়ার ৭২.৯১ শতাংশ উদ্যোক্তা, প্রাতিষ্ঠানিক ১১.৫৯, সর্বনিম্ন ৪.৪২ শতাংশ সাধারণ বিনিয়োগকারী এবং বাকি শেয়ার বিদেশি বিনিয়োগকারীদের।

৭ বছরের ডিএসইতে শেয়ার দরের চিত্র

সিকিউরিটিজ আইন অনুসারে কাগুজে শেয়ারের বিপরীতে স্টক লভ্যাংশ নেয়ার সুযোগ নেই। এক্ষেত্রে লভ্যাংশ নিতে হলে শেয়ারকে ডিম্যাট করে তারপর বিও হিসাবের মাধ্যমে নিতে হবে। কিন্তু বিএটিবিসির উদ্যোক্তা রেলিগ ইনভেস্টমেন্টসহ আরো কিছু দেশী ও বিদেশী বিনিয়োগকারীর শেয়ারগুলো ডিম্যাট না করার কারণে এর বিপরীতে কোম্পানিটির কাছে বড় অংকের স্টক লভ্যাংশ জমা হয়ে আছে।

কমিশন সম্প্রতি এ-সংক্রান্ত একটি গাইডলাইন প্রণয়ন করেছে। এখন থেকে অপরিশোধিত লভ্যাংশের বিষয়টি এ গাইডলাইন অনুসারে নিষ্পত্তি হবে। আর বর্তমানে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে কোম্পানির তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে শেয়ার ডিম্যাট করেই লেনদেনের সুযোগ দেয়া হচ্ছে।

অবশ্য শেয়ার ডিম্যাট না করার কারণে বিএটিবিসির অপরিশোধিত লভ্যাংশ দীর্ঘদিন ধরে পুঞ্জীভূত থাকার বিষয়টিকে রহস্যজনক বলে মনে করছেন খোদ কমিশনের কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, হয়তো কোম্পানির কর-সংক্রান্ত কোনো ইস্যু থাকতে পারে, যার কারণে তারা শেয়ারগুলোকে ডিম্যাট করতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না।

এ কারণেও কোম্পানির শেয়ারপ্রতি দরে ধস নামতে পারে বলে মনে করেন অনেক বিনিয়োগকারী। তবে সম্ভাবনা ও আভাস দিচ্ছে। কোম্পানির মুনাফা বাড়ায় ধীরে ধীরে আবারো দর বৃদ্ধির আভাসও মিলছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here