বাপেক্সের দক্ষ জনবলের অভাব

0
71

স্টাফ রিপোর্টার : দক্ষ জনবলের অভাবে অনেক প্রতিষ্ঠানই মুখথুবড়ে পড়েছে। আবার জনবল স্বল্পতার পরেও শুধু দক্ষ জনবল থাকার কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান সাফল্যের মুখ দেখেছে। রাষ্ট্রীয় অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলন কোম্পানি বাপেক্স শুধু দক্ষ জনবলের অভাবে ডুবতে বসেছে।

গত ১০ বছরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনে তেমন সাফল্য দেখাতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। উপরন্তু এই প্রতিষ্ঠানটি এখন দেনার দায়ে ডুবতে বসেছে। বাপেক্সের এই অবস্থা নিয়ে খোদ বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন বাপেক্সকে ঢেলে সাজানো না হলে এই প্রতিষ্ঠানটি রাষ্ট্রের কোনো কাজে অবদান রাখতে পারবে না। ঋণ নিয়ে কোনো প্রতিষ্ঠানই বেশি দিন চলতে পারে না।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ জানান, সরকার সব সময়ই বাপেক্সকে শক্তিশালী একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করেছে, এখনো করছে। সব সময় পর্যাপ্ত অর্থের জোগান দেয়া হয়েছে। কিন্তু এই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মীদের মধ্যে কোনো আন্তরিকতা নেই।

যারা এই প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করছেন তারা তাদের জনবলকে দক্ষ করে গড়ে তোলার চেষ্টা করেননি। এই দক্ষ জনবলের অভাবেই বাপেক্সের মতো একটি প্রতিষ্ঠান এখনো মানসম্পন্ন প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠতে পারেনি।

জানা গেছে, বাপেক্সে দক্ষ জনবলের অভাব আগেও ছিল, এখনো আছে। এর প্রধান কারণ জনবল নেয়ার আগে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের বাইরের লোকজনকে নিয়োগ দেয়া। যেখানে একজন ভূতাত্ত্বিককে নিয়োগ দেয়া প্রয়োজন সেখানে একজন প্রকৌশলীকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

আবার যেখানে প্রকৌশলীর প্রয়োজন সেখানে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে ভূতাত্ত্বিককে। এরপর যাকে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে তার দক্ষতা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। ফলে মাঠ পর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে চরম সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। সিলেটের টেংরাটিলা গ্যাস ক্ষেত্রে বিস্ফোরণের সময় বাপেক্সের তৎকালীন এমডি ছিলেন একজন ভূতাত্ত্বিক।

ওই গ্যাসক্ষেত্রে বিস্ফোরণের বিষয়টি তিনি একেবারেই অনুধাবন করতে পারেননি। তিনি খনন প্রকৌশলী হলে বিস্ফোরণের আশঙ্কার বিষয়টি বুঝতে পারতেন।

জনবলের দক্ষতা বাড়ানোর ব্যাপারেও কর্তাব্যক্তিদের কোনো উদ্যোগ নেই বলেও অভিযোগ রয়েছে। বাপেক্সের ব্যবস্থাপনা কমিটির বেশির ভাগ সদস্যের কারিগরি জ্ঞান দেখে নেয়া হয় না। অথচ এক সময় বাপেক্সে দক্ষ জনবল ছিল। তাদের মূল্যায়ন হয়নি। তারা বিদেশের বিভিন্ন কোম্পানিতে এখনো কাজ করছে।

তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে বাপেক্সের সাফল্য খুবই কম। গত ১০ বছরে বাপেক্স ১ হাজার ৩০০ এমএমসি গ্যাস অনুসন্ধান করেছে। অথচ গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য বাপেক্সকে পর্যাপ্ত টাকা দেয়া হয়েছে। কিন্তু ড্রিলিং আশানুরুপ হয়নি।

তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে বিদেশি কোম্পানিগুলো সাফল্য পেলেও বাপেক্স সাফল্য পাচ্ছে না। অথচ বাপেক্স আগে বড় বড় প্রকল্পের কাজ করেছে। শুধু দক্ষ জনবলের অভাবেই এই প্রতিষ্ঠানটি সাফল্য পাচ্ছে না।

গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানটি এখন ঋণের দায়ে জর্জরিত। গ্যাস উন্নয়ন তহবিল থেকে ঋণ নিয়ে শোধ করতে পারছে না। ঋণ নিয়েই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, তবে দায় পুরোপুরি শোধ হচ্ছে না। গ্যাস উন্নয়ন তহবিল নীতিমালা অনুযায়ী সুদসহ ১০ বছরের মধ্যে ফেরত দেয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। বাপেক্স কতটা শোধ করতে পারবে তা এখন দেখার বিষয়।

গত ৮ বছরে বাপেক্স ১৯টি প্রকল্পের বিপরীতে ৩ হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণ নিয়েছে। ফেরত দিয়েছে মাত্র ২৫ কোটি টাকা। পুরো বাংলাদেশে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান করা বাপেক্সে জন্য উন্মুক্ত। কিন্তু একটি প্রকল্প দেখিয়ে তাদের প্রস্তুতি নিতে নিতেই বছর পার হয়ে যায়। কাজ আর শুরু হয় না।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ বদরুল ইমাম বলেন, সামনের দিনগুলোতে ব্যাপক গ্যাসের চাহিদা রয়েছে। এই চাহিদা মেটাতে হলে গ্যাসের উত্তোলন বাড়াতে হবে। নতুন নতুন গ্যাসক্ষেত্র খুঁজে বের করে গ্যাস উত্তোলনে বাপেক্সকে বড় ভূমিকা রাখতে হবে। সে জন্য বাপেক্সের সার্বিক কার্যক্রম আরো জোরদার করতে হবে।

বিশেষজ্ঞ ও দক্ষ জনবল দিয়ে আরো শক্তিশালী করতে হবে। বাপেক্স শক্তিশালী হলে আজ এলএনজি আমদানির প্রয়োজন হতো না। বাপেক্সকে ঢেলে সাজাতে হবে। নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকার দিকে নজর দিতে হবে।

বাপেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আলী বলেন, আমরা কাজ করে যাচ্ছি। কর্মীদের দক্ষতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বাপেক্স ২০০৯ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ১৭টি নতুন গ্যাস স্ট্রাকটার চিহ্নিত করেছে এবং এখন মোট ৩২টি প্রকল্পের কাজ চলছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here