‘বাজার ভালো-মন্দে বাংলাদেশ ব্যাংক দায়বদ্ধ’

0
1680

পুঁজিবাজার নিয়ে রাষ্টায়ত্ত অনেক প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। সব প্রতিষ্ঠানের চেষ্টা থাকছে আরো ভালো কিছু করার। এরমধ্যে কিছু পদক্ষেপ যুগান্তকারী হলেও সামান্য কিছুর ভুলে পদক্ষেপ ‘হিতে বিপরিত’ হয়ে দাঁড়ায়। যে কারণে সমগ্র পুঁজিবাজার খেসারত দেয়। ভুল-ত্রুটি মিলে তবু বাজার ভালো একটা অবস্থানে এসে দাঁড়িয়েছে। আরো ভালো করতে কিছু সময় লাগবে, এজন্য সময়ও দেয়া দরকার।

বাজার ভালো-মন্দের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের অনেক সীমাবদ্ধতা এবং দায়বদ্ধতা রয়েছে। তারা চাইলেই এটা সংস্কার করে আরো ভালো কিছু করতে পারেন। এমনটাই মনে করেন প্রিমিয়ার লিজিং সিকিউরিটিজ লিমিটেডের সিইও মনজুরুল আলম। (দ্বিতীয় পর্ব প্রকাশ করা হলো)

রাজধানীর মতিঝিল কার্যালয়ে সম্প্রতি একান্ত এক সাক্ষাতকারে উঠে আসে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের পরিবেশ ও বাংলাদেশ ব্যাংকের ভুমিকা নিয়ে নানা কথা। সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছেন –শাহীনুর ইসলাম।

পুঁজিবাজার নিয়ে কিছু দিন আগেও মানুষের মাঝে এতো সাড়া ছিলনা। কিছু মানুষ আসতো, তারা ব্যবসা করতো। আর অন্যলোকরা তাদের বিষয়ে সমালোচনা করতো। এটা ১৯৯৫ সালের কথা বলছি। এর পরবর্তী কিছু সময়ের সময়ের মধ্যে বাজার ফুলে-ফেপে ওঠে। এরই মধ্যে কতো লোক আসে এবং বাজার দখল করে, আমরা তা কেউ জানতাম না। এমনকি বাংলাদেশ ব্যাংক তখন এবিষয়ে মাথা ঘামাতো না। ‘৯৭সালে যখন বাজার ধাক্কা খেল। তখন অনুমান হলো, এর সঙ্গে কতো পরিবার জড়িত।  যখনি ধাক্কা আসে সরব হয়ে পড়ে পুঁজিবাজার, আর খবর বের হয় কে-কীভাবে জড়িয়ে পড়েছে। পর্যায় ক্রমে বাংলাদেশ ব্যাংককেও সরকার এর সঙ্গে যোগ করে।

স্টক বাংলাদেশ : বাংলাদেশ ব্যাংক যুক্ত হওয়ায় ভালো-মন্দের কোন দিক থাকলে আপনার দৃষ্টিতে-

মনজুরুল আলম : বাংলাদেশ ব্যাংক পুঁজিবাজারের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় একটা জবাব দিহীতার জায়গা এসেছে। ইতোমধ্যে অনেক ভালো করেছে এবং আগামীতে আরো ভাালো করবে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক অভিভাভক হিসেবে আসায় ব্যাংকগুলোর জাবাব দিহীতা বেড়েছে। এরমধ্যে পুঁজিবাজারের জন্য কিছু পদক্ষেপ সংস্কার করা দরকার বলে আমি মনে করি। তা হলো- মাজির্ন লোন বিষয়ে।

আমরা ব্রেকারেজ হিসেবে মার্জিন ঋণ দিয়েছি একজন ক্লায়েন্ডকে। আমার ঋণ ‍নিয়েছি ব্যাংক বা মাদার কোম্পনি থেকে। এখন ব্যাংক বা মাদার কোম্পানি যদি আমাদের ১৬, ১৭ ও ১৮ শতাংশ হারে চার্জ করে, তবে আমাদেরও একইভাবে  চার্জ করতে হবে। যেহেতু এখন ক্লায়েন্ডদের ইকুইটি নেগেটেভে, সুতরাং তাদের কাছ থেকেে ইন্টানেরস্টের টাকা পাওয়া যাচ্ছে না। অথচ ব্যাংক বা মাদার কোম্পানিগুলো আমাদের চার্জ করে যাচ্ছে।

যে কারণে ব্রোকারেজগুলো এই ব্যয়ভার বহন করতে গিয়ে দূর্বল হয়ে পড়ছে। একদিকে ক্লায়েন্ড থেকে পাচ্ছে না, অন্যদিকে তবু তাদের দিতে হচ্ছে। ক্লায়েন্ডের লস দিনে দিনে বাড়ছে। সে দেবে কিভোবে? এখন এই ব্যাংকগুলো যদি তাদের ইন্টারেস্টের হার কমায়ে দিত, যেভাবে টাকা এখন আইসিবি ব্রোকার হাউসকে দিচ্ছে, ৯ শতাংশ হারে। সে হারে যদি ব্যাংক বা মাদার কোম্পানিগুলো দিত তাহলে ব্রেকার হাউসগুলো এ সমস্যা থেকে মুক্তি পেত।

আইসিবি ব্রোকার হাউসকে ৯ পাসের্ন্ট হারে টাকা দিচ্ছে। এই দেয়ার পেছনে কারণ হচ্ছে- যাতে করে এসব ক্লায়েন্ডকে ব্রোকার হাউসরা মেরে না ফেলে। আইসিবি যদি ৯ শতাংশ হারে দিতে পারে, তবে ব্যাংকগুলো কেন পারবে না?

কিন্তু এখন এই ক্লায়েন্ডগুলো যদি মারা যায়- তাহলে চাপ তাদের ওপরও পড়বে। কারণ, তারা যদি না থাকে চাপ পড়বে হাউসগুলোর ওপর এবং ফাইন্যান্স প্রতিষ্টানগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ভবিষ্যতে এই চাপে মাদার কোম্পানি অর্থাৎ ব্যাংকগুলো ক্ষতির মুখে পড়বে।

স্টক বাংলাদেশ : বাংলাদেশ ব্যাংকের এখানে দায়বদ্ধতা কী-

মনজুরুল আলম : আছে। বাংলাদেশ ব্যাংক এখানে মধ্যস্ততা করছে। ব্যাংকগুলোকে বলছে- যা আয় করবেন তা ২০পারসেন্ট প্রভিশন রেখে দেবেন। প্রভিশন না রেখে যদি ইন্টারেস্টের হার কমিয়ে দেয়, তাহলে এডজাস্টমেন্ট হয়ে যাবে। ফলে ব্যাংকের ২০ পাসের্ন্ট প্রভিশন রাখার দরকার হবে না।

ইতোমধ্যে ২০১৫ সাল পযর্ন্ত প্রভিশন রাখার সারকুলেশন্ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক ঘোষণা দিয়েছে- ২০১৫ সাল পর্যন্ত ২০ পাসের্ন্ট প্রভিশন ব্যাংকগুলোর রাখতে হবে। যা আগে ২০১৪ পযর্ন্ত ছিল।

কথা হলো, মাদার কোম্পানিগুলো ইনকামের যে চিত্র দেখাচ্ছে- আসলে তা হচ্ছে না। প্রত্যেক ব্যাংক ইনকাম দেখাচ্ছে, আসলে তা রিয়েল ইনকাম না। তবে এখানে ব্যাপার হচ্ছে- ব্যাংকগুলো  ব্রোকার হাউকে যে ঋণ দিয়েছে তা ইন্টারেস্ট প্রফিট হিসাবে দেখালে পরবর্তীতে রিয়ালইজ করা অসম্ভব হবে।

যদিও লস কাটিয়ে উঠতে এই প্রভিশন রাখার কথা বলা হচ্ছে।

অনেক ব্রোকারেজের লাভ তো নাই তারা আবার প্রভিশন রাখবে কি? রিক্স ফ্রি হতে যে মানি প্রয়োজন তা কোথা থেকে আসবে? এখানে কথা হলো- আইসিবি ৯ পারসেনটে দিচ্ছে, ব্যাংকগুলোকেও ‘কস্ট অব ফান্ড’ নিয়ে চিন্তা করতে হবে। প্রভিশন ফি নিয়ে ভাবতে হবে। এটা কমালে বাজার আরো এগিয়ে যাবে বলে মনে হচ্ছে। একটা আরেকটার সঙ্গে জড়িত, বাংলাদেশ ব্যাংক ছাড় দিলে ব্রোকার হাউসগুলো ছাড় দেবে- । সবার মূলে-  ক্লায়েন্ড বাঁচলে সব বাঁচবে।

স্টক বাংলাদেশ : তবে বাংলদেশ ব্যাংক কি পদ্ধতি নিতে পারে-

মনজুরুল আলম : বাংলদেশ ব্যাংক পুঁজিবাজারের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় ভালো হয়েছে। আমার দিক থেকে সাজেশন হবে- যেহেতু যুক্ত করা হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ভেতরে স্টক মাকের্ট নিয়ে আরেকটি বিভাগ তৈরি করা  হোক। যারা শুধুমাত্র স্টক মাকের্ট নিয়ে মতামত দেবে-নেবে এবং কাজ করবে। সকল কাজের ভেতরে পুঁজিবাজার নিয়েও তারা কাজ করবে, তা নয়। এ জন্য আলাদা শাখা থাকবে। যারা সমস্যার সমাধান দেবেন, সম্ভাবনার কথা বলবেন এবং কাজ করবেন।

প্রত্যেকের এ বিষয়ে বিশেষ জ্ঞান থাকবে। তাদের মধ্যে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। ক্যাপিটেল মাকের্ট শাখায় যে যুক্ত হবেন তাকে অবশ্যই ৬ মাস মেয়াদী ডিপ্লোমা করা দরকার। না হলে পুঁজিবাজার নিয়ে কাজ করছে এমন প্রতিষ্ঠানে (জুনিয়র লেভেলে) ৩ থেকে ৬ মাসের প্রশিক্ষণ নিতে হবে। এনিয়ে অনেকে ভিন্নভাবেও মন্তব্য করতে পারেন। আমি মনে করি- গঠনমূলক এবং ইতিবাচক সমালোচনা হওয়া দরকার। তাহলে তাদের জন্য কাজ করতে ভালো হবে।

শুধু তাই নয়, ডিএসইতেও নতুন করে যারা আসবেন তাদের ক্যাপিটেল মাকের্ট নিয়ে প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করা দরকার। কারণ এখানে যারা কাজ করাবেন, তাদের প্রত্যেকে কম-বেশি এ বিষয়ে জানতে হবে। ভাড়া করা জ্ঞান দিয়ে কোন কাজ হয়না।

একই সঙ্গে তিনি ডিএসইর নতুন সফটওয়্যার নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে আশান্বিত হতে বলেন। কেননা, প্রতিদিন আমাদের ট্রেড বাড়বে। ন্যাটিং সুরিধার ফলাফল আসতে একটু সময় লাগবে।  ( তৃতীয় পর্ব আইপিও নিয়ে)

প্রথম পর্ব : ‘মার্কেটের পরিবর্তন আসছে’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here