বাজার থেকে তিন হাজার কোটি টাকা তুলবে বেক্সিমকো

0
1492

স্টাফ রিপোর্টার : সুদবিহীন সুকুক বন্ড ছেড়ে বাজার থেকে তিন হাজার কোটি টাকা তোলার চূড়ান্ত অনুমোদন পেল পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বেক্সিমকো লিমিটেড। এই টাকা তুলে বেশির ভাগ অংশই ২টি সৌরচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিনিয়োগ করবে প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি খাতবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের পারিবারিক প্রতিষ্ঠানটি।

বিদ্যুৎকেন্দ্র ২টি হলো- তিস্তা সোলার লিমিটেড ও করতোয়া সোলার লিমিটেড। এই ২টি কেন্দ্র বেক্সিমকো পাওয়ার লিমিটেডের সহযোগী প্রতিষ্ঠান। বন্ডের বাকি টাকা ব্যয় হবে বেক্সিমকোর টেক্সটাইলের ব্যবসা সম্প্রসারণে।

বুধবার পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) অনুমোদন দিয়েছে। কমিশনের সিদ্ধান্তে জানানো হয়েছে, এই সুকুক বন্ডের ৭৫০ কোটি টাকা বিদ্যমান শেয়ারধারীদের কাছ থেকে এবং ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা শেয়ারহোল্ডার বাদে অন্যান্য বিনিয়োগকারীর কাছ থেকে নেয়া হবে। বাকি ৭৫০ কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) ইস্যুর মাধ্যমে।

প্রতিটি বন্ডের অভিহিত মূল্য হবে ১০০ টাকা। বিনিয়োগকারীরা ন্যূনতম ৫ হাজার টাকা বিনিয়োগ করতে পারবেন। এর জন্য ৫০টি সুকুক পাবেন তারা। এর মেয়াদ পাঁচ হবে বছর, যা থেকে বিনিয়োগকারীরা কমপক্ষে ৯ শতাংশ মুনাফা পাবেন। এর আগে মঙ্গলবার বেক্সিমকোর পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে সুকুকের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয় এবং এ পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার তা ডিএসইর ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।

সুকুকটির ট্রাস্ট্রি হিসেবে থাকবে ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ এবং ইস্যু ম্যানেজার থাকবে সিটি ব্যাংক ক্যাপিটাল রিসোর্স ও অগ্রণী ইক্যুইটি এন্ড ইনভেস্টমেন্ট। কমিশনের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র রেজাউল করিম স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, বেক্সিমকোর পক্ষ থেকে অভিপ্রায়পত্র পাওয়ার পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে সুকুকের প্রস্তাবিত ট্রাস্টির নিবন্ধন সনদ প্রদান করা হবে।

জানা গেছে, গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাপুর ইউনিয়নের খোদ্দা ও লাঠশালার চরে ১ হাজার একর জমির ওপর ২০০ মেগাওয়াটের সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করছে তিস্তা সোলার লিমিটেড। এটিই হবে দেশে এ ধরনের সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র। ২০১৭ সালের ২৬ অক্টোবর তিস্তা সোলারের সঙ্গে সরকারের বিদ্যুৎ ক্রয় ও বাস্তবায়ন চুক্তি হয়েছে।

অন্যদিকে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ৩০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করছে করতোয়া সোলার লিমিটেড।

প্রসঙ্গত, সুকুক বন্ডে কোনো সুদ নেই। এটি ট্রাস্টির মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এই বন্ডের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করে মূলত বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। আর ওই প্রকল্পের মালিকানার অংশীদার হন সুকুক বন্ডের বিনিয়োগকারীরা, অন্য বন্ডে এই সুযোগ নেই। সুকুক বন্ডের বিনিয়োগ ব্যর্থ হলে ওই প্রকল্পের সম্পদ বিক্রি করে বিনিয়োগকারীদের অর্থ ফেরত দেয়ার সুযোগ থাকে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here