‘বাংলাদেশে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রচুর সম্ভাবনা’

0
184

ডেস্ক রিপোর্ট : বিএসইসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বলেন, এখানে লাভ করার প্রচুর সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যবসা-বাণিজ্যে প্রচুর সম্ভাবনা নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আমি আপনাদের সবাইকে আহ্বান জানাই আপনারাও এই উন্নয়নের সঙ্গী হোন।

অর্থনৈতিকভাবে বিশ্বের সম্ভাবনাময় দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ প্রথম সারিতে। সেই সম্ভাবনার সুনির্দিষ্ট কয়েকটি দিক আছে। এগুলো হলো বিশাল বাজার, শ্রমশক্তি, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা, স্থিতিশীল গণতন্ত্র ও সরকারের নীতি সহায়তা।

এসব বিবেচনায় নিয়ে বিনিয়োগের জন্য প্রবাসী ও বিদেশি উদ্যোক্তারা বাংলাদেশকে পছন্দের তালিকায় প্রথম স্থানে রাখতে পারেন।

নিউ ইয়র্কের হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে স্থানীয় সময় সোমবার বাংলাদেশে বিনিয়োগবিষয়ক সম্মেলনে বক্তারা এসব কথা বলেন।

এতে প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বলেন, ‘পরিকল্পিতভাবে এগোচ্ছে বাংলাদেশের অর্থনীতি। এ কারণে বিগত ১০ বছরে বিস্ময়কর অগ্রগতি হয়েছে। একজন সংসদ সদস্য হিসেবে আমি দেখেছি ইউনিয়ন পর্যায়ে চায়নিজ রেস্টুরেন্ট, বিউটি পার্লার, জিমনেসিয়াম এবং ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি হয়েছে। অর্থাৎ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বেড়েছে।

‘বর্তমান জনসংখ্যার বিবেচনায় বিশ্বের একটি বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ বাংলাদেশ। এ ছাড়াও বাংলাদেশে বিশাল শ্রমবাজার রয়েছে। বেশির ভাগ জনশক্তি তরুণ। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জনসংখ্যার বোনাসকল চলছে। বিনিয়োগের জন্য স্থিতিশীল গণতন্ত্র জরুরি। বাংলাদেশে সেটা রয়েছে। এ ছাড়া সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে দুর্নীতি নেই। নিম্ন পর্যায়ে দুর্নীতির কথা বলা হলেও ডিজিটালাইজেশনের কারণে তা কমে যাচ্ছে। এসব বিবেচনায় বাংলাদেশে বিনিয়োগ করা উচিত।’

সম্মেলনে বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘আগামীতে আইটির হাব হবে বাংলাদেশে।’

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বলেন, ‘এখানে লাভ করার প্রচুর সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যবসা-বাণিজ্যে প্রচুর সম্ভাবনা নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আমি আপনাদের সবাইকে আহ্বান জানাই আপনারাও এই উন্নয়নের সঙ্গী হোন।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের অর্থনীতির উন্নতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার যুক্তরাষ্ট্র। গত বছর জিডিপিতে বাংলাদেশ প্রতিবেশী দেশ ভারত, ভিয়েতনামসহ আরও অনেক দেশকে পেছনে ফেলেছে। গত এক দশক ধরে আমাদের গড় জিডিপি গ্রোথ ৬ দশমিক ৮ শতাংশ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সময়ে গত ১২ বছরে বাংলাদেশ অর্থনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সব কিছুতেই অসাধারণ উন্নতি করেছে। বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য অনেক কারণ রয়েছে।

‘…আমাদের খুব ভালো শ্রমিক রয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশে শিক্ষার হারও আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। অপরদিকে শিক্ষিত ও আধাশিক্ষিত শ্রমশক্তি রয়েছে, যারা বাংলাদেশের অর্থনীতির উন্নতিতে খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ ছাড়াও আমরা ইন্ডাস্ট্রিয়াল পণ্য উৎপাদনে খরচ অনেক কমিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি, যার ফলে বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহ বাড়ছে।’

বাংলাদেশ কেন বিনিয়োগের উপযুক্ত, তার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘আমাদের পলিসিসহ সব কিছু ব্যবসাবান্ধব। বর্তমানে সরকারি কর্মকর্তাসহ সবার চিন্তাভাবনায় পরিবর্তন আসছে। তারা সবাই ব্যবসায়ীদের ও ব্যবসায়ের পক্ষে কাজ করছেন। এটি ব্যবসায়ের জন্য একটি ভালো দিক।’

শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বলেন, ‘আমরা বিশ্বের সব প্রান্তের মানুষকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানাই। আমাদের ব্যবসাবান্ধব সরকার, পলিসি এবং নিয়মকানুনসহ সব কিছুই ব্যবসার পক্ষে। এ ছাড়া গত ১২ বছরে বাংলাদেশ সরকার প্রচুর বিদ্যুতের চাহিদা মিটিয়েছে, যার ফলে বিদ্যুতের ঘাটতি কমেছে। এখন কোনো বিদ্যুৎ সমস্যা নেই। এ ছাড়া কারখানার গ্যাস চাহিদা মেটানো হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘এফডিআইতে (ফরেন ডিরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট) সরকার অনেক ধরনের সুবিধা দিচ্ছে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের। গত ১০ বছরে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য হাইটেক পার্কে ২২ শতাংশ ট্যাক্স কমানো হয়েছে। হাইটেক পার্কে তাদের ৮০ শতাংশ ভ্যাট ইউটিলিটি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য কোনো ইক্যুইটি সীমাবদ্ধতা রাখা হয়নি। তাদের জন্য প্রথম বছর ৫০ শতাংশ ভ্যাট ছাড় দেওয়া হয়েছে।

‘এ ছাড়াও এক্সপোর্ট অরিয়েন্টেড রেভিনিউর জন্য ১০ শতাংশ ক্যাশব্যাক দিচ্ছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ বিনিয়োগকারীদের প্রচুর লাভ দেওয়ার চেষ্টা করে। এর জন্য বাংলাদেশ পুঁজিবাজার অনেক ভালো নিয়ম করেছে, যার ফলাফল পুঁজিবাজারে ইতোমধ্যে দেখা গেছে। হংকংয়ের ফ্রন্টিয়ার জার্নালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে বাংলাদেশ এশিয়ার সেরা পুঁজিবাজারে উঠে এসেছে।’

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব আবদুর রউফ তালুকদার, বাণিজ্যসচিব তপন কান্তি ঘোষ, রপ্তানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বেপজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. নজরুল ইসলাম, হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস প্রেসিডেন্ট লরেন্স হেনরি সামার্স, বিএসইসির কমিশনার ড. মিজানুর রহমান, বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান ও কামরুল আনাম খান।

স্পন্সর হিসেবে রয়েছে ইস্টার্ন ব্যাংক, নগদ ও ওয়ালটন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here