বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান হিসাবে যোগদান করে দায়িত্ব পালন করছেন অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম। দায়িত্ব গ্রহণ করে বাজারসংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে বাজারের উন্নয়ন করবেন বলে আশা করেন তিনি। পুঁজিবাজারের সার্বিক বিষয় নিয়ে সম্প্রতি নানান কথা হয় তার সঙ্গে। তার চুম্বক অংশ পাঠকদের জন্য তুলে ধরেছেন মুস্তাফিজুর রহমান নাহিদ

  • দীর্ঘদিন থেকে পুঁজিবাজারের সার্বিক পরিস্থিতি ভালো নয়। সম্প্রতি এর সঙ্গে যোগ হয়েছে করোনাভাইরাস মহামারি, যে কারণে বহুদিন পুঁজিবাজার বন্ধ রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে দায়িত্ব নেওয়াটা কতটা চ্যালেঞ্জিং মনে করছেন?

শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম: হ্যাঁ, এ অবস্থায় দায়িত্ব নেওয়াটা চ্যালেঞ্জ বটে। তবে চ্যালেঞ্জ অনেক সুযোগ সৃষ্টি করে। আমি মনে করি, অনেক বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি আমরা। আমরা এই চ্যালেঞ্জটিকে সবার সহযোগিতায় মোকাবিলা করব।

এছাড়া আগামী দিনগুলোয় বাজারকে একটি সত্যিকার রূপ দেওয়ার চেষ্টা করব। বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে আগে কাঠামো ছিল না, কিন্তু গত ১০ বছরে আমরা কাঠামো পেয়েছি। প্রয়োজনীয় আইনকানুন ও নীতিমালা তৈরি হয়েছে। এতে আমাদের কাজ করতে সুবিধা হবে। এখন আমাদের সবার দায়িত্ব একটা ভালো ক্যাপিটাল মার্কেট তৈরি করা।

  • বর্তমানে করোনাভাইরাসের কবলে পড়ে সারা বিশ্ব নাকাল। প্রভাব পড়েছে আমাদের দেশেও। পুঁজিবাজারে এর প্রভাব কতটা পড়েছে বলে মনে করছেন?

শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম: সারা বিশ্বের মতো আমাদেরও এই ভাইরাসটিকে মোকাবিলা করতে হচ্ছে। এতে অর্থনীতির যেমন ক্ষতি হচ্ছে, তেমনি পুঁজিবাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। দীর্ঘদিন বাজার বন্ধ থাকায় বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। কারণ এখানে তাদের অনেক অর্থ আটকে পড়ে রয়েছে। এটা একটা বড় ক্ষতি। এটা কাটিয়ে উঠতে সময় লাগবে।

  • বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে সর্বশেষ বহুজাতিক কোম্পানি হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছে গ্রামীণফোন। সেটা ২০০৯ সালে। এরপর আর এমন কোম্পানি দেখা যায়নি। এ ধরনের কোম্পানির তালিকাভুক্তির বিষয়ে আপনার কী পদক্ষেপ থাকবে?

শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম: দায়িত্ব গ্রহণ করেই আমি এ বিষয়ে মিটিং করেছি। পুঁজিবাজারের জন্য বহুজাতিক কোম্পানির গুরুত্ব অনেক বেশি। এসব কোম্পানির শেয়ারের চাহিদা বেশি। তবে এ কথাও সত্যি, তাদের পুঁজিবাজারে নিয়ে আসাও একটি কঠিন কাজ। কারণ এসব কোম্পানি তাদের দেশে যেমন সুবিধা পায়, আমাদের এখানে সেই ধরনের সুবিধা নেই।

ব্যক্তিগতভাবে অনেক বিদেশি কোম্পানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমার ভালো সম্পর্ক রয়েছে। সম্পর্কটা দীর্ঘ দিনের। তাই চেষ্টা থাকবে সেইসব কোম্পানি আমাদের দেশে নিয়ে আসা এবং পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করার। পাশাপাশি যেসব কোম্পানি এখন আমাদের দেশে রয়েছে, তাদেরও পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির জন্য যে পদক্ষেপ নেওয়া দরকার তা নেব। এসব কোম্পানি পুঁজিবাজারে নিয়ে আসব।

  • সরকারি কোম্পানির শেয়ার অফলোড এবং এসব কোম্পানি পুঁজিবাজারে নিয়ে আসার বিষয়টি দীর্ঘদিন থেকে ঝুলে রয়েছে। এ বিষয়টিকে আপনি কীভাবে গুরুত্ব দেবেন?

শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম: বিয়য়টি নিয়ে এরই মধ্যে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। তিনিও চান পুঁজিবাজারে এ ধরনের কোম্পানির তালিকাভুক্তি ঘটুক। এসব কোম্পানি পুঁজিবাজারে নিয়ে আসার জন্য যত ধরনের সহযোগিতা দরকার অর্থমন্ত্রী তা করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। আমার ইচ্ছা রয়েছে দ্রুত এসব কোম্পানি বাজারে নিয়ে আসার।

  • বহুজাতিক ও সরকারি কোম্পানি ছাড়া অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের তালিকাভুক্তির ব্যাপারে আলাদা করে কিছু ভেবেছেন কি?

শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম: এসব কোম্পানি নিয়ে আমার আলাদা ভাবনা রয়েছে। আমার চেষ্টা থাকবে, এসব ভালো মানের কোম্পানি পুঁজিবাজারে নিয়ে আসার। কারণ ভালো মানের কোম্পানির তালিকাভুক্তি ঘটলে বাজার যেমন ভালো হয়, তেমনি বিনিয়োগকারীরাও উপকৃত হন। তাই সবার আগে বিনিয়োগকারীদের কথা ভাবব। তাদের স্বার্থেই বাজারে ভালো কোম্পানি আসা দরকার।

  • বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে কী বলবেন?

শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম : এ প্রশ্নের উত্তর সম্ভবত আগেই দিয়েছি। এ বাজারটা বিনিয়োগকারীদের নিয়ে। তাই কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার সময় সবাই আগে তাদের কথা ভাবব। তারা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সেদিকে নজর থাকবে। আর করোনা পরিস্থিতিতে তাদের বলব ধৈর্যধারণ করতে। পাশাপাশি সবাইকে সাবধানে থাকতে অনুরোধ করব।

– সাক্ষাৎকারটি সংগৃহিত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here