বছরজুডে গেল প্লেসমেন্ট কেলেঙ্কারির ধকল

0
321

বিশেষ প্রতিনিধি : ২০১০ সালের মহাধসের নয় বছর পর ২০১৯ সাল ছিলো পুঁজিবাজারের ইতিহাসে আরেক দফা ধসের বছর। এই বছর ছোট-খাটো ৯-১০টি ইস্যু থাকলেও সবচেয়ে বড় কেলেঙ্কারি ছিল পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত-অতালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর প্লেসমেন্ট বাণিজ্য।

গত আট-নয় বছরে ৮০টির বেশি কোম্পানি প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিওর) মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে অন্তত ৪০-৪৫হাজার কোটি টাকা তুলে নেয়। আর দেশের পুঁজিবাজারে এই ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটে বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএমবিএ), ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের দুজন সাবেক পরিচালক এবং বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) যোগসাজশে।

এর আগে ২০০৯-১০, ২০১১ সালে নবী উল্লাহ নবীর নেতৃত্বে ‘গ্রীন বাংলা’ নামক প্রতিষ্ঠানে প্লেসমেন্ট বাণিজ্য হয়। এই প্লেসমেন্ট বাণিজ্যেই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। তাতে ১ লাখ ৫০ হাজার নতুন বিনিয়োগকারী পুঁজিবাজার ছেড়েছেন।

কেবল প্লেসমেন্ট বাণিজ্যের ইস্যুতেই ডিএসইর সঙ্গে বিএসইসি দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ে। গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হওয়ায় রাস্তায় নামে বিনিয়োগকারীরা। শুরু হয় নতুন করে আইপিওর অনুমোদন বন্ধ রাখার অন্দোলন। এর ফলে কমিশন ২০১৯ সালে প্রায় ৯ মাস আইপিওর অনুমোদন বন্ধ রাখে।

ফলে ২০১০ থেকে ২০১৯ এই ৯ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম কোম্পানির আইপিওর অনুমোদন দেয় বিএসইসি। এই বছর ৮টি কোম্পানি পুঁজিবাজার থেকে ৬৪১ কোটি ৯৩ লাখ টাকা সংগ্রহ করে।

নাম না প্রকাশের শর্তে ডিএসইর পরিচালক বলেন, পুঁজিবাজারের এই অবস্থার মূল কারণ কেবল অনৈতিক প্লেসমেন্ট বাণিজ্য। প্লেসমেন্ট বাণিজ্য না হলে, কোনো ইস্যু পুঁজিবাজারকে ‘ঘায়েল’ করতে পারতো না। বিদেশিরা বাজার ছাড়তো না। দেশি ব্যক্তি বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরাও বাজার বিমুখ হতেন না।

বিএসইসির তথ্য মতে, ১১ বছরের মধ্যে ২০১৯ সালে পুঁজিবাজারে শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে সর্বনিম্ন অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে। এ বছরে বাজারের মাধ্যমে ৬৪১ কোটি ৯৩ লাখ টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে। যার পরিমাণ ২০১৮ সালেও ছিল ৬৫৫ কোটি ৪০ লাখ টাকা।

হিসাবে বছরের ব্যবধানে বাজার থেকে অর্থ সংগ্রহ কমেছে ১৩ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। তবে এই ব্যবধানটা অনেক বড় হতে পারত, যদি রিং সাইন ইন্ডাস্ট্রিজ কোম্পানিটি একাই ১৫০ কোটি টাকা উত্তোলন না করত।

ডিএসইর পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন বলেন, আইপিওতে ভালো ও মন্দ উভয় কোম্পানি আসে। ডিসক্লোজারস ভিত্তির আইপিওতে অনেক ফাঁকফোকর থাকার সুযোগে কিছু দুর্বল কোম্পানি পুঁজিবাজারে চলে এসেছে। তাই বলে আইপিও বাজারে আসা বন্ধ করা যাবে না। বন্ধ করতে হবে মন্দ আর্থিক প্রতিবেদন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here