প্রাণহীন বন্ড মার্কেটকে ফের চাঙ্গা করার চেষ্টা বিএসইসির

0
202

স্টাফ রিপোর্টার : দীর্ঘমেয়াদী পুঁজির চাহিদা মেটাতে দেশের বন্ড মার্কেটকে শক্তিশালী করতে পূর্ণাঙ্গ একটি রূপরেখা দাঁড় করিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটি এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। পাশাপাশি টেকসই বন্ডমার্কেট প্রতিষ্ঠায় পুঁজিবাজারকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চায় নতুন এই কমিশন।

এছাড়া প্রাণহীন বন্ড মার্কটে ফের চাঙ্গা করতে ইত্যোমধ্যে ১২ টি কোম্পানিকে ৫ হাজার ২৬০ কোটি টাকার বন্ড ইস্যু করার অনুমোদন দিয়েছে বিএসইসি। সেই সঙ্গে শর্ত দেওয়া হয়েছে তালিকাভুক্ত করে লেনদেন চালু করার।

জানা গেছে, দীর্ঘ ৪৫ বছর পার হলেও গড়ে উঠেনি আধুনিক পুঁজিবাজার। ফলে সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে বাজারে আসেনি নতুন প্রোডাক্ট। এখনো রয়ে গেছে ইক্যুইটি নির্ভর বাজার। ফলে ঝুঁকি রয়েছে বিনিয়োগকারীদের। ঝুঁকিপূর্ণ বাজারকে একটি নিরাপদ বিনিয়োগের জায়গা করার জন্য কাজ করছে নতুন কমিশন।

তাদের মতে, নতুন কিছু পণ্য বাজারে আসলে, আসবে নতুন বিনিয়োগকারী। নির্ধারিত আয়ের পণ্য থাকলে বাজারে সক্রিয় হবে সিনিয়র সিটিজেনরা। পুঁজিবাজার থেকে অবদান বাড়বে জাতীয় অর্থনীতিতেও। পুঁজিবাজারে যুক্ত হবে নতুন মাত্রা।

বিএসইসির সূত্র মতে, ইতোমধ্যে নতুন কমিশনের হাত ধরে দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি বিদেশী কোম্পানিগুলোও বন্ড ইস্যু করার জন্য এগিয়ে এসেছে। ১২টি বন্ডের মধ্যে একটি বিদেশী কোম্পানিও রয়েছে।

নতুন কমিশনের অনুমোদন দেওয়া সবচেয়ে বড় বন্ড হলো বহুজাতিক কোম্পানি স্ট্যান্ডার্ড চাটার্ড ব্যাংকের। ব্যাংকটি ৮৫০ কোটি টাকার বন্ড ইস্যু করতে চায়। ইতোমধ্যে কমিশন ব্যাংকটিকে বন্ড ইস্যু করার অনুমোদন দিয়েছে।

এছাড়াও স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক, ন্যাশনাল ক্রেডিট এন্ড কমার্স ব্যাংক, আল আরাফা ইসলামি ব্যাংক, সাউথ ইস্ট ব্যাংক এবং ডাচ-বাংলা ব্যাংক লিমিটেডকে অনুমোদন দিয়েছে বিএসইসি। আর প্রতিটা ব্যাংককে ৫০০ কোটি টাকা করে বন্ড ইস্যু করারও অনুমোদন দিয়েছে কমিশন।

অপরদিকে ৪০০ কোটি টাকা করে বন্ড ইস্যুর অনুমোদন পেয়েছে যমুনা ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, ওয়ান ব্যাংক এবং মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেড। এছাড়া ২১০ কোটি টাকার বন্ড ইস্যু করার অনুমতি পেয়েছে প্রাণ এগ্রো লিমিটেড। এবং ১০০ কোটি টাকার বন্ড ইস্যু করবে আমরা নেটওয়ার্ক লিমিটেড।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বলেন, অনেক কিছুর সাথে আমরা বন্ড নিয়েও কাজ করছি। বিভিন্ন ধরনের বন্ড কীভাবে বাজারে আনা যায় সেই চেষ্টা করছি। তিনি  আরো বলেন, ইক্যুইটি নির্ভর বাজারে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য বন্ড হবে বিকল্প পণ্য। নির্ভয়ে যাতে বিনিয়োগকারীরা বাজারে আসতে পারেন সেই ব্যবস্থা করতে চাই। পুঁজিবাজারের মাধ্যমে বন্ড দিয়ে জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখতে চাই।

এদিকে, বন্ডের লেনদেন নিয়ে ইতোমধ্যে পর্যবেক্ষণ করেছে ডিএসই। পর্যবেক্ষণে লেনদেন না হওয়ার পেছনে বেশকিছু কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় কারণ হলো অথোরাইজড ডিলাররা (এডি) এসব বন্ডের লেনদেনের জন্য প্রস্তাব করেনি। বাংলাদেশ ব্যাংকের ট্রেজারি বন্ডের নিলাম হলেও শুধু প্রাইমারি ডিলাররা এতে অংশ নেয়। এছাড়া বন্ডের লেনদেনের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক আলাদা একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে। যাকে মার্কেট ইনফ্রাস্ট্রাকচার মডিউল বা এমআইএম বলা হয়।

উল্লেখ্য, ১৯৮৮ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত মাত্র তিনটি কর্পোরেট বন্ড ও চৌদ্দটি ডিবেঞ্চার ইস্যু করা হয়েছে। বন্ডগুলোর স্থিতি দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) মাত্র ০.২ শতাংশ। এছাড়া ব্যাংকগুলো ১৯ হাজার ৮২৪ কোটি টাকার মোট ৫৭টি সাব-অর্ডিনেট বন্ড ইস্যু করেছে। ২০০৫ সালে ডিএসইতে সরকারী ট্রেজারি বন্ড তালিকাভুক্ত হয়। সর্বশেষ তালিকাভুক্তির কার্যক্রম শেষ হয় ২০১১ সালের ৩০ অক্টোবর। আর বর্তমানে বাজারে মোট ৪ মেয়াদের বন্ড রয়েছে- ৫ বছর, ১০ বছর, ১৫ বছর এবং ২০ বছর। ট্রেজারি বন্ডের প্রত্যেকটিরই অভিহিত মূল্য এক লাখ টাকা। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোন লেনদেন হয়নি। এমনকি ডিএসইর ওয়েবসাইটেও এসব বন্ডের তেমন কোন তথ্য নেই। তবে এর বাইরেও তিনটি কর্পোরেট বন্ড রয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here