শাহীনুর ইসলাম : পুঁজিবাজারে বিভিন্ন কারণে তারল্য সঙ্কট কাটছে না। বিগত বছরের তুলনায় চলতি বছরে সঙ্কট আরো ঘনিভূত হয়েছে। আস্থার সঙ্কটের বাজারে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে পুঁজিবাজারে ভালো কোম্পানি না আসায় সেকেন্ডারি মার্কেটে বিনিয়োগ খরা কাটছে না। অন্যদিকে আইপিও খরাও প্রকট আকার ধারণ করেছে।

তবে নতুন এবং ভালো কোম্পানির আইপিও এলে পুঁজিবাজারে অর্থের যোগান বাড়ে এবং তারল্য সঙ্কট কমে বলে মনে করেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। দেশীয় কোম্পানি ওয়ালটন হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড সেই সঙ্কট রোধ করবে বলে মনে করেন তারা।

ডাচ অকশন পদ্ধতিতে ১০০কোটি টাকা তুলতে দেশে প্রথম এ প্রক্রিয়ার অনুমোদন পায় কোম্পানিটি। প্রচলিত প্রক্রিয়ায় ইতোপূর্বে জালিয়াতি হওয়ার কারণেই এমন উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

তবে ‘শক্তিশালী পুঁজিবাজার গড়তে হলে ভালো মানের কোম্পানি বেশি থাকতে হবে’ বলে মনে করেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী।

তিনি স্টক বাংলাদেশকে বলেন, ‘গত কয়েক বছরে যেসব কোম্পানি বাজারে এসেছে তার বেশির ভাগ দুর্বল আর্থিক ভিত্তির প্রতিষ্ঠান। ভালো মানের কোম্পানি আনতে বিএসইসি ও স্টক এক্সচেঞ্জ কর্তৃপক্ষ ব্যর্থ। তাদের এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়া দরকার।’

ওয়ালটন হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড আস্থার যোগান দেবে বলে মনে করেন অনেক বিনিয়োগকারী। পুঁজিবাজার থেকে ১০০ কোটি টাকা উত্তোলন অপেক্ষমান কোম্পানির নতুন পদ্ধতিতে কাট অফ প্রাইজ নির্ধারিত হয়েছে ৩১৫ টাকা।

একই সঙ্গে ভালো মানের কোম্পানিগুলো আইপিওতে আনার তাগিদ প্রকাশ করেন দেশের শীর্ষ মার্চেন্ট ব্যাংক এএফসি ক্যাপিটাল লিমিটেডের সিইও মাহবুব মজুমদার।

তিনি স্টক বাংলাদেশকে বলেন, নতুন বছরে আইপিও অনুমোদন পেয়েছে অনেক কম। যেসব অভিযোগে আইপিও অনুমোদন প্রায় বন্ধ রয়েছে, তা কতুটুক সঠিক? এতে মার্কেটের আরো ক্ষতি হচ্ছে। তবে কমিশনে আবেদন করা হলেই যে আইপিও মিলবে বিষয়টি এমন নয়; অনুমোদন না পাওয়ারও অনেক কারণ রয়েছে। কিন্তু ভালো মানের কোম্পানিগুলোকে দ্রুত অনুমোদন দেয়ার তাগিদ প্রকাশ করেন তিনি।

পুঁজিবাজারে আইপিও খরা কাটাতে এবং পুঁজিবাজারে সুস্থ্যতায় আরো আইপিও ছাড়া দরকার মনে করেন মাহবুব মজুমদার।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ওয়েবসাইটে থেকে নেয়া তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রাথমিক গণপ্রস্তাবে (আইপিও) ২০১৭ সালে ফিক্সট প্রাইস পদ্ধতিতে ৬টি কোম্পানি, দুটি মিউচ্যুয়াল ফান্ড এবং বুক ব্লিডিং পদ্ধতিতে আমরাটেক নেটওয়ার্ককে পুঁজিবাজার থেকে অর্থ উত্তোলনের অনুমোদন দেয় বিএসইসি।

২০১৮ সালে ফিক্সট প্রাইস পদ্ধতিতে ৯টি কোম্পানি, একটি মিউচ্যুয়াল ফান্ড এবং বুক ব্লিডিং পদ্ধতিতে আমান কটন ফেব্রিক্স ও বসুন্ধরা পেপার্স অনুমোদন পায়। এরপরের বছর ২০১৯ সালে ফিক্সট পদ্ধতিতে ৭টি কোম্পানি, একটি  মিউচ্যুয়াল ফান্ড এবং  বুক ব্লিডিং পদ্ধতিতে রানার ও এক্সয়ার নিটকে অনুমোদন দেয় বিএসইসি।

বাজার স্থিতিশীলতার প্রশ্নে মাহবুব মজুমদার বলেন, পুঁজিবাজার অনেক সংবেদনশীল স্থান। প্রথম কথা হলো- ভালো কোম্পানি যেমন দরকার, তেমনি কোম্পানির ভালো ব্যবস্থাপনা বিভাগও দরকার। অনেকগুলো বিষয় এখানে জড়িত।

তবে আশার কথা হলো- আমাদের প্রচুর আইন আছে, গত ১০ বছরে কমিশন এবং ডিএসই-সিএসই মিলিতভাবে এ পরিবর্তন এনেছে। তবে প্রয়োগ না হওয়ায় বিনিয়োগকারীর আস্থা কমছে বলে মত প্রকাশ করেন তিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here