পুঁজিবাজারে আসছে বৃহৎ ও প্রতিষ্ঠিত কোম্পানিগুলো

0
2936

সিনিয়র রিপোর্টার : প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে পুঁজিবাজারে আসার চেষ্টা করছে। অতীতে পুঁজিবাজারে মন্দ কোম্পানির আইপিও অনুমোদন নিয়ে বেশ আলোচনা ও সমালোচনা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমানে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) যথাসম্ভব ভালো কোম্পানির আইপিও অনুমোদনের চেষ্টা করছে।

এরই মধ্যে প্রতিষ্ঠিত ও বড় বেশকিছু কোম্পানির আইপিও অনুমোদন দিয়েছে কমিশন। অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে আরো কিছু কোম্পানি।

বিএসইসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম বলেন, আইপিও অনুমোদন দেয়ার ক্ষেত্রে আমরা প্রথমেই দেখছি যে কোম্পানির ব্যবসা টেকসই কিনা। তারপর আমরা কোম্পানির আর্থিক ফলাফলসহ অন্য দিকগুলো যাচাই-বাছাই করছি। আমরা চাই না পুঁজিবাজারে এমন কোনো কোম্পানি আসুক যে তালিকাভুক্ত হওয়ার দুই-তিন বছরের মধ্যে জেড ক্যাটাগরিতে চলে যাবে কিংবা বন্ধ হয়ে যাবে। এজন্য আমরা টেকসই ব্যবসার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি জোর দিয়েছি।

তিনি বলেন, এ পর্যন্ত আমরা যে কোম্পানিগুলোর আইপিও অনুমোদন দিয়েছি, সবগুলোর ব্যবসা টেকসই এবং তারা অনেক বছর ধরে সফলতার সঙ্গে ব্যবসা করে আসছে। কৃষিভিত্তিক ও তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক দুটি কোম্পানির আইপিওর কাজ অনেকদূর এগিয়েছে।

তিনি আরো বলেন, সব শর্ত পূরণ করতে পারলে সামনে এ কোম্পানিগুলোর আইপিও অনুমোদন দেয়া হবে। বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, অ্যাপল, অ্যামাজন, আলিবাবার মতো প্রযুক্তিভিত্তিক কোম্পানিগুলোই কিন্তু পুঁজিবাজারে সবচেয়ে বেশি ভালো অবস্থানে রয়েছে। আমাদের দেশে কিন্তু এখন পর্যন্ত এমন কোনো কোম্পানি পুঁজিবাজারে আসেনি। আমরা চাইছি আমাদের এখানেও এ ধরনের কোম্পানিগুলো পুঁজিবাজারে আসুক।

দেশের শীর্ষস্থানীয় ইলেকট্রনিক ও হোম অ্যাপ্লায়েন্স কোম্পানি ওয়ালটন হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডে এরই মধ্যে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে শেয়ার বিক্রির জন্য আইপিও সাবস্ক্রিপশন সম্পন্ন করেছে। এ সপ্তাহের বৃহস্পতিবার ডিজিটাল প্লাটফর্মে কোম্পানিটির আইপিও লটারির ড্র অনুষ্ঠিত হবে। এরপর স্টক এক্সচেঞ্জের কাছ থেকে তালিকাভুক্তির অনুমোদন সাপেক্ষে দ্রুততম সময়ের মধ্যেই পুঁজিবাজারে কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেন শুরু হবে।

ওয়ালটন হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজ পুঁজিবাজার থেকে ১০০ কোটি টাকার মূলধন উত্তোলনের জন্য বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে ২৯ লাখ ২৮ হাজার ৩৪৩টি সাধারণ শেয়ার আইপিওর মাধ্যমে ইস্যু করবে। এর মধ্যে ১৩ লাখ ৭৯ হাজার ৩৬৭টি শেয়ার যোগ্য বিনিয়োগকারীদের কাছে তাদের নিজেদের বিডিংকৃত মূল্যে ইস্যু করা হবে। যোগ্য বিনিয়োগকারীরা বিডিংয়ের মাধ্যমে কোম্পানিটির শেয়ারের কাট অফ প্রাইস ৩১৫ টাকা নির্ধারণ করেছেন।

বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে আইপিওর মাধ্যমে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়া শুরুর অনুমোদন পেয়েছে এনার্জিপ্যাক পাওয়ার জেনারেশন লিমিটেড। সম্প্রতি বিএসইসির ৭৩৪তম কমিশন সভায় কোম্পানিটিকে ইলেকট্রনিক বিডিংয়ের মাধ্যমে প্রান্ত-সীমা মূল্য (কাট অফ প্রাইস) নির্ধারণের জন্য বিডিংয়ের অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

আইপিওর মাধ্যমে কোম্পানিটি পুঁজিবাজার থেকে ১৫০ কোটি টাকা মূলধন সংগ্রহ করে এলপিজি ব্যবসা সম্প্রসারণ, ব্যাংকঋণ পরিশোধ ও আইপিও প্রক্রিয়ার খরচ নির্বাহে ব্যয় করবে।

বুক বিল্ডিং পদ্ধতির আইপিওর মাধ্যমে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির জন্য বিএসইসির ৭৩৫তম কমিশন সভায় ইলেকট্রনিক বিডিংয়ের মাধ্যমে প্রান্ত-সীমা মূল্য নির্ধারণের জন্য বিডিংয়ের অনুমোদন পেয়েছে নির্মাণ খাতের প্রতিষ্ঠান মীর আকতার হোসেন লিমিটেড।

আইপিওর মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে সংগৃহীত ১২৫ কোটি টাকার মূলধন দিয়ে কোম্পানিটি সরঞ্জামাদি ও যন্ত্রপাতি ক্রয়সহ ব্যবসা সম্প্রসারণ, ব্যাংকঋণ পরিশোধ ও আইপিও প্রক্রিয়ার ব্যয় নির্বাহ করবে।

সম্প্রতি বিএসইসির ৭৩৬তম কমিশন সভায় বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে ইলেকট্রনিক বিডিংয়ের মাধ্যমে প্রান্ত-সীমা মূল্য নির্ধারণের অনুমোদন পেয়েছে লুব-রেফ বাংলাদেশ লিমিটেড। আইপিওর মাধ্যমে কোম্পানিটি পুঁজিবাজার থেকে ১৫০ কোটি টাকার মূলধন উত্তোলন করে ব্যবসা সম্প্রসারণ, ব্যাংকঋণ পরিশোধ ও আইপিওর খরচ খাতে ব্যয় করবে।

৩০ জুন সমাপ্ত ২০১৯ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী অনুসারে, পুনর্মূল্যায়ন সঞ্চিতিসহ কোম্পানিটির এনএভিপিএস ৩১ টাকা ৯৩ পয়সা আর পুনর্মূল্যায়ন সঞ্চিতি ছাড়া এনএভিপিএস ২৫ টাকা ৯৬ পয়সা। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ২ টাকা ৮ পয়সা।

এছাড়াও টেলিকম খাতের বহুজাতিক কোম্পানি রবি আজিয়াটা এবং জ্বালানি খাতের কোম্পানি ওমেরা পেট্রোলিয়াম পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এরইমধ্যে পুঁজিবাজার থেকে ৫২৩ কোটি টাকার মূলধন সংগ্রহের উদ্দেশ্যে রবির পক্ষ থেকে বেশ কিছু বিষয়ে ছাড় চেয়ে কমিশনের কাছে আবেদন করা হয়েছে। কমিশন এগুলো যাচাই বাছাই করে দেখছে।

কমিশনের পক্ষ থেকে দ্রতই রবির আইপিওর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে। জ্বালানি খাতের কোম্পানি ওমেরা পেট্রোলিয়াম পুঁজিবাজার থেকে বুক বিল্ডিং পদ্ধতির আইপিওর মাধ্যমে ২৩৮ কোটি টাকার মূলধন সংগ্রহের জন্য আবেদন করেছিল। সম্প্রতি কমিশনের পক্ষ থেকে কোম্পানিটির অনুমোদিত মূলধন বাড়িয়ে পুনরায় সংশোধিত আইপিও আবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

বিএসইসির আইপিও বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কমিশনার অধ্যাপক ড. শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রতিষ্ঠিত ও ব্যবসায়িকভাবে সফল এমন কোম্পানিকেই আইপিওর অনুমোদন দেয়া হচ্ছে। এখন পর্যন্ত আমরা যে আইপিওগুলো অনুমোদন দিয়েছি, সেগুলোর কিন্তু দুই-তিন বছর আগে আবেদন করা। আমরা যাচাই-বাছাই করে যেগুলোকে ভালো মনে করছি, সেগুলোর অনুমোদন দিচ্ছি। আর যারা সব শর্ত পূরণ করতে পারেনি, তাদের আবেদন বাতিল করে দেয়া হচ্ছে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) পুঁজিবাজারে আসারযোগ্য এমন ভালো কোম্পানির তালিকা তৈরি করছে বলে জানিয়েছেন এক্সচেঞ্জটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী ছানাউল হক। তিনি বলেন, করোনার কারণে আমাদের বেশকিছু পরিকল্পনা পিছিয়ে গেছে। তবে বর্তমানে পুঁজিবাজারে যে গতিশীলতা দেখা যাচ্ছে, সেটি বজায় রাখার জন্য নতুন করে আরো ভালো কোম্পানিকে তালিকাভুক্ত করতে হবে। এজন্য আমরা এরই মধ্যে বেশকিছু ভালো কোম্পানির সঙ্গে আলোচনা করেছি।

তিনি বলেন, তাদের পুঁজিবাজারে নিয়ে আসার ক্ষেত্রে আমরা সব ধরনের সহযোগিতা করব। দেশের ওষুধ খাতের বেশকিছু শীর্ষস্থানীয় কোম্পানি বর্তমানে পুঁজিবাজারে রয়েছে। এর বাইরেও ওষুধ খাতের আরো বেশকিছু ভালো কোম্পানি পুঁজিবাজারের বাইরে রয়েছে। আমরা তাদের আইপিওতে নিয়ে আসতে চাই। শুধু ওষুধ খাতই নয়, অন্যান্য খাতের যেসব ভালো কোম্পানি রয়েছে সেগুলোকে পুঁজিবাজারে আনতে উদ্যোগ নেয়া হবে। আশা করছি আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে এ বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি অর্জন করা সম্ভব হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here