শাহীনুর ইসলাম : ‘পাওয়ার ইন্ডাস্ট্রির অস্কার’ হিসেবে বিশেষ পুরস্কার জিতেছে রাষ্ট্রমালিকানাধীন আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (ইডকল)। সোলার ইরিগেশন পাম্প বাস্তবায়নে যৌথভাবে মর্যাদাপূর্ণ ‘এশিয়ান পাওয়ার অ্যাওয়ার্ডস’ লাভ করেছে। অবকাঠামো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও কম জ্বালানি ব্যবহারে অর্থায়ন করে প্রতিষ্ঠানটি।

‘পাওয়ার ইন্ডাস্ট্রির অস্কার’ হিসেবে খ্যাত ‘এশিয়ান পাওয়ার অ্যাওয়ার্ডস’ পুরস্কার। এশিয়ার প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণ শিল্পের জন্য সিঙ্গাপুর ভিত্তিক ত্রৈমাসিক প্রকাশনা এশিয়ান পাওয়ার ম্যাগাজিন ২০ অক্টোবর অনলাইনের মাধ্যমে এ পুরষ্কার ঘোষণা করে।

ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (ইডকল) এবং ফেনী লঙ্কা পাওয়ার লিমিটেড (এফএলপিএল) ‘বর্ষসেরা বাংলাদেশের সোলার পাওয়ার প্রকল্প’ বিভাগে এ পুরস্কার অর্জন করে।

সৌরবিদ্যুতের প্রকল্প

‘বর্ষসেরা বাংলাদেশের সোলার পাওয়ার প্রকল্প এবং বর্ষ-বাংলাদেশের স্বাধীন বিদ্যুৎ নির্মাতা’ বিভাগে মর্যাদাপূর্ণ এই অ্যাওয়ার্ডস জিতেছে প্রতিষ্ঠান দুটি। যা পৃথিবীর সবচেয়ে মর্যদাপূর্ণ পুরস্কার হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

ইডকল পরিচিতি : বাংলাদেশ ব্যাংকের লাইসেন্সপ্রাপ্ত সরকারি একটি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি দেশের জ্বালানি খাতে নীরব বিপ্লব ঘটিয়েছে। বেসরকারিভাবে অবকাঠামো খাতে এ প্রতিষ্ঠান অর্থায়ন করে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও কম জ্বালানি ব্যবহার নিয়েও কাজ করে।

২০০৩ সালে বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় বাড়িতে সৌরবিদ্যুতের প্রকল্প চালু হয়। গত বছরের মার্চ পর্যন্ত ৪০ লাখের বেশি বাসায় সৌরবিদ্যুতের সংযোগ দিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে বড় সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প হিসেবে খ্যাতির অর্জন করে।

সরকার ইডকলকে ৩০ কোটি টাকা মূলধন দিয়েছিল। ইডকল গত বছর কর-পরবর্তী ৭০ কোটি টাকা মুনাফা করে। চলতি বছর তা ১২০ কোটি টাকায় উন্নীত হবে প্রত্যাশা করলেও করোনাকালে কিছুটা কমবে বলে মনে করেন কর্তৃপক্ষ।

ইডকলের ঋণ প্রায় ছয় হাজার কোটি টাকা। এর ৬০ শতাংশ গেছে অবকাঠামো খাতে, বাকিটা নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে।

লংকা পাওয়ার লিমিটেডের পরিচিতি : শ্রীলঙ্কার মালিকানাধীন সংস্থা ফেনী লঙ্কা পাওয়ার লিমিটেড। ২০১০ সালে বাংলাদেশে এর যাত্রা শুরু। ফেনী সদর উপজেলার পাঁছগাছিয়ায় লংকা পাওয়ার লিমিটেডের অবস্থান।

সদর উপজেলার পাঁছগাছিয়ার কাসিমপুরে শ্রীলংকার লাকধানভি লিমিটেডের সাবসিডিয়ারি আর কোম্পানি ‘ফেনী লংকা পাওয়ার লিমিটেড’। যে কোম্পানি যৌথভাবে পাওয়ার ইন্ডাস্ট্রির অস্কার জিতেছে। এ বছর পাওয়ার সেক্টরের প্রায় ৫০ টি কোম্পানিকে পুরষ্কার দেয়া হয়।

বর্তমানে ১১৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বাংলাদেশ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করছে ফেনী লংকা পাওয়ার। লাখদনাভি শ্রীলঙ্কার বিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগকারী বৃহত্তম ও স্বাধীন বিদ্যুত উৎপাদনকারী একটি প্রতিষ্ঠান। ২০১০ সালে বাংলাদেশে যাত্রা শুরু করে এখন পর্যন্ত দুটি স্বায়ত্তশাসিত বিদ্যু উৎপাদনকেন্দ্র স্থাপন করেছে।

যার একটি কুমিল্লায় ৫২.২ মেগাওয়াট এবং নাটোরে ৫২.২ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here