পরীক্ষামূলক কফি চাষ তারাগঞ্জে সফল

0
232
কফি চাষ করা হচ্ছে এখন রংপুর জেলার তারাগঞ্জ উপজেলায়

হাসান গোর্কি, রংপুর ও সিরাজুল ইসলাম বিজয়, তারাগঞ্জ থেকে : ‘মান্না দের সেই জনপ্রিয় গান, কফি হাউজের সেই আড্ডাটা আজ আর নেই’ আড্ডার এই নিত্য উপকরণ কফি চাষ করা হচ্ছে এখন রংপুর জেলার তারাগঞ্জ উপজেলায়। কফি সাধারণত পশ্চিমা দেশের অন্যতম পানীয়।

সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সারা বিশ্বের সবার কাছে পানীয় হিসেবে বেশ পরিচিত। ইতোমধ্যে উত্তরাঞ্চল কফি চাষের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ধান, পাট ও অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি কফিও এনে দিতে পারে বাংলাদেশের রপ্তানি খাতে আর্থিক সাফল্য। এমনই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এর সুফল পেতেও শুরু করেছেন উপজেলার সয়ার ইউনিয়নের মোখলেছুর রহমান।

জানা গেছে, ২০১৭ সালে কক্সবাজারের একটি নার্সারি থেকে পরীক্ষামূলকভাবে ৮০০টি কফি গাছের চারা নিয়ে এসে ২৮ শতক জমিতে রোপণ করেন তারাগঞ্জ উপজেলার সয়ার ইউনিয়নের গোয়ালবাড়ী গ্রামের মোখলেছুর রহমান, যা ইতোমধ্যে সাফল্যের মুখ দেখতে শুরু করেছে।

কৃষিবিদরা জানান, কফি গাছ দেখতে অনেকটা বেলি ফুল গাছের মতো। যেসব জমিতে লবণাক্ততা নেই, সেসব জমি কফি চাষের জন্য উপযোগী। বাড়ির আঙিনা, ফুলের টব কিংবা বাড়ির ছাদেও কফি চাষ সম্ভব। চারা রোপণের ৪-৫ বছরের মধ্যে কফির ফল গোটা সংগ্রহ করা যাবে।

কফির গোটাগুলো দেখতে অনেকটা গমের মতো। তবে তা আকারে একটু বড়। একটি গাছ থেকে ২০-৩০ বছর ফল পাওয়া যায়। প্রতিটি গাছের জন্য খরচ হয় মাত্র ১০০ থেকে ১৫০ টাকা। একটি গাছ থেকে বছরে আধা কেজির বেশি কফির শুকনো ফল পাওয়া যায়।

কফি গাছ থেকে শুধুমাত্র পানীয়ই নয়। কফি গাছের অন্যান্য উপকরণ ব্যবহার করে মধু ও শ্যাম্পু তৈরি করা যায়। একটি কফি গাছের ফুল থেকে প্রতিবারে ১০০ গ্রাম মধু সংগ্রহ করা সম্ভব। পাশাপাশি ওই গাছের উপকরণকে প্রক্রিয়া করে উন্নতমানের শ্যাম্পু তৈরি করা যাবে।

কফিচাষি মোখলেছুর রহমান বলেন, অনেক শখ করে তিনি কফির চারা সংগ্রহ করেছিলেন। এ বছর তার কফি বাগানে ফুল ও ফল আসার পর তিনি খুব খুশি। বাগানে প্রায় ৪০০টি গাছে ফল ধরেছে। তার কফি চাষের সাফল্য দেখে এলাকার অনেকেই অনুপ্রাণিত হচ্ছেন।

তিনি আরো বলেন, শুরুতে কফি চাষ সম্পর্কে আমার কোনো সঠিক ধারণা না থাকায় যথাযথভাবে পরিচর্যা নিতে না পারায় পরবর্তী সময়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরামর্শ অনুযায়ী সার প্রয়োগ, মাটির অম্লত্ব ধরে রাখার জন্য চুন প্রয়োগ, পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখা, বিভিন্ন রোগবালাই (লিফরাস্ট, এনথ্রাকনোজ, ফল ছিদ্রকারী পোকা প্রভৃতি) দমনে ব্যবস্থাপত্র দেয়া ও বাগানে আংশিক ছায়া প্রদানকারী বৃক্ষরোপণসহ নানা প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে জানা যায়, কফি চাষের জন্য (২০-৩০ ডিগ্রি সে. তাপমাত্রা) ও আর্দ্র জলবায়ু এবং বার্ষিক ১৫০-২০০ সেন্টিমিটার বৃষ্টিপাত উপযুক্ত। তবে ফল পাকার সময় শুষ্ক আবহাওয়া প্রয়োজন। মৃদু অম্লধর্মী এবং লৌহ, পটাশ, নাইট্রোজেন ও জৈবসমৃদ্ধ উর্বর লালচে দোআঁশ মাটি কফি চাষের পক্ষে ভালো।

এছাড়া তীব্র সূর্যালোকের হাত থেকে কফি গাছকে রক্ষার জন্য বাগানের মধ্যে ছায়া প্রদানকারী গাছ হিসেবে যেমন- ইপিল, একাশিয়া, কলা প্রভৃতি গাছ লাগানো প্রয়োজন।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ঊর্মি তাবাচ্ছুম বলেন, তারাগঞ্জ উপজেলার মাটি কফি চাষের জন্য উপযোগী। ইতোমধ্যে উপজেলায় কফি চাষ শুরু হয়েছে। কৃষকরা ন্যায্যমূল্যে বাজারজাত করতে পারলে কফি চাষ তারাগঞ্জে আরো সম্প্রসারিত হবে।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সরওয়ারুল আলম বলেন, তারাগঞ্জ উপজেলাসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি উপজেলার মাটি কফি চাষের জন্য উপযোগী। সে কারণে এখানে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে কফি চাষের সম্ভাবনা রয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here