পরিবর্তন আসছে ব্যাংকনীতিতে

1
3348

স্টাফ রিপোর্টার : এখন থেকে সরাসরি সরকারের হস্তক্ষেপ আর থাকছেনা রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নিয়োগের ক্ষেত্রে। এমডি ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে যোগ্যতা অনুযায়ী বিভিন্ন ব্যাংকে কর্মরত উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের নিয়োগ দেওয়া হবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সূত্র তথ্য নিশ্চিত করেছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে এবিষয়ে গত ১৫ই নভেম্বর রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর চেয়ারম্যানদের কাছে চিঠি দেয়া হয়। বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ২০ জন উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালকের চাকরি জীবনের যাবতীয় কাগজপত্র (এসিআর প্রতিবেদন) ও জীবন বৃত্তান্ত চাওয়া হয়েছে চিঠিতে। এরমধ্যে রয়েছে- আইসিবি, জনতা, অগ্রণী, সোনালী, রূপালী ও বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তাদের নাম।

যাচাই বাছাই শেষে এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের সাক্ষাৎকার নেয়া হতে পারে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে।

সূত্র জানায়, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্তদের পর্যায়ক্রমে বাদ দেয়া হবে। ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে নিয়মিত উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের পদোন্নতি দেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে কঠোর নির্দেশনা এসেছে। নির্দেশনা বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেছে মন্ত্রণালয়।

বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গত ১৮ই নভেম্বর সোনালী, অগ্রণী, জনতা ও রূপালী ব্যাংকে পর্যবেক্ষক নিয়োগ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। পর্যবেক্ষকরা এমডিদের কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ করে নিরীক্ষা কার্যক্রম চালাবে। নিরীক্ষার মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে তাদের ত্রুটি তুলে ধরে ডিসেম্বরের মধ্যেই অপসারণের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছে বিশেষ সূত্রটি।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের কারণে প্রতিষ্ঠানের প্রতি দায়ভার কমে যায়। চুক্তি শেষে পরবর্তী কর্মজীবনে এমডিদের কিছু পাওয়া-না পাওয়ার শঙ্কা থাকেনা। যেকারণে একের পর এক বহুল আলোচিত অর্থ কেলেঙ্কারীরর মতো ঘটনা ঘটতে থাকে। -যার উদাহরণ, রাষ্ট্রায়ত্ত কয়েকটি ব্যাংকে হলমার্ক, বিসমিল্লাহ গ্রুপের মতো অনিয়মের ঘটনা। আর এসব কারণে বাড়ছে খেলাপি ঋণের পরিমাণ।

এসব ঘটনায় আন্তর্জাতিক পর্যায়েও ইমেজ সংকট তৈরি হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের একটি প্রতিনিধি দল সম্প্রতি বাংলাদেশ সফরে আসে। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকসহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণের হার খুব বেশি বলে উঠে আসে তাদের কথায়। একইসঙ্গে ব্যাংকগুলোতে সুশাসনের অভাব ও দুর্বল শাসন ব্যবস্থার কথাও উল্লেখ করে তারা।  প্রতিনিধিদের মতে, এসব কারণে পুরোপুরি চাপে রয়েছে ব্যাংক খাত।

সবদিক বিবেচনায় রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের এই অবস্থা থেকে উদ্ধার ও স্বাভাবিক গতি ফিরিয়ে আনতে এমডি নিয়োগের ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনছে সরকার।

(আকমল/দৈনিক স্টক বাংলাদেশ)

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here