পতন বৃত্তের বাজারে স্বস্থি ফেরেনি

0
287

সিনিয়র রিপোর্টার : তালিকাভুক্ত ৩১টি ব্যাংকের মধ্যে দাম বেড়েছে ১৭টির। বিমা খাতের ২১ কোম্পানিও ফিরে পেয়েছে হারানো দামের কিছুটা। বেড়েছে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারপ্রতি দর। তার পরেও পুঁজিবাজারের সূচক পড়েছে।

এক দিনের ব্যবধানে ব্যাংকের শেয়ার খানিকটা ঘুরে দাঁড়িয়েছে। তাতে অবশ্য পুঁজিবাজারে পতন থামেনি। যদিও সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে সূচক পড়েছে কম। তবে আগের দিনের মতো বড় পতন হয়নি, এতেই স্বস্তিতে বিনিয়োগকারীরা।

বৃহস্পতিবার আরও একটি ব্যাংক গত ডিসেম্বরে সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য লভ্যাংশের কথা স্টক এক্সচেঞ্জকে জানায়। শেয়ার প্রতি এক টাকা ৭৫ পয়সা করে লভ্যাংশ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যমুনা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ।

তবে ১৮ টাকার শেয়ারে প্রায় ১০ শতাংশ লভ্যাংশ হিসেবে দেয়ার খবরেও এই ব্যাংকের দাম পড়েছে। অবশ্য বেড়েছে এই খাতের ৩১টি কোম্পানির মধ্যে ১৭টির দাম। কমেছে আটটি আর বাকি ৬টির দাম অপরিবর্তিত আছে।

দুই দিন পতনের পর ঘুরে দাঁড়িয়েছে সদ্য তালিকাভুক্ত এনআরবিসি ব্যাংক। দর বেড়েছে ৯০ পয়সা। এর বাইটে ডাচ বাংলা, ইবিএল, ট্রাস্ট ব্যাংকের দাম বেড়েছে ৪০ পয়সা করে। বাকিগুলোর দাম বেড়েছে ১০ থেকে ৩০ পয়সা করে।

খানিকটা ঘুরে দাঁড়িয়েছে বিমা খাতও। আগের দিন এই খাতের ৪৯টি কোম্পানির ৪৪টি দর হারালেও আজ ২১টির দর বেড়েছে। কমেছে ১৮টির দর। আর পাল্টায়নি ১০টির।

বেশিরভাগ শেয়ারের দর বৃদ্ধির দিনও পুঁজিবাজারে পতন হয়েছে সূচকের। আগের দিনের চেয়ে ২.৯ পয়েন্ট পড়েছে সূচক।

বিশ্লেষকের বক্তব্য

আবু আহমেদ বলেন, পুঁজিবাজারের পতন হলেই বিনিয়োগকারীরা আতঙ্কিত হয়ে পরে। একদিনের পর দুদিন লেনদেন কমলে বা সূচক পতন হলেই মনে করে বাজার মন্দা হয়ে গেছে। আতঙ্কে আরও শেয়ার বিক্রি হয়। এ অবস্থা থেকে বের হওয়া উচিত।

তিনি বলেন, ‘সামনে বাজেট আছে। পুঁজিবাজারের জন্য দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রয়োজন। সেটি হওয়া জরুরি।

পুঁজিবাজারের এমন পতন বেশি দিন থাকবে না উল্লেখ করে মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন-বিএমবিএর সভাপতি ছায়েদুর রহমান বলেন, ‘যে কারণেই পুঁজিবাজারের সূচক ও লেনদেনের পতন হোক না কেন, সেটি সাময়িক। শিগগিরই বাজার ভালো অবস্থায় ফিরবে।’

সূচক ও লেনদেন

ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ২ দশমিক ৯০ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৩২৭ পয়েন্টে।

শরিয়াহভিত্তিক কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসইএস ৩ দশমিক ৮৪ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২১৭ পয়েন্টে। বাছাই করা কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএস-৩০ সূচক ৩ দশমিক ৭৬ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২০ পয়েন্টে।

লেনদেন হওয়া কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১২৯টির, কমেছে ৮১টির ও পাল্টায়নি ১৩২টির। লেনদেন হয়েছে ৪৮৮ কোটি টাকা। এর আগের গত ২২ ফেব্রুয়ারি লেনদেন হয়েছিল ৪৬৭ কোটি টাকা।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) প্রধান সূচক সিএএসপিআই দশমিক ০১৩ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৪২৪ পয়েন্টে। লেনদেন হওয়া কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৮০টির, কমেছে ৬৩টির ও পাল্টায়নি ৬৫টির। লেনদেন হয়েছে ২৭ কোটি টাকা।

আগ্রহ ও অনাগ্রহের কোম্পানি

বৃহস্পতিবার দর বৃদ্ধির শীর্ষে ছিল এনআরবিসি ব্যাংক। ৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ১২ টাকা ৫০ পয়সা।

প্রথম কার্যদিবসে ১৩ টাকা ২০ পয়সা দাম থাকলেও টানা দুই দিন দর হারিয়ে বুধবার নেমে আসে ১১ টাকা ৬০ পয়সা। তবে এই কোম্পানির দর বৃদ্ধি গোটা ব্যাংকিং খাতেই স্বস্তি নিয়ে এসেছে কিছুটা।

দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা জিবিবি পাওয়ারের দর বেড়েছে ৬ দশমিক ৯২ শতাংশ। এদিন প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার দর ২৬ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ২৭ টাকা ৮০ পয়সায়।

দর বৃদ্ধির তালিকায় ছিল ইজেনারেশন লিমিটেড, যার শেয়ার দর বেড়েছে ৫ দশমিক ৫১ শতাংশ। বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছে ৪ দশমিক ৮৫ শতাংশ।

নিটল ইন্স্যুরেন্স, তওফিকা ফুড, রানার অটোমোবাইলস ও ভ্যানগার্ড এএমএল রূপালী ব্যাংক ব্যালেন্স ফান্ডের দর বেড়েছে।

দর পতনের দিক দিয়ে শীর্ষে ছিল ফার্স্ট ফাইন্যান্স। প্রতিষ্ঠাটির সম্প্রতি ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত অর্থবছরে শেয়ারধারীদের জন্য জন্য লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে।

তৃতীয় প্রান্তিকে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার প্রতি তিন টাকার বেশি লোকসান থাকলেও বছর শেষ মুনাফায় ফিরে। বলা হয়, বছর শেষে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার প্রতি আয় বেড়েছে ১ টাকার বেশি। আর ২ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণাকে কেন্দ্র করে দুই দিনে দামে উল্লম্ফন হলেও তৃতীয় কার্যদিবসে এসেই ৭ দশমিক ২৪ শতাংশ দর হারিয়েছে কোম্পানিটি।

শেয়ার প্রতি এক টাকা লভ্যাংশ ঘোষণার পর আমান কটন অ্যান্ড ফেব্রিক্সের শেয়ার দর কমেছে ৭ দশমিক ০৫ শতাংশ। নতুন শেয়ার লুব রেফ (বিডি) শেয়ার দর কমেছে ৫ দশমিক ০৬ শতাংশ। রিপাবলিক ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার দর কমেছে ৪ দশমিক ৮৩ শতাংশ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here