নতুন বছরে সুদিন প্রত্যাশা

0
220

সিনিয়র রিপোর্টার : দেশের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের জন্য বিদায় নেয়া ২০১৯ সাল মোটেও ভালো যায়নি। বছরজুড়েই দরপতনের কবলে পড়ে পুঁজি হারিয়েছেন তারা। হাহাকার করেই বছরটি কেটেছে বিনিয়োগকারীদের। এমন ‘অপয়া’ বছর আর দেখতে চান না বিনিয়োগকারী ও পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্টরা। সবার প্রত্যাশা, নতুন বছরে বাজারে সুদিন ফিরবে।

তাদের অভিমত, ২০১৯ সালজুড়ে পুঁজিবাজার পতনের মধ্যে থাকলেও বছরটিতে বেশকিছু ভালো সংস্কারমূলক কাজ হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে পুঁজিবাজারের জন্য বেশকিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্তও রয়েছে। নতুন বছরে এসব সিদ্ধান্তের ইতিবাচক প্রভাব বাজারে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০১৯ সালে সামগ্রিকভাবে দেশের পুঁজিবাজরে মূল্য সূচক, লেনদেন ও বাজার মূলধন- সব ক্ষেত্রেই নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এমনকি বছরের বেশিরভাগ সময় বাজারে টানা দরপতন দেখা দেয়। তবে বছরের শেষ সপ্তাহের প্রতিটি কার্যদিবসে বাজার ছিল ঊর্ধ্বমুখী। এদিক বিবেচনায়, কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার মধ্য দিয়েই নতুন বছরে পদার্পণ করছে দেশের পুঁজিবাজার।

বিনিয়োগকারী সোহেল হাসান বলেন, ২০১৯ সালজুড়েই তো বিনিয়োগ করা পুঁজি হারিয়েছি। আর কত হারাব? এরপর বাজারে এমন পতন হলে পথে বসা ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না। আমরা আশা করছি, নতুন বছর পুঁজিবাজারের জন্য ভালো হবে। ২০১৯ সালের মতো আর কোনো বছর যেন বাজারে ফিরে না আসে।

ফয়েজ হাসান নামের অপর বিনিয়োগকারী বলেন, ২০১৯ সালের মতো বছর আমরা আর দেখতে চাই না। আশা করি, সামনে বাজার ভালো হবে। টানা পতনে দাম কমে প্রায় সব কোম্পানির শেয়ারই এখন অবমূল্যায়িত। এরপরও দরপতন হলে বাজারই ধ্বংস হয়ে যাবে।

ডিএসই’র পরিচালক রকিবুর রহমান বলেন, আশা করি, নতুন বছরে পুঁজিবাজার ভালো হবে। তবে আমাদের সবাইকে নিজের জায়গা থেকে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহির মধ্যে কাজ করতে হবে। এটা করা গেলে অবশ্যই বাজার ভালো হবে।

‘সরকার বাজার ভালো করতে খুবই আন্তরিক। কীভাবে বাজারের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ানো যায়, সে বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক বেশ পজেটিভ। যে কারণে রেপোর মাধ্যমে টাকা নেয়ার সুযোগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।’

ডিএসই’র অপর পরিচালক শাকিল রিজভী বলেন, নতুন বছরে পুঁজিবাজার ভালো হবে, এটা আমরা আশা করছি। কারণ বর্তমান বাজার কেনার জন্য বেশ ভালো। অনেক ভালো কোম্পানির শেয়ারের দাম রিজেনেবল প্রাইসে রয়েছে। সামনে বাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়তে পারে। তবে কোম্পানির পারফরমেন্স বাজারের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

ডিএসই’র পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন বলেন, পুঁজিবাজারের জন্য বেশকিছু ভালো উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আইপিও, রাইট, প্লেসমেন্টের ক্ষেত্রে সংস্কার আনা হয়েছে। আশা করি, বাজারে এসবের ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

ফিরে দেখা ২০১৯ : চীনের দুই নামকরা পুঁজিবাজার বাংলাদেশের বাজারের অংশীদার হলেও বছরটি বিনিয়োগকারীদের জন্য খুব একটা সুখকর হয়নি। বছরটিতে ডিএসই’র বড় অংকের মূল্য সূচক হারানোর পাশাপাশি মোটা অংকের বাজার মূলধনও হারিয়েছে। লেনদেনের ক্ষেত্রেও ছিল নেতিবাচক প্রভাব।

লেনদেন : ২০১৯ সালজুড়ে ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে মোট এক লাখ ১৩ হাজার ৮২১ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। যা আগের বছর থেকে ১৯ হাজার ৭৬৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকা বা ১৪ দশমিক ৮১ শতাংশ কম। ২০১৮ সালে লেনদেনের পরিমাণ ছিল এক লাখ ৩৩ হাজার ৫৯১ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। ২০১৯ সালে প্রতি কার্যদিবসে গড় লেনদেন হয়েছে ৪৮০ কোটি ২৬ লাখ টাকা। আগের বছর প্রতি কার্যদিবসে গড় লেনদেন হয় ৫৫২ কোটি তিন লাখ টাকা।

মূল্য সূচক : ২০১৯ সালে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক ডিএসইএক্স’র পতন হয়েছে ৯৩২ পয়েন্ট বা ১৭ দশমিক ৩২ শতাংশ। বাছাই করা সূচক ডিএসই- ৩০ কমেছে ৩৬৭ পয়েন্ট বা ১৯ দশমিক ৫৪ শতাংশ। ডিএসই শরীয়াহ্ সূচক কমেছে ২৩২ পয়েন্ট বা ১৮ দশমিক ৯০ শতাংশ।

বাজার মূলধন : সূচকের পাশাপাশি ডিএসই’র বাজার মূলধনও কমেছে। ডিএসই’র বাজার মূলধন আগের বছরের তুলনায় কমেছে ৪৭ হাজার ৭৪৪ কোটি টাকা বা ১২ দশমিক ৩৩ শতাংশ।

বিদেশি বিনিয়োগ : ২০১৯ সালে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা সাত হাজার ৮৪৫ কোটি ৪৫ লাখ টাকার লেনদেন করেছে। যা মোট লেনদেনের ৬ দশমিক ৮৯ শতাংশ। বছরটিতে বিনিয়োগকারীদের শেয়ার ক্রয়ের পরিমাণ ছিল তিন হাজার ৬৭৮ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। এর বিপরীতে বিক্রি করেছে চার হাজার ১৬৬ কোটি ৮১ লাখ টাকা। ২০১৮ সালে বিদেশিদের লেনদেনের পরিমাণ ছিল নয় হাজার ৫৮৫ কোটি ৬১ লাখ টাকা। এর মধ্যে ক্রয় ছিল চার হাজার ৪৯৬ কোটি ২৪ লাখ টাকা, বিক্রি ছিল পাঁচ হাজার ৮৯ কোটি ৩৭ লাখ টাকা।

আইপিও : ২০১৯ সালে বাজার থেকে একটি বন্ডসহ আটটি প্রতিষ্ঠান প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও’র মাধ্যমে ৬১৪ কোটি ৬৭ লাখ টাকার মূলধন সংগ্রহ করে। এর মধ্যে দুটি কোম্পানি প্রিমিয়ামবাবদ ২০১ কোটি ১৭ লাখ টাকার মূলধন উত্তোলন করে। অপরদিকে, ২০১৮ সালে একটি মিউচ্যুয়াল ফান্ডসহ ১৪টি সিকিউরিটিজ প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও’র মাধ্যমে ৬০১ কোটি টাকার মূলধন সংগ্রহ করে। এর মধ্যে দুটি কোম্পানি প্রিমিয়ামবাবদ ২৩৩ কোটি ১২ লাখ টাকার মূলধন উত্তোলন করে।

রাইট শেয়ার : ২০১৯ সালে দুটি কোম্পানি ২০ কোটি ৭৭ লাখ ৩৯ হাজার ১৯২টি রাইট শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে ২৩১ কোটি ৩০ লাখ টাকার মূলধন সংগ্রহ করে। আগের বছর তিনটি কোম্পানি ৩৬ কোটি ৭০ লাখ ৭৫ হাজার ৬৫টি রাইট শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে ৩৬৭ কোটি সাত লাখ টাকার মূলধন সংগ্রহ করে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here