নতুন প্রত্যাশায় বাড়ছে গতি, গড় লেনদেন ৩৫০ কোটি

1
525

সিনিয়র রিপোর্টার : দীর্ঘদিন পর স্বস্তির বাতাস বইছে দেশের পুঁজিবাজারে। সপ্তাহের পাঁচ দিনের মধ্যে চার দিনই মূল্যসূচক বেড়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ  (ডিএসই)-এর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স উঠেছে ৬০ পয়েন্টের মতো। তিন হাজার কোটি টাকার ওপরে বাজার মূলধন ফিরে পেয়েছে প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসই-এর।

গড় লেনদেনও হয়েছে ৩৫০ কোটি টাকার ওপরে। তবে বিনিয়োগকারীরা বলছেন, বাজার আস্থায় আসতে আরও কিছুদিন সময় লাগবে। গত সপ্তাহের মতো ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকলে বাজারের প্রতি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরবে।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সদস্য ব্রোকারেজ হাউসের মালিকদের সংগঠন ডিএসই ব্রোকারেজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) সাবেক সভাপতি আহমেদ রশিদ লালী  বলেন, যদি আরও কিছুদিন ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকে, তাহলে এই বাজার আস্থায় আসবে।

তিনি বলেন, পড়তে পড়তে পুঁজিবাজার এখন সর্ব নিম্নস্থানে এসে ঠেকেছে। এর নিচে আর হয়তো নামার জায়গা নেই। এ কারণে অনেকেই বাজারে ফিরতে শুরু করেছেন। যে কারণে গত সপ্তাহে ৫ দিনের মধ্যে তিনদিন পুজিবাজার মোটামুটি ভালো পরিস্থিতি ছিল। তবে মাত্র তিন-চার দিনের পরিস্থিতি দিয়ে এই অস্বস্তির পুঁজিবাজারকে মূল্যায়ন করা ঠিক হবে না। আরও কিছুদিন দেখতে হবে।

আহমেদ রশিদ লালী উল্লেখ করেন, যারা এতদিন নিষ্ক্রিয় ছিলেন, তারা হয়তো এখন সক্রিয় হবেন। আর  বাজার যেহেতু এখন সর্বনিম্ন স্থানে এসেছে, সেহেতু আপনা আপনিই এই বাজার উঠে আসার কথা।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত কয়েক সপ্তাহের মতো ডিএসইতে গড় লেনদেন তিনশ কোটি টাকার ঘরেই আটকে আছে। গত সপ্তাহের প্রতি কার্যদিবসে ডিএসইতে গড়ে লেনদেন হয়েছে ৩৩১ কোটি ২ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয় ৩৩৪ কোটি ৭৭ লাখ টাকা।

অর্থাৎ প্রতি কার্যদিবসে গড় লেনদেন কমেছে ৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকা বা ১ দশমিক ১২ শতাংশ। গত সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৬৫৫ কোটি ১২ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে লেনদেন হয় ১ হাজার ৬৭৩ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। সে হিসাবে মোট লেনদেন কমেছে ১৮ কোটি ৭৬ লাখ টাকা।

তবে, বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের মূল্য বাড়ায় সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস শেষে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৫৯ হাজার ১১০ কোটি টাকা। যা তার আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ছিল ৩ লাখ ৫৫ হাজার ৯৩৮ কোটি টাকা।

ডিএসইর ব্রোকারদের সংগঠন ডিএসই ব্রোকার্স এসোসিয়েশনের (ডিবিএ) সভাপতি শাকিল রিজভী বলেন, বাজারের পরিস্থিতি বলছে, ধিরে ধিরে বাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরতে শুরু করেছে। আশা করছি, আগামী দিনগুলোও ভালোই যাবে।

তিনি বলেন, যে সব কোম্পানির শেয়ারের মূল্য বেশি বেড়েছিল, সেগুলো কমে এখন সঠিক অবস্থায় এসেছে। এছাড়া, অনেক কোম্পানির দর কমতে কমতে একেবারে নিচে নেমে এসেছে। এই অবস্থা থেকে আর নিচের দিকে নামার সম্ভাবনা নেই।

শাকিল রিজভী উল্লেখ করেন, বাজারে টানা যে দরপতন হচ্ছিল, সেটা আপাতত বন্ধ হয়েছে। তার মতে, আগামী ডিসেম্বরে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য কোম্পানির হিসাব বছর শেষ হবে। ফলে ফেব্রুয়ারি-মার্চে সেগুলোর লভ্যাংশ ঘোষণা আসবে।

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here