দেশের বৃহত্তম সোলার পার্ক ওরিয়ন গ্রুপের

0
940
মোংলায় ৩৫০ একর জমির ওপর গড়ে উঠেছে ওরিয়ন গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান এনার্জন রিনিউয়েবলস

সিনিয়র রিপোর্টার : ৩৫০ একর জমির ওপর প্ল্যান্টটি গড়ে তুলেছে শিল্পগোষ্ঠী ওরিয়ন গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান এনার্জন রিনিউয়েবলস। প্ল্যান্টটি মূলত ২০১৪ সালে একটি কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য তৈরি করা হয়েছিল।

২৫ ডিসেম্বর থেকে মোংলায় দেশের বৃহত্তম সোলার পার্ক থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করেছে। এই পার্ক থেকে জাতীয় গ্রিডে ১৩৪ দশমিক ৩ মেগাওয়াট পিক (সৌরশক্তি পরিমাপক ইউনিট) বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে।

৩৫০ একর জমির ওপর প্ল্যান্টটি গড়ে তুলেছে শিল্পগোষ্ঠী ওরিয়ন গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান এনার্জন রিনিউয়েবলস। প্ল্যান্টটি মূলত ২০১৪ সালে একটি কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য তৈরি করা হয়েছিল।

পরে ওরিয়ন গ্রুপ কয়লা প্রকল্পটি বাতিল করে সৌর পার্ক নির্মাণের জন্য বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) সঙ্গে ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে একটি চুক্তি করে। বাগেরহাট জেলার রামপাল কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছেই অবস্থিত ওরিয়ন গ্রুপের ১৯৬ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত সবুজ বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি।

বিপিডিবির নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং গবেষণা ও উন্নয়ন পরিদপ্তরের পরিচালক আহমেদ জহির খান বলেন, প্রকল্পটি পরীক্ষামূলকভাবে চলছে। আগামী সপ্তাহে এর বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু হবে। নো ইলেক্ট্রিসিটি, নো পেমেন্ট’ শর্তে আগামী ২০ বছর এই প্ল্যান্ট থেকে বিদ্যুৎ কিনবে বিপিডিবি। প্রতি কিলোওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুতের দাম পড়বে ১৩ দশমিক ৮ সেন্ট।

ওরিয়ন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সালমান ওবায়দুল করিম বলেন, অনেক প্রতিকূলতার মধ্যেও আমরা প্রকল্পটির কাজ এগিয়ে নিয়েছি। করোনা মহামারির ফলে আমাদের নানা প্রতিবন্ধকতা পাড়ি দিতে হয়েছে। আমাদের (সোলার সলিউশন) সরবরাহকারীও বদলাতে হয়েছে। আর তারপরে মোকাবিলা করতে হয়েছে বিশাল কনটেইনারজট। এই কনটেইনারজটে বিশ্বব্যাপী সাপ্লাই চেইনে বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছিল।

সালমান ওবায়দুল করিম বলেন, কপ২৬-পরবর্তী বিশ্বে সামনে এগিয়ে যাওয়ার একটি ভালো পথ ছিল এই প্রকল্প। কপ২৬-এর লক্ষ্য ছিল বিশ্বের সব দেশের কার্বন নিঃসরণ ব্যাপকভাবে কমিয়ে আনা।

ওরিয়ন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, আমাদের স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তির সঙ্গে এই প্রকল্পের বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরুর সময় মিলে যাওয়ায় আমরা খুবই গর্বিত।

চীনা উৎপাদক লোঙ্গি সোলার এই প্রকল্পে ফটোভোলটাইক (পিভি) সরবরাহ করেছে, আর সেন্ট্রাল ইনভার্টার সলিউশন সরবরাহ করেছে সানগ্রো পাওয়ার সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেড। এ প্রকল্পের ইঞ্জিনিয়ারিং প্রকিউরমেন্ট ঠিকাদার হিসেবে কাজ করেছে এবিবি সিঙ্গাপুর। আর মালিকপক্ষের প্রকৌশলী ও প্রকল্প ব্যবস্থাপনা পরামর্শদাতা হিসাবে কাজ করেছে মাহিন্দ্রা সুস্তেন প্রাইভেট লিমিটেড।

প্রকল্পটির অর্থায়ন করা হয়েছে দেশি-বিদেশি ঋণদাতাদের সমন্বয়ে। এই সবুজ প্রকল্প প্রতি বছর প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার টন কার্বন-ডাই-অক্সাইডের নিঃসরণ কমাতে অবদান রাখবে।

সূর্যকিরণ ধরে একে বিদ্যুতে রূপান্তরিত করতে এনার্জন জ্বালানিসাশ্রয়ী মনো পার্ক সেল ব্যবহার করবে। এরপর এই বিদ্যুৎ প্রায় ১৩ কিলোমিটার দূরে মোংলায় মূল গ্রিডে পরিবর্তনশীল বিদ্যুৎ (এসি) হিসেবে সরবরাহ করা হবে। বাজারে চার ধরনের সোলার সেল পাওয়া যায়, এদের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সবচেয়ে দক্ষ হলো মনো পার্ক।

এর মাধ্যমে বাংলাদেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতায় নবায়নযোগ্য শক্তির অংশ ৯০৭ দশমিক ২৪ মেগাওয়াটে পৌঁছেছে। দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২৫ হাজার মেগাওয়াটের বেশি।

মুজিব জলবায়ু সমৃদ্ধি পরিকল্পনার আওতায় বাংলাদেশ ২০৩০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে ৩০ শতাংশ জ্বালানির সংস্থান করতে চায়। দেশের টেকসই জ্বালানি অবকাঠামো বহুমুখীকরণে সরকারের যে লক্ষ্য, তা অর্জনের পথে একটি উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ এই প্রকল্প।

ময়মনসিংহের ৭৩ মেগাওয়াটের সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রকে পেছনে ফেলে বাগেরহাটের এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র এখন বাংলাদেশের বৃহত্তম সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র। এটি ৯ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের একটি নতুন সঞ্চালন লাইনের মাধ্যমে মোংলা পিজিসিবি গ্রিড সাবস্টেশনের সঙ্গে যুক্ত।

ওরিয়ন গ্রুপের ৫টি জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র রয়েছে। এই পাঁচটি কেন্দ্রের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ৫১১ মেগাওয়াট।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here