দুটির বেশি ও অন্যের নামে বিও হিসাব থাকলে ব্যবস্থা

0
2287

সিনিয়র রিপোর্টার : পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে হলে বিনিয়োগকারীর থাকতে হবে বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও) হিসাব। নিয়ম অনুযায়ী একজন দুটি বিও হিসাব পরিচালনা করতে পারে। কিন্তু এমনও আছে পরিচিত কারও ভোটার আইডি ও ব্যাংক হিসাব দিয়ে বিও হিসাব খুলে অন্য একজন লেনদেন করছে পুঁজিবাজারে।

এমন সব বিও হিসাব বন্ধ করতে কাজ করছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

গত ছয় মাসে পুঁজিবাজারের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বিও হিসাব বন্ধ হয়েছে। এ ছাড়া সম্প্রতি যে কয়টি অনিয়ম এনফোর্সমেন্ট বিভাগে পাঠানো হয়েছে, তার বেশির ভাগই অন্যের তথ্য দিয়ে বিও হিসাব খুলে লেনদেন পরিচালনা করা।

বিএসইসির সুপারভিশন অ্যান্ড রেগুলেশন অব ইন্টারমিডিয়ারিস (এসআরআই) বিভাগ এ বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে। রোববার ভার্চুয়ালি পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি ‘রুল অব স্মার্ট ইনভেস্টর অ্যান্ড মার্কেট সার্ভিলেন্স‘ বিষয় গণশুনানির আয়োজন করে।

সেখানে এ বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র রেজাউল করিম। তিনি বলেন, কারা মার্কেট ম্যানুপলিশন করছেম তাদের চিহ্নিত করতে প্রকৃত বিও হিসাব বের করা প্রয়োজন। একজনের তথ্যে আরেকজন বিও হিসাব খুলে পুঁজিবাজারে লেনদেন করলে অনেক সময় প্রকৃত অপরাধীকে শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে।

গত ছয় মাসে সবচেয়ে বেশি বিও হিসাব বন্ধ হয়েছে। এ ধরনের হিসাবে বিএসইসির নজরদারিও একটি কারণ। এ ছাড়া নতুন আইপিও পদ্ধতি, নবায়ন না করা, ভুয়া বিও হিসাব দিয়ে আইপিও আবেদন করলে জরিমানার আওতায় পড়ার কারণেই অনেক বিও হিসাব বন্ধ হয়েছে বলে জানান রেজাউল করিম।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, সার্ভিল্যান্সের মাধ্যমে শুধু ডিএসই ডাটা দিয়ে অপরাধীদের চিহ্নিত করা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন নির্বাচন কমিশনের এনআইডি তথ্য, সিডিবিএলের বিও হিসাব তথ্য। যার বিও হিসাব আছে তার সার্বিক লেনদেন তথ্য পেতে হলে প্রয়োজন বাংলাদেশ ব্যাংকের সহযোগিতা।

ফলে শুধু সার্ভিল্যান্স আছে এ জন্য সব অপরাধীকে শাস্তির আওতায় নিয়ে আসা সম্ভব হবে, সেটি ভাবা ঠিক হবে না। এর জন্য সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।

গণশুনানিতে বলা হয়, এখন কমিশন আগের তুলনায় অনেক কমপ্লায়েন্সের মধ্য দিয়ে পরিচালিত হয়। বর্তমানে যেসব অভিযোগ আসে তার প্রায় ৯২ শতাংশ সমাধান করা হয়। আগে যেখানে ৫ হাজার অভিযোগ এলে সমাধান করা হতো ১ হাজার।

গণশুনানিতে ফিন্যান্সিয়াল লিটারেসির ওপরও গুরুত্ব দেয়া হয়।

শুনানিতে বিএসইসির কমিশনার আব্দুল হামিল বলেন, এটি নিয়ে পঞ্চমবারের মতো গণশুনানির আয়োজন করা হলো। এ শুনানিতে যেসব প্রস্তাব আসে সেগুলো গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হয়। যাচাই-বাছাই শেষে অনেক প্রস্তাব কমিশন সভায়ও উপস্থাপন করা হয়।

তিনি বলেন, বিও হিসাবের যে বিষয়টি আলোচনা হয়েছে, সেটিও গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হবে। প্রযুক্তির মাধ্যমে এটির সমাধান করা হচ্ছে।

এ সময় বক্তব্য রাখেন ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্ট ফোরামের (সিএমজেএফ) সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here