তবুও সর্বোচ্চ লভ্যাংশ দেবে ডিবিএইচ

0
813

সিনিয়র রিপোর্টার : করোনাকালে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের লভ্যাংশ বিতরণের সীমা বেঁধে দিয়েছে। শুরুতে আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে শেয়ার প্রতি সর্বোচ্চ দেড় টাকা লভ্যাংশ বিতরণের ক্ষমতা দেয়া হলেও সোমবার এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, চাইলে এই পরিমাণ নগদের পাশাপাশি ১৫ শতাংশ বোনাস শেয়ারও দেয়া যাবে। ডিবিএইচ শেয়ারধারীদের সেই সর্বোচ্চ পরিমাণ লভ্যাংশই দিতে যাচ্ছে।

গত বছরের চেয়ে আয় কমে গেলেও লভ্যাংশ যত দেয়া সম্ভব ছিল, ততটাই দেয়ার প্রস্তাব করেছে ব্যাংক বহির্ভুত আর্থিক প্রতিষ্ঠান ডেল্টা ব্র্যাক হাউজিং বা ডিবিএইচ।

২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য ১৫ শতাংশ নগদ অর্থাৎ শেয়ার প্রতি দেড় টাকা নগদ ও ১৫ শতাংশ বোনাস অর্থাৎ প্রতি ১০০ শেয়ারে ১৫টি বোনাস শেয়ার দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদ।

সোমবার পর্ষদ সভায় এই সিদ্ধান্ত হয় যেটি মঙ্গলবার ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের ওয়েবসাইটে দেয়া হবে।

করোনাকালে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের লভ্যাংশ বিতরণের সীমা বেঁধে দিয়েছে। শুরুতে আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে শেয়ার প্রতি সর্বোচ্চ দেড় টাকা লভ্যাংশ বিতরণের ক্ষমতা দেয়া হলেও সোমবার এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, চাইলে এই পরিমাণ নগদের পাশাপাশি ১৫ শতাংশ বোনাস শেয়ারও দেয়া যাবে।

ডিবিএইচ শেয়ারধারীদের সেই সর্বোচ্চ পরিমাণ লভ্যাংশই দিতে যাচ্ছে। পরিচালনা পর্ষদের প্রতিবেদন অনুযায়ী গত ডিসেম্বরে সমাপ্ত অর্থবছরে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ৫ টাকা ৭৮ পয়সা। এটি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় খানিকটা কম।

ওই বছর কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় বা ইপিএস হয়েছিল ৮ টাকা ৪ পয়সা। ওই বছর দেয়া ১৫ শতাংশ বোনাস শেয়ারের সঙ্গে সমন্বয় করলে অবশ্য সে আয় ৬ টাকা ৯৬ পয়সা।

পুনর্মূল্যায়িত ইপিএস চলতি বছর এক টাকা ১৮ পয়সা অর্থাৎ ১৬ শতাংশ কমেছে। কোম্পানিটি সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে শেয়ার প্রতি আয় করেছিল ৩ টাকা ৫৫ পয়সা। অর্থাৎ শেষ প্রান্তিকে আয় করেছে ২ টাকা ২৩ পয়সা।

যারা এই লভ্যাংশ নিতে ইচ্ছুক তাদেরকে আগামী ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত শেয়ার ধরে রাখতে হবে। আগামী ৬ মে কোম্পানিটির বার্ষিক সাধারণ সভা বা এজিএমে এই লভ্যাংশ চূড়ান্ত হবে।

করোনাকালে কোম্পানির আয় কমে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে মৌলভিত্তিক এই প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারে আগ্রহ কমেছে গত কয়েক মাসে। গত মার্চে করোনা সংক্রমণের পর শেয়ার দরে ধস ঠেকাতে যে সর্বনিম্ন মূল্য বা ফ্লোর প্রাইস বেঁধে দেয়া হয়েছে, সেই দর ৯২ টাকা ৬০ পয়সাতেই গত ২০ অক্টোবর থেকে লেনদেন হচ্ছে ডিবিএইচের শেয়ার।

তবে এই সর্বনিম্ন দামেও যে বিনিয়োগকারীরা খুব একটা আগ্রহী তা নয়। ২০ অক্টোবরের পর থেকে এক দিনই বলার মতো লেনদেন হয়েছে। গত ৪ জানুয়ারি ৪ লাখ ৭৭ হাজার ৪৫৯টি শেয়ার হাতবদল হয়। বাকি দিনগুলোতে লেনদেন হয়েছে খুবই কম। একদিন কেবল ৬টি শেয়ার হাতবদল হতেও দেখা গেছে। লভ্যাংশ ঘোষণার দিন হাতবদল হয় মাত্র ২০টি শেয়ার।

২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য কোম্পানির শেয়ারধারীরা ১৫ শতাংশ বোনাসের সঙ্গে শেয়ার প্রতি ২ টাকা অর্থাৎ ২০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ পেয়েছেন।

তার আগের বছর লভ্যাংশ হিসেবে শেয়ার প্রতি আড়াই টাকা নগদের পাশাপাশি দেয়া হয় ১০ শতাংশ অর্থাৎ প্রতি ১০টি শেয়ারে একটি বোনাস।

তার আগের দুই বছরে যথাক্রমে ৩ টাকা ও দেড় টাকা নগদ লভ্যাংশ পান বিনিয়োগকারীরা। ২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত অর্থবছরের শেয়ার প্রতি ৩ টাকা নগদ ও প্রতি ২০টি শেয়ারে একটি অর্থাৎ ৫ শতাংশ বোনাস শেয়ার দেয়া হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here