ডিএসসিসির ৬১১৯ কোটি টাকা বাজেট ঘোষণা

0
272
সংবাদ সম্মেলনে মেয়র তাপস

সিনিয়র রিপোর্টার : ঢাকাকে নিয়ে ছেলেখেলার আর কোনো সুযোগ না দেয়ার কঠোর ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। তিনি বলেছেন, আমরাই ঢাকার জলাবদ্ধতা দূর করব। পূর্ণ দায়িত্ব নিয়ে আমরাই জলাবদ্ধতা থেকে ঢাকাবাসীকে মুক্তি দিতে চাই।

বৃহস্পতিবার নগর ভবনে ডিএসসিসির ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণাকালে তিনি এসব কথা বলেন। চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরে ৬ হাজার ১১৯ কোটি ৫৯ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা করেন শেখ ফজলে নূর তাপস। যা গত অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় ২ দশমিক ৩৭ গুণ বেশি।

বাজেটে আয়ের খাত উল্লেখ করে মেয়র তাপস বলেন, নিজস্ব উৎস থেকে আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে হোল্ডিং ট্যাক্স বাবদ ৩৫০ কোটি, বাজার সালামী ১৬৫ কোটি, বাজার ভাড়া ৫০ কোটি, ট্রেড লাইসেন্স ফি বাবদ ১০০ কোটি, বিজ্ঞাপন কর ৫০ কোটি, বাস-ট্রাক টার্মিনাল থেকে ১০ কোটি, অস্থায়ী পশুর হাট ইজারা ১২ কোটি, টয়লেট, পার্কিং ও কাঁচাবাজার থেকে ৪৫ কোটি, রাস্তা খনন ফি ৪০ কোটি।

রিকশা লাইসেন্স ফি ২৪ কোটি, ইউটিলিটি সার্ভিস রাস্তা ব্যবহারের ফি ১২ কোটি, টোল জাতীয় কর ১২ কোটি, যন্ত্রপাতি ভাড়া ১০ কোটি, প্রাইভেট হাসপাতাল, প্যারামেডিকেল ইনস্টিটিউট, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ইত্যাদি নিবন্ধন ফি ১০ কোটি, প্রাথমিক বর্জ্য সেবা সংগ্রহকারী নিবন্ধন ও বাৎসরিক ফি ৯ কোটি, টিউটোরিয়াল স্কুল, কোচিং সেন্টার ইত্যাদি নিবন্ধন ফি ৫ কোটি, কমিউনিটি সেন্টার ভাড়া ৩ কোটি, সম্পত্তি হস্তান্তর কর খাতে ৬০ কোটি, ক্ষতিপূরণ (অক্ট্রয়) ৬ কোটি, ইমারত নির্মাণ ও পুনর্নির্মাণের জন্য আবেদনের ওপর কর ৫ কোটি, পেট্রোল পাম্প ২ কোটি ৮৯ লাখ এবং অন্যান্য ভাড়া বাবদ ২ কোটি টাকা।

এছাড়া সরকারি মঞ্জুরি হতে ৫০ কোটি ও সরকারি বিশেষ মঞ্জুরি বাবদ ১০০ কোটি, সরকারি ও বৈদেশিক সহায়তামূলক প্রকল্প খাতে ৪ হাজার ৭৬৬ কোটি ৫৭ লাখ টাকা পাওয়ার আশা করছি।

বাজেটে ব্যয়ের খাত তুলে ধরে তিনি বলেন, বেতন-ভাতা ২৬৪ কোটি, বিদ্যুৎ, জ্বালানি, পানি ও গ্যাস ৫০ কোটি, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ ২৪ কোটি, মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম (মনিটরিং ও সার্ভেইলেন্সসহ) বাবদ ৩৫ কোটি, মালামাল সরবরাহ বাবদ ২১ কোটি ৫৮ লাখ, রেটস ও কর খাতে ৪ কোটি ৪০ লাখ, কল্যাণমূলক ব্যয় ২০ কোটি, বিজ্ঞাপন ও প্রচারণা বাবদ ৩ কোটি ৫০ লাখ, ফিস বাবদ ২৪ কোটি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বিশেষ উদ্যোগ ৮ কোটি টাকা ব্যয় হবে।

উন্নয়ন ব্যয় তুলে ধরে তিনি বলেন, সড়ক ও ট্রাফিক অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়নে ১ হাজার ৭৪১ কোটি ৭৫ লাখ, নাগরিক বিনোদনমূলক সুবিধার উন্নয়নে ৮৪৭ কোটি, ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ, উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণে ৯১৭ কোটি ৫৭ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে।

এছাড়া সমন্বিত মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে ৩০০ কোটি, জলাবদ্ধতা দূরীকরণে ৩০০ কোটি, বুড়িগঙ্গা আদি চ্যানেল সংস্কারে ১৫০ কোটি, বুড়িগঙ্গার জমি অবমুক্তি, রাস্তা ও নান্দনিক পার্ক নির্মাণে ২৫০ কোটি, শিশুপার্ক রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়নে ৩০০ কোটি, খেলার মাঠ উন্নয়নে ২৮১ কোটি, আঞ্চলিক অফিস স্থাপন ও অন্যান্য স্থাপনার উন্নয়ন ও সৌন্দর্যবর্ধনে ২০২ কোটি, কমিউনিটি সেন্টার নির্মাণে ২৬০ কোটি, নতুন বাজার প্রতিষ্ঠায় ৩০০ কোটি, হাসপাতাল নির্মাণে ৪০ কোটি ৫০ লাখ, ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের জন্য ওয়ার্ড অফিস নির্মাণে ৫১ কোটি ৩০ লাখ টাকা।

রাজধানীর জলাবদ্ধতা নিরসনের বিষয়ে মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, কোনো সংস্থার বিরুদ্ধে আমাদের ব্যক্তিগত কোনো আক্রোশ নেই। কিন্তু আইন অনুযায়ী আমরাই ঢাকার জলাবদ্ধতা দূর করব। জলাবদ্ধতা নিরসনে ঢাকার ১০টি খাল সিটি করপোরেশনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। এরই মধ্যে ধানমন্ডি লেকে মাছ এবং হাঁস ছেড়েছি।

অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা ৩০ বছর মেয়াদি মহাপরিকল্পনা নিয়েছি। সরকারের কাছে আমাদের নিবেদন- ঢাকাকেন্দ্রিক অন্যান্য সংস্থা যদি কোনো প্রকল্প নেয় তারা যেন পুরো বিষয়টি আমাদের সঙ্গে সমন্বয় করেন। ঢাকাকে নিয়ে যে কোনো প্রকল্প আমাদের দেবেন আমরা তা যথাযথ পালন করব। ঢাকাকে নিয়ে আমরা আর ছেলেখেলা করতে দেব না।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে শেখ তাপস বলেন, আমি কোনো ঘটনার তদন্তে বিশ্বাসী নই। যখনই কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতি হবে তার সত্যতা পাওয়া গেলে সঙ্গে সঙ্গে অপসারণ করা হবে। আমি হায়ার এন্ড ফায়ারে বিশ্বাসী।

তিনি বলেন, মশক থেকে ঢাকাবাসীকে মুক্ত করতে পরিকল্পিতভাবে কাজ শুরু করেছি। জলাশয়ে হাঁস ও মাছ চাষ শুরু করেছি। আশা করি, এর মাধ্যমে ঢাকাবাসীকে ডেঙ্গু ও চিকোনগুনিয়া মুক্ত করতে পারব।

তিনি বলেন, বাজেটে কোনো কর বাড়ানো হয়নি। আমাদের আইনে থাকার পরেও যেসব খাত থেকে আগে কোনো রাজস্ব আয় হয়নি আমরা সেগুলোকে প্রয়োগ করেছি। এর মাধ্যমে রাজস্ব বাড়বে।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ঢাকার ধীরগতির যানবাহনের ঐতিহ্য রিকশাগুলোর নতুন করে নিবন্ধন দেব। তবে ব্যাটারিচালিত একটি রিকশাও নিবন্ধন দেব না। তিনি আরো বলেন, আমরা সাধারণ ওয়ার্ড ও সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ডের কাউন্সিলরদের বিভিন্ন দায়িত্ব দিচ্ছি। সিটি করপোরেশনের প্রত্যেকটি কর্মকা-ে তাদের সম্পৃক্ততা থাকবে। এটা আমি নিশ্চিতদ করতে চাই।

মেয়র আরো বলেন, বিভিন্ন সময় এলাকার বিভিন্ন কর্মকা-ে সাংসদদের একটা চাহিদা থাকে। আমরা এবারই প্রথম ডিএসসিসির সাংসদদের চাহিদা নিরূপণে দুই কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছি। আর ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের জন্য এক কোটি টাকার উন্নয়ন বরাদ্দ রেখেছি। পর্যায়ক্রমে আমরা এই বরাদ্দ বাড়াব।

চলতি বছর মশক নিধনে দক্ষিণ সিটি করপোরেশন অনেকাংশে সফল হয়েছে দাবি করে শেখ তাপস বলেন, দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে মশক নিয়ন্ত্রণে ব্যাপক কার্যক্রম হাতে নিয়েছি। আমি এখন বলতে পারি, আমরা অনেকাংশে সফল হয়েছি। এবছর ঢাকাবাসীকে ডেঙ্গু ও চিকোনগুনিয়া থেকে মুক্ত রাখতে পেরেছি। তারপরও মশা নিধনে নানা কর্মকা- চলছে।

কামরাঙ্গীরচরের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই চরটি একটা দ্বীপ। আমরা উন্নত বিশ্বের মতো এই দ্বীপটিকে সাজাতে পারি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here