‘ডিএসইএক্স সূচক ৭ হাজার পয়েন্টে’ কি যাবে?

0
1751

সিনিয়র রিপোর্টার : চলতি বছরের এপ্রিলে মার্জিন ঋণ নীতিমালা পরিবর্তন করে নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষ থেকে বাজারে একধরনের বার্তা দেওয়া হয়েছিল। সে সময় সূচকের সঙ্গে সমন্বয় করে ঋণসীমা নির্ধারণ করা হয়।

সেই বার্তা অনুযায়ী  ধারা অব্যাহত থাকলে ডিএসইএক্স সূচকটি ৭ হাজার পয়েন্টে যেতে খুব বেশি সময় লাগবে না বরে মনে করেন বাজার সংশ্লিষ্ট অনেকে।

তাদের অনেকে মনে করছেন, বাজারের প্রভাবশালী বিনিয়োগকারীদের অনেকে নিয়ন্ত্রক সংস্থার সেই বার্তা বুঝতে পেরেছিলেন। সেই অনুযায়ী বিনিয়োগ করেন। তাতে সূচক ও শেয়ারের দাম বেড়ে নতুন উচ্চতায় উঠেছে।

কি ছিল সেই বার্তা : গত ৪ এপ্রিল পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) শেয়ারবাজারের ঋণসংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করে। সেখানে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্সের ৭ হাজার পয়েন্ট পর্যন্ত ঋণের সীমা বাড়ানো হয়।

ডিএসইএক্স সূচকটি ৭ হাজার পয়েন্ট অতিক্রম না করা পর্যন্ত ঋণের সীমা নির্ধারণ করা হয় প্রতি ১০০ টাকার বিপরীতে ৮০ টাকা। আগে ঋণের সর্বোচ্চ এ সীমা ছিল প্রতি ১০০ টাকার বিপরীতে ৫০ টাকা।

বিএসইসির সর্বশেষ নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ডিএসইএক্স সূচক ৭ হাজার পয়েন্ট অতিক্রম করলে ঋণসীমা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কমে ১০০ টাকার বিপরীতে ৫০ টাকায় নেমে যাবে। বিএসইসি তাদের নির্দেশনায় ওই সময় বলেছিল, করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় ঋণসীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ঋণসীমা বাড়লে স্বাভাবিকভাবেই শেয়ারবাজারে লেনদেন বেড়ে যায়। কারণ, গ্রাহকের শেয়ার কেনার সক্ষমতা বাড়ে। এখন একজন গ্রাহকের নিজের এক লাখ টাকা বিনিয়োগ থাকলে তার বিপরীতে তিনি ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারছেন।

তাতে নিজের ১ লাখ ও ঋণের ৮০ হাজার মিলিয়ে একজন গ্রাহক মোট ১ লাখ ৮০ হাজার টাকার শেয়ার কিনতে পারছেন। এরপর ওই বিনিয়োগকারীর শেয়ারের দাম যত বাড়বে, তার ঋণ নেওয়ার সক্ষমতাও তত বাড়বে। এভাবেই ঊর্ধ্বমুখী বাজারে বড় বিনিয়োগকারীরা তাঁদের বিনিয়োগ বাড়িয়েছেন। পাশাপাশি ছিল কারসাজির ঘটনাও। তাতে তরতর করে বেড়েছে কিছু শেয়ারের দাম।

জানতে চাইলে পুঁজিবাজার বিশ্লেষক ও বেসরকারি ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বাণিজ্য অনুষদের অধ্যাপক মোহাম্মদ মুসা বলেন, এপ্রিলে সূচকের সঙ্গে সমন্বয় করে ঋণসীমা নির্ধারণের সময়ই নিয়ন্ত্রক সংস্থা একটি বার্তা বাজারে দিয়েছিল। যাঁরা বাজারের খেলোয়াড়, তাঁরা সেই বার্তা ভালোই বুঝতে পেরেছিলেন। তার প্রতিফলন আমরা সূচকে দেখতে পাচ্ছি। এ ধারা অব্যাহত থাকলে ডিএসইএক্স সূচকটি ৭ হাজার পয়েন্টে যেতে খুব বেশি সময় লাগবে না।

মোহাম্মদ মুসা আরও বলেন, গত কয়েক মাসে সূচক বেশ বাড়লেও ভালো মৌলভিত্তির অনেক শেয়ারের দাম এখনো অবমূল্যায়িত আছে। সেসব কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়তে থাকলে সূচকটি আরও তরতর করে বাড়বে।

গত ৪ এপ্রিল যেদিন নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষ থেকে ঋণসুবিধা বাড়ানো হয়েছিল, সেদিন ডিএসইর প্রধান সূচকটি ছিল ৫ হাজার পয়েন্টের অবস্থানে। বাজার মূলধন ছিল ৪ লাখ ৪৩ হাজার ৩৩৫ কোটি টাকার ঘরে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here