জিএসকের শেয়ার কিনবে ইউনিলিভারের সাবসিডিয়ারি

0
218

সিনিয়র রিপোর্টার : অধিগ্রহণ প্রস্তাব অনুসারে গ্ল্যাক্সোস্মিথক্লাইন (জিএসকে) বাংলাদেশ লিমিটেডের মূল কোম্পানি যুক্তরাজ্যের সেটফার্স্ট লিমিটেড তার কাছে থাকা কোম্পানিটির সব শেয়ার ইউলিভারের মূল কোম্পানি ইউনিলিভার এন.ভির কাছে বিক্রি করার কথা ছিল। কিন্তু সম্প্রতি অধিগ্রহণ প্রস্তাবে আংশিক পরিবর্তন আনা হয়েছে।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুসারে ইউনিলিভারের মূল কোম্পানির পরিবর্তে এর সাবসিডিয়ারি ইউনিলিভার ওভারসিজ হোল্ডিংস বি.ভি. সেটফার্স্টের সব শেয়ার কিনে নেবে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

গতকাল স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে কোম্পানিটি জানিয়েছে, জিএসকে বাংলাদেশের পর্ষদ ২২ মার্চ চিঠির মাধ্যমে জানতে পেরেছে যে ইউনিলিভার এন.ভি সেটফার্স্টকে জানিয়েছে, তারা ইউনিলিভার ওভারসিজ হোল্ডিং বি.ভিকে জিএসকে বাংলাদেশের শেয়ার কেনার জন্য মনোনীত করেছে। এর মানে হচ্ছে সেটফার্স্টের কাছে থাকা জিএসকের শেয়ার ইউনিলিভার এন.ভির পরিবর্তে ইউনিলিভার ওভারসিজ হোল্ডিং বি.ভি অধিগ্রহণ করবে।

সাম্প্রতিক পরিবর্তনের বিষয়ে জানতে চাইলে জিএসকে বাংলাদেশের হেড অব কমিউনিকেশন রুমানা আহমেদ বণিক বার্তাকে বলেন, এটি শেয়ারহোল্ডারদের বিষয়। তাই এ বিষয়ে আমাদের মন্তব্য করার কিংবা প্রকাশিত মূল্যসংবেদনশীল তথ্যের বাইরে অন্য কোনো তথ্য আমাদের কাছে নেই।

এর আগে ২০১৮ সালের ৩ ডিসেম্বর ইউনিলিভার ও জিএসকের পক্ষ থেকে জারি করা দুটি পৃথক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয় যে ভারত, বাংলাদেশ ও এশিয়ার অন্য ২০টি দেশের বাজারে জিএসকের চলমান কনজিউমার হেলথ ড্রিংকস ব্যবসা কিনে নিচ্ছে অ্যাংলো-ডাচ জায়ান্ট ইউনিলিভার। এজন্য ইউনিলিভারের ব্যয় হবে ৩৩০ কোটি ইউরোর সমপরিমাণ অর্থ, যা নগদ অর্থ ও শেয়ারের মাধ্যমে পরিশোধ করা হবে।

চুক্তি অনুসারে ইউনিলিভার ও জিএসকের এ অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া তিন ধাপে সম্পন্ন হবে। এর মধ্যে প্রথম ধাপে ভারতে হিন্দুস্তান ইউনিলিভার লিমিটেডের (এইচইউএল) সঙ্গে জিএসকে কনজিউমার হেলথকেয়ার ইন্ডিয়ার শতভাগ একীভূতকরণ হবে।

দ্বিতীয় ধাপে বাংলাদেশে তালিকাভুক্ত জিএসকে বাংলাদেশ লিমিটেডের ৮২ শতাংশ শেয়ার (সেটফার্স্টের মালিকানাধীন) কিনে নেবে ইউনিলিভার, যার ইকুইটি ভ্যালু দাঁড়ায় প্রায় ১৭ কোটি ইউরো। তৃতীয় ভাগে নগদ ৪৭ কোটি ডলার ব্যয়ে এশিয়ার অন্য ২০ দেশে জিএসকের হেলথ কেয়ার নিউট্রিশন ব্যবসা ও ব্র্যান্ডস্বত্ব কিনে নেবে ইউনিলিভার।

এরই মধ্যে প্রথম ধাপে ভারতে হিন্দুস্তান ইউনিলিভার ও জিএসকের অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এ বছরের ২৭ ফেব্রুয়ারি ন্যাশনাল কোম্পানি ল ট্রাইব্যুনালের (এনসিএলটি) চণ্ডীগড় বেঞ্চ জিএসকে ও হিন্দুস্তান ইউনিলিভারের একীভূতকরণ স্কিম অনুমোদন করেছে।

স্কিম অনুসারে জিএসকের একটি শেয়ারের বিপরীতে হিন্দুস্তান ইউনিলিভারের ৪ দশমিক ৩৯টি শেয়ার দেয়া হবে। হিন্দুস্তান ইউনিলিভার জিএসকের সঙ্গে একীভূতকরণের বিষয়টি নিশ্চিত করতে ১ এপ্রিল পর্ষদ সভা আহ্বান করেছে। আর সেদিন থেকেই ভারতে এই দুই বহুজাতিক কোম্পানির একীভূতকরণ কার্যকর হবে।

হিন্দুস্তান ইউনিলিভারের চেয়ারম্যান সঞ্জীব মেহতা জানান, একীভূতকরণের পর আগামী বছর থেকে কোম্পানিটির ব্যবসা ৪৫ হাজার কোটি রুপিতে দাঁড়াবে।

৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০১৯ হিসাব বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের ৫৩০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ প্রদানের সুপারিশ করেছে গ্ল্যাক্সোস্মিথক্লাইন (জিএসকে) বাংলাদেশ লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৮১ টাকা ৮৩ পয়সা, যেখানে আগের হিসাব বছরে শেয়ারপ্রতি লোকসান ছিল ৫২ টাকা ৭৫ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ১৩২ টাকা ১৪ পয়সা, আগের হিসাব বছর শেষে যা ছিল ১০৪ টাকা ১১ পয়সা।

সমাপ্ত হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন, ঘোষিত লভ্যাংশসহ অন্যান্য এজেন্ডা পর্যালোচনা ও অনুমোদনের জন্য আগামী ১৬ এপ্রিল বেলা ১১টায় হোটেল র্যাডিসন ব্লু চট্টগ্রাম বে ভিউতে কোম্পানিটির এজিএম আহ্বান করা হয়েছে।

আগের হিসাব বছরে শেয়ারপ্রতি লোকসান হলেও সদ্য সমাপ্ত হিসাব বছরে বড় অংকের ইপিএস দেখিয়েছে জিএসকে বাংলাদেশ। এর কারণ হিসেবে কোম্পানিটি জানিয়েছে, ২০১৮ সালে চট্টগ্রামের ওষুধ কারখানা বন্ধ ও কর্মীদের পেমেন্ট বাবদ তাদের অনেক বেশি অর্থ ব্যয় হয়েছিল। এ কারণে সে বছর কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছিল।

তবে ২০১৯ সালে কারখানা বন্ধের প্রভাব কমে যাওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যয় সংকোচনমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের কারণে প্রতিষ্ঠানটি গত হিসাব বছরে প্রত্যাশিত মাত্রায় মুনাফা করতে সক্ষম হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের ২৬ জুলাই জিএসকের পরিচালনা পর্ষদ বাংলাদেশে ওষুধ উৎপাদন বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়। ওই বছরের ১৪ অক্টোবর অনুষ্ঠিত বিশেষ সাধারণ সভায় (ইজিএম) শেয়ারহোল্ডাররা এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন। তবে ওষুধ উৎপাদন বন্ধ করলেও কোম্পানিটি এখন পর্যন্ত কনজিউমার পণ্যের ব্যবসা অব্যাহত রেখেছে।

জিএসকে বাংলাদেশ ১৯৭৬ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। এর অনুমোদিত মূলধন ২০ কোটি টাকা। বর্তমানে পরিশোধিত মূলধন ১২ কোটি ৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ১১৩ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। কোম্পানিটির মোট শেয়ারের ৮১ দশমিক ৯৮ শতাংশই রয়েছে উদ্যোক্তা-পরিচালক সেটফার্স্টের হাতে।

এছাড়া ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশসহ (আইসিবি) প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ১৫ দশমিক ৫৩, বিদেশী বিনিয়োগকারীদের কাছে দশমিক ৩৭ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ২ দশমিক ১২ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here