জরিমানার ১৫ কোটি টাকা দিতেই হবে মুন্নু অ্যাগ্রোকে

0
298

সিনিয়র রিপোর্টার : কারসাজির মাধ্যমে শেয়ারের দাম বাড়িয়ে বিক্রি করার অভিযোগের প্রমাণ পেয়ে মুন্নু ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনকে করা জরিমানার ১৫ কোটি পরিশোধ করতেই হচ্ছে। ২০১৯ সালে মুন্নু সিরামিক ও মুন্নু স্টাফলারের (বর্তমানে মুন্নু অ্যাগ্রো) শেয়ারের দাম বাড়িয়ে বিক্রি করে দেয়ার অভিযোগে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি এই জরিমানা করে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি।

এই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করে ফাউন্ডেশন। কিন্তু বিএসইসি সেই আবেদন নাকচ করে দিয়েছে।

সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র রেজাউল করিম বলেন, বিষয়টি যেহেতু তদন্তের বিষয়ে ছিল সেহেতু এটি ইনফোর্জমেন্ট বিভাগের। সেখান থেকে সবকিছু করা হয়েছে। তাদের জরিমানা করাসহ, জরিমানা মওকুফ না হওয়ার বিষয়টিও সেখানেই সিদ্ধান্ত হয়েছে।

মুন্নু সিরামিকের কোম্পানি সচিব নাসির উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমার কাছে তেমন কোনো তথ্য নেই। আমি খোঁজ নিয়ে জানাতে পারব।

যে সময় কোম্পানিটিকে বিএসইসি জরিমানা করেছিল, সে সময় তিনি বলেছিলেন, আমাদের মূল উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান হচ্ছে মুন্নু ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন, যেখানে মুন্নুর সিংহভাগ শেয়ার রয়েছে। সাত লাখ শেয়ার পাবলিক মার্কেটে বিক্রি করা হয়েছে। তবে পরবর্তীতে যে ২৮ লাখ শেয়ার বিক্রির ঘোষণা দেয়া হয়েছিল তার পুরোটি বিক্রি করা সম্ভব হয়নি। তবে আমরা যা করেছি বিএসইসিকে জানিয়ে করেছি।

বিএসইসি জরিমানার সিদ্ধান্ত নিলেও সেখানে কোনো অনিয়ম হয়নি বলে মনে করেন মুন্নুর কোম্পানি সচিব। বলেন, ২৮ লাখ শেয়ার ব্লক মার্কেটে বিক্রি করা হয়েছে। ফলে এখানে কারসাজি বা অন্যায়ের কী হয়েছে তা বোধগম্য নয়।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির উদ্যোক্তা-পরিচালকদের পক্ষ থেকে শেয়ার বিক্রির সিদ্ধান্ত থাকলে আগাম ঘোষণা থাকতে হয়। কিন্তু বিএসইসি ঘোষণা ছাড়া শেয়ার বিক্রির প্রমাণ পায়।

এ জন্য কোম্পানির করপোরেট উদ্যোক্তা মুন্নু ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন শেয়ার বিক্রির তথ্য পর্যালোচনা করে মুন্নু সিরামিক, ফাউন্ডেশন ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়। তারই অংশ হিসেবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে কমিশনের ৭৬১তম কমিশন সভায় কোম্পানিটিকে ১৫ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়।

বিএসইসি তদন্ত করে দেখতে পায় মুন্নু সিরামিকের শেয়ার কারসাজি করে ১১ গুণ বেশি দামে শেয়ার বিক্রি করেছে ফাউন্ডেশন। পরে এই বর্ধিত দামে কোম্পানির ১৩১ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করে মুন্নু ওয়েলয়েফার ফাউন্ডেশন।

মোট ৩৫ লাখ শেয়ার বিক্রি করা হয় সে সময় অভিহিত মূল্যে, যার দাম সাড়ে তিন কোটি টাকা। অর্থাৎ কোম্পানিটির লাভ হয়েছে ১২৮ কোটি টাকার মতো।

দাম বাড়ানোর আগে যদিও প্রতিটি শেয়ারের বাজারমূল্য ছিল ৪০ টাকার মতো। কিন্তু সেই শেয়ার বিক্রি করা হয় ৪০০ টাকারও বেশি দামে। এই হিসাব করা হলে কোম্পানির লাভ হয়েছে ১০০ কোটি টাকার কিছু বেশি।

নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির তদন্তে বের হয়ে এসেছে মূল্য সংবেদনশীল তথ্য গোপনে ফাঁস করে, হিসাব বাড়িয়ে দেখিয়ে কারসাজি করে মুন্নুর দুটি কোম্পানির শেয়ারের দাম অস্বাভাবিক বাড়ানো হয় সে সময়।

ওই বছরে ৪০ টাকার মুন্নু সিরামিকের দাম কারণ ছাড়াই বেড়ে হয় ৪৪১ টাকা। বর্তমানে কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেন হচ্ছে ১৫৯ টাকা ৯০ পয়সা।

দুই বছরের তদন্ত শেষে ফাউন্ডেশনকে ১০ কোটি টাকা আর মুন্নু সিরামিকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ সমস্ত পরিচালককে (স্বতন্ত্র পরিচালক বাদে) ১ কোটি টাকা করে জরিমানা করে বিএসইসি। অর্থাৎ মোট জরিমানা ১৫ কোটি টাকা।

বিএনপি নেত্রী আফরোজা খান রিতা এই কোম্পানিটির মালিক। তিনি বিএনপির সাবেক মন্ত্রী হারুনার রশীদ খান মুন্নুর মেয়ে।

সে সময় একই কোম্পানির মালিকানাধীন আরেক কোম্পানি মুন্নু স্টাফলার, যা পরিবর্তীতে হয় মুন্নু এগ্রো অ্যান্ড জেনারেল মেশিনারির দাম ৩৫০ টাকা থেকে বেড়ে সে সময় হয় পাঁচ হাজার ৮০০ টাকায়।

এই কোম্পানিটি পড়ে প্রতি দুটি শেয়ারের বিপরীতে তিনটি বোনাস শেয়ার দেয়। কিন্তু দর ধরে রাখতে পারেনি। এখন শেয়ারটির দাম ৭৭৫ টাকা ৫০ পয়সা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here