খুলনা পাওয়ার ‘শঙ্কা-সম্ভাবনার’ খোলসে

0
753

শাহীনুর ইসলাম : খুলনা পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের (কেপিসিএল) দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মেয়াদ ফুরিয়েছে চলতি বছরের মে মাসে। নতুন করে আবেদন করা হলে ‘বিশেষ শর্তে’ অনুমোদন পাবে বলে চলতি বছরের আগস্ট মাসে জানায় পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

তবে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় বা কোম্পানির পক্ষ থেকে কেউ সঠিক চিত্র উপস্থাপন করছে না। সম্ভাবনার খোলসে কী আশঙ্কা বা সম্ভাবনা ভর করছে তা সবাই অজ্ঞাত। সরকার এবং কোম্পানির পক্ষে-বিপক্ষের বক্তব্যে সঠিক চিত্র আড়াল হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পুঁজিবাজারের সাধারণ অনেক বিনিয়োগকারী।

কেপিসিএলের মূল ৩ টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে একটির মেয়াদ শেষ হয় ২০১৮ সালে এবং বাকি দুটির মেয়াদ শেষ হয়েছে মে মাসে। অর্থাৎ খানজাহান আলী পাওয়ার লিমিটেডের ৪০ মেগাওয়াট কেন্দ্রের মেয়াদ ৩১ মে ও খুলনা পাওয়ার কোম্পানির ইউনিট-টু –এর ১১৫ মেগাওয়াট কেন্দ্রের মেয়াদ শেষ হয়েছে ২৮ মে।

মূল তিনটি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হলেও কেপিসিএলের হাতে রয়েছে সহযোগী প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড পায়রা পাওয়ার প্ল্যান্ট। এই প্রকল্পের চলতি বছরের ১৮ জানুয়ারি থেকে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু হয়। এছাড়া, পটুয়াখালী জেলার খলিশাখালী এলাকায় ১৫ বছর মেয়াদি ১৫০ মেগাওয়াটের একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৩৫ শতাংশের মালিকানা রয়েছে খুলনা পাওয়ারের।

১৫৫ মেগাওয়াটের দুটি কেন্দ্রের মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়ায় অনেকটা সম্ভাবনার প্রদীপ নিভে যায়। তবে নতুন করে সেই প্রদীপে আলো জ্বলার বিশেষ সম্ভাবনা দেখা দিলেও ভেতরে কী ঘটছে তা নিয়ে কোনও পক্ষই মুখ খুলছে না।

জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের একটি পক্ষ  জানিয়েছে, খুলনা পাওয়ার প্ল্যান্টের স্থানে নতুন প্ল্যান্ট বসানোর অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছে। কিন্তু আবেদনটির কোনো অগ্রগতি এখনো হয়নি।

অপর একটি পক্ষ নাম প্রকাশ না করার অনুরোধে জানায়, কেপিসিএলের দুটি প্ল্যান্টের মেয়াদ আরও দুই বছর বাড়ানোর বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত আসা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সায় পাওয়ার পর তা পাঠানো হয় অ্যানার্জি রেগুলেটরি কমিশনে (বিইআরসি)। সেখান থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়ার পর তা পাঠানো হয় মন্ত্রণালয়ে। আর মন্ত্রণালয় তা চূড়ান্ত করে সরকারপ্রধানের দপ্তরে পাঠানো হলে অনুমোদন হয়।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘নো ইলেকট্রিসিটি নো পে’ ভিত্তিতে এটি অনুমোদনের বিষয়ে আগেই কথা হয়েছিল। অ্যানার্জি রেগুলেটরি কমিশনও এতে আপত্তি জানায়নি।

তবে কেপিসিএলের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা সোহরাব আলী খান বলেন, প্ল্যান্ট দুটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর এ বিষয়ে এখনও কোনো সরকারি নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। তবে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে প্ল্যান্ট দুটির মেয়াদ বাড়ছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে চিঠি চালাচালি হচ্ছে, জেনেছি। তবে আমাদের কাছে এ বিষয়ে কোনো নির্দেশনা আসেনি।

কিন্তু খুলনা পাওয়ার কোম্পানি কর্তৃপক্ষ ‘এটাকে সরকারের সদিচ্ছা’ বলে জানান। তারা মনে করেন, শিগগিরই নতুন আইনের বলে তারা অনুমোদন পাবেন। তবে এ মুহূর্তে সম্ভাবনার বিশেষ খোলসে ঢাকা রয়েছে ১৫৫ মেগাওয়াটের দুটি কেন্দ্রের অনুমোদন।

তবে মূল্যসংবেদনশীল তথ্য হওয়ায় এ বিষয়ে কথা বলতে নারাজ কেপিসিএল কোম্পানির সেক্রেটারি মোজাম্মেল হোসেন। তিনি ‘অপেক্ষা’ করার বিষয়টিকে বেশি জোর দিয়ে তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

এদিকে,  ২৮ অক্টোবর কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ ৩০ জুন ২০২১ সমাপ্ত অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। ২০১০ সালে তালিকাভুক্ত কোম্পানিটি ১১ বছরের ইতিহাসে সর্বনিম্ন লভ্যাংশ ঘোষণা করে। এবারে শুধুমাত্র সাধারণ বিনিয়োকারীদের জন্য ১২.২৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেয়া হবে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ওয়েবসাইটে শেয়ার ধারণের চিত্রে দেখা গেছে, চলতি বছরের আগস্ট মাসের তুলনায় সেপ্টেম্বর মাসে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের শেয়ার ধারণের পরিমাণ বেড়েছে। আগস্ট মাসে ছিল ৮.৭৪ শতাংশ এবং সেপ্টেম্বর মাসে তা বেড়ে হয়েছে ৯.৫৯ শতাংশ। অন্যদিকে উদ্যোক্তাদের শেয়ার না কমে ৬৯.৯৯ শতাংশ থাকলেও সাধারণ বিনিয়োগকারদের শেয়ার কমেছে।

আগস্ট মাসে সাধারণ বিনিয়োগকারদের শেয়ার ধারণের পরিমাণ ছিল ২১.০৬ এবং সেপ্টেম্বর মাসে তা কমে হয়েছে ২০.২৪ শতাংশ। অক্টোবর মাসের শেয়ার ধারণের চিত্র এখনো প্রকাশ করেনি ডিএসই কর্তৃপক্ষ। গত বৃহস্পতিবার কোম্পানির শেয়ারপ্রতি দর ছিল ৩৭.২০ টাকা। গত এক বছরের সর্বোচ্চ দর ছিল ৮ সেপ্টেম্বর ৫০.১০ টাকা।

তবে সম্ভাবনার খোলসে কী ভর করছে তা সবার অজানা। তাই সবার স্বার্থে কোম্পানির সঠিক তথ্য শিগগিরই প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন পুঁজিবাজারের অনেক বিনিয়োগকারী।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here