ক্যাটাগরি বদল হলেও যে কোম্পানির শেয়ার কিনতে ঋণ মিলবে না

0
450

সিনিয়র রিপোর্টার : ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) তালিকাভুক্ত কিছু কোম্পানি গত ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরে লভ্যাংশ ঘোষণার পর বেশ কয়েকটি কোম্পানির ক্যাটাগরি পাল্টাবে। তবে কিছু কোম্পানির ক্যাটাগরি বদল হলেও শেয়ার কিনতে ঋণ মিলবে না। অন্যদিকে পাঁচ কোম্পানির পিউ কমে আসায় ঋণ মিলবে বলে জানিয়েঝে ডিএসই।

এর মধ্যে ‘জেড’ থেকে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে উন্নীত হবে তমিজউদ্দিন টেক্সটাইল, মনোস্পুল পেপার ও পেপার প্রসেসিং। ‘বি’ ক্যাটাগরি থেকে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে উন্নীত হবে বেক্সিমকো লিমিটেড, বিকন ফার্মা, ভিএসএফ থ্রেড ও ম্যাকসন্স স্পিনিং মিলস। ‘এন’ ক্যাটাগরি থেকে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে এসেছে তওফিকা ফুডস।

কোনো কোম্পানি লভ্যাংশ না দিলে বা ওটিসি মার্কেট থেকে মূল মার্কেটে এলে সেটি ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে লেনদেন হয়। যেসব কোম্পানি ১ থেকে ৯ শতাংশ লভ্যাংশ দেয়, সেগুলো ‘বি’ ক্যাটাগরিতে, যেগুলো নতুন তালিকাভুক্ত হয়, সেগুলো ‘এন’ ক্যাটাগরিতে এবং যেগুলো কমপক্ষে ১০ শতাংশ লভ্যাংশ দেয়, সেগুলো ‘এ’ ক্যাটাগরিতে লেনদেন হয়।

বেক্সিমকো লিমিটেড ২০২০ সালের জুনে সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য ৫ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছিল। ২০২১ সালের জুনে সমাপ্ত অর্থবছরে দিয়েছে ৩৫ শতাংশ। বিকন ফার্মা আগের বছরে লভ্যাংশ দিয়েছিল ৬ শতাংশ, এবার দিয়েছে ১৫ শতাংশ।

ভিএসএফ থ্রেডও আগের বছর লভ্যাংশ দিয়েছিল ৬ শতাংশ, এবার দিয়েছে ১১ শতাংশ। ম্যাকসন্স স্পিনিং আগের বছর লভ্যাংশ দিয়েছিল ২ শতাংশ, এবার দিয়েছে ১০ শতাংশ। ফলে চারটি কোম্পানি ‘বি’ থেকে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে উন্নীত হবে।

অন্যদিকে তওফিকা ফুডস তালিকাভুক্ত হওয়ার পর এবার প্রথমবারের মতো লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। ১১ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করায় এটিও ‘এন’ থেকে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে উন্নীত হবে।

ক্যাটাগরি পাল্টালেও ঋণ পাবে না

আরও বেশ কিছু কোম্পানির ক্যাটাগরি পাল্টেছে। আলহাজ্ব টেক্সটাইল ১ শতাংশ লভ্যাংশ দেয়ায় ‘জেড’ থেকে ‘বি’ ক্যাটাগরিতে উঠে আসবে। ওটিসি ফেরত তমিজউদ্দিন টেক্সটাইলে ২০ শতাংশ লভ্যাংশ দেয়ায় ‘জেড’ থেকে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে উঠে আসবে।

অন্যদিকে পেপার প্রসেসিং ও মনোস্পুল পেপার ১০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করায় সেগুলোও ‘এ’ ক্যাটাগরিতে উন্নীত হবে। তবে এগুলো মার্জিন ঋণ পাবে না তার মূল্য আয় অনুপাত বা পিই রেশিও বেশি থাকার কারণে।

সবশেষ প্রান্তিক প্রতিবেদন অনুযায়ী আলহাজ্ব টেক্সটাইলের পিই রেশিও ৫৮৫, তমিজউদ্দিন টেক্সটাইলের পিই রেশিও ৫৩ দশমিক ৯৭, মনোস্পুল পেপারের পিই রেশিও ১৫৭ দশমিক ৬৭ এবং পেপার প্রসেসিংয়ের ৬১ দশমিক শূন্য ৪। এর ফলে এর কোনোটিই ঋণ পাওয়ার যোগ্য হবে না।

কোম্পানির শেয়ারদরকে এর আয় দিয়ে ভাগ করলে পিই রেশিও পাওয়া যায়। প্রতি তিন মাস পর পর প্রান্তিক হিসাব প্রকাশ করা হয়। সেটিকে পুরো বছরের আয়ে রূপান্তর করে তা দিয়ে শেয়ারমূল্যকে ভাগ করলে এই রেশিও পাওয়া যায়।

যেমন পেপার প্রসেসিং প্রথম প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি আয় করেছে ৭৯ পয়সা। এই হিসাবে আয় করলে চার প্রান্তিকে আয় দাঁড়ায় ৩ টাকা ১৬ পয়সা। কোম্পানিটির শেয়ারদর বর্তমানে ১৯২ টাকা ৯০ পয়সা। একে ৩ টাকা ১৬ পয়সা দিয়ে ভাগ করলে পিই রেশিও বের হয় ৬১ দশমিক শূন্য ৪।

যে কারণে পাঁচ কোম্পানি ঋণ পাবে

চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে বেক্সিমকো শেয়ারপ্রতি আয় দেখিয়েছে ৪ টাকা ১১ পয়সা। কোম্পানিটির শেয়ারদর এখন ১৪৮ টাকা ১০ পয়সা। এই হিসাবে পিই রেশিও ৯ দশমিক শূন্য ১।

তওফিকা ফুডস প্রথম প্রান্তিকে আয় দেখিয়েছে ৪০ পয়সা। কোম্পানির শেয়ারদর এখন ৩৩ টাকা ৫০ পয়সা। এই হিসাবে পিই রেশিও ২০ দশমিক ৯৪। ভিএসএফ থ্রেড প্রথম প্রান্তিকে আয় দেখিয়েছে ৪০ পয়সা। কোম্পানির শেয়ারদর এখন ২০ টাকা। এই হিসাবে পিই রেশিও এখন ১২ দশমিক ৫।

ম্যাকসন্স স্পিনিং মিলস চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি আয় দেখিয়েছে ৭৫ পয়সা। শেয়ারদর এখন ২৩ টাকা ৫০ পয়সা। এই হিসাবে পিই রেশিও এখন ৭ দশমিক ৮৩।

বিকন ফার্মা প্রথম প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি আয় করেছে ১ টাকা ৫২ পয়সা। শেয়ারদর এখন ২৩৫ টাকা ২০ পয়সা। এই হিসাবে পিই রেশিও এখন ৩৮ দশমিক ৬৮ পয়েন্ট। অর্থাৎ বিকন ফার্মার শেয়ারদর আরেকটু বাড়লেই, সুনির্দিষ্টভাবে ২৪৩ টাকা ২০ পয়সা হলেই এই কোম্পানি আর মার্জিন ঋণ পাবে না, যদি না দ্বিতীয় প্রান্তিকে তাদের আয়ে উল্লম্ফন না হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here