কাঁচামালের অভাবে উৎপাদন আপাতত বন্ধ

0
244

স্টাফ রিপোর্টার : কাঁচামাল সংকটের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় উৎপাদন কার্যক্রম আপাতত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি আজিজ পাইপস লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ। সে অনুযায়ী গত রোববার থেকেই কোম্পানিটির উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। গতকাল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মাধ্যমে কোম্পানিটি শেয়ারহোল্ডারদের এ তথ্য জানিয়েছে।

আজিজ পাইপস বলেছে, কভিড-১৯ পরিস্থিতিতে সরবরাহকারীরা পাইপ তৈরির প্রধান কাঁচামাল পিভিসি রেসিন সরবরাহ করতে পারছে না। এদিকে কোম্পানির পিভিসি রেসিনের মজুদও শেষ হয়েছে। ফলে কাঁচামালের অভাবে উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

এদিকে কোম্পানি যে স্থানীয় বাজার থেকে পিভিসি রেসিন সংগ্রহ করে উৎপাদন চালু রাখবে তাও সম্ভব নয়। কারণ কাঁচামালটির মূল্য স্থানীয় বাজারে অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। ফলে সেগুলো ব্যবহার করলে উৎপাদন খরচ পাইপের বর্তমান বাজারদরের চেয়ে অনেক বেড়ে যাবে। আর এ বর্ধিত দামে পাইপ বাজারজাত করতে গিয়ে কোম্পানিকে বেশ বিপাকে পড়তে হবে।

এমতাবস্থায় সার্বিক পরিস্থিতিতে উৎপাদন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তকেই শ্রেয় বলে মনে করছে আজিজ পাইপসের পরিচালনা পর্ষদ। পিভিসি রেসিন সরবরাহ আবার স্বাভাবিক হলে এবং করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হলে কোম্পানিটি আবার উৎপাদন শুরু করবে বলে জানানো হয়েছে।

চলতি হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) আজিজ পাইপসের শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৭ পয়সা, যেখানে আগের হিসাব বছরের একই সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ছিল ২২ পয়সা। ৩০ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারপ্রতি নিট দায় দাঁড়িয়েছে ১৪ টাকা ২৮ পয়সা।

৩০ জুন সমাপ্ত ২০২০ হিসাব বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের ১ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে আজিজ পাইপস। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ২৬ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৯১ পয়সা। ৩০ জুন প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারপ্রতি নিট দায় দাঁড়ায় ১৪ টাকা ২২ পয়সা, আগের হিসাব বছর শেষে যা ছিল ১৩ টাকা ৮৩ পয়সা।

২০১৯ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাব বছরে শেয়ারহোল্ডারদের ৭ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল আজিজ পাইপস। ২০১৮ হিসাব বছরে ৫ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দিয়েছিল তারা। ২০১৭ হিসাব বছরেও একই হারে স্টক লভ্যাংশ পেয়েছিলেন কোম্পানিটির শেয়ারহোল্ডাররা।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গতকাল আজিজ পাইপস শেয়ারের সর্বশেষ ও সমাপনী দর ছিল ৯৭ টাকা ৫০ পয়সা। এদিন ৫৪ বারে কোম্পানিটির মোট ১৭ হাজার ৩৮১টি শেয়ার হাতবদল হয়েছে। গত এক বছরে শেয়ারটির সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ দর ছিল যথাক্রমে ৮০ টাকা ও ১৪৫ টাকা।

১৯৮৬ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আজিজ পাইপসের অনুমোদিত মূলধন ৫০ কোটি টাকা। বর্তমানে পরিশোধিত মূলধন ৫ কোটি ৩৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা। পুঞ্জীভূত লোকসান ২৩ কোটি ৬২ লাখ টাকা।

কোম্পানির মোট ৫৩ লাখ ৪৭ হাজার ১২৫টি শেয়ারের মধ্যে ৩৩ দশমিক ৮৩ শতাংশ উদ্যোক্তা-পরিচালক, ৪ দশমিক ৭২ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ও বাকি ৬১ দশমিক ৪৫ শতাংশ সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে।

সর্বশেষ নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন ও বাজারদরের ভিত্তিতে এ শেয়ারের মূল্য-আয় অনুপাত বা পিই রেশিও ৩৭৫।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here